মোল্লাতন্ত্র নির্মূল হোক নতুন বছরেই

আলী আদনান:

এক.
সময় অনেক কিছু ঠিক করে দেয়। ভারত উপমহাদেশের মানচিত্র এরকম ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে, ইংরেজ আমলে কয়জনই বা ভেবেছিল? ভাবেনি। কিন্তু ভেঙ্গেছে। এই সাধের পাকিস্তান পেয়ারের পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবে, সেটাও কী ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কেউ কল্পনা করেছিল? করেনি। কিন্তু সেটাই হয়েছে।

৭৫- পরবর্তী রাজনীতিতে কয়জন ভেবেছিল, আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে? বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার হবে, আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক মিশনে একের পর এক সফলতার পরিচয় দিবে- এটা অনেক বিজ্ঞ আওয়ামী লীগারও ভাবতে পারে নি। কিন্তু কী হল আর হচ্ছে তা আপনি- আমি দু’জনেই দেখতে পাচ্ছি।

এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে তা ২০০৫-০৬ সালের দিকেও কেউ কল্পনা করেনি। এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরও অনেকে হাসাহাসি করতেন। সাকা- নিজামীদের গলায় দড়ি লাগতে পারে, এটা অনেকে বিশ্বাসই করতে চাইতো না। কিন্তু এই যুদ্ধাপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছে, এখন তাদের দাপট কোথায়, তা বিশ্ববাসী দেখছে!

আমার এখনও খেয়াল আছে, ২০১০ সালে চট্টগ্রামে একটি বইমেলায় পাঠক প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে আমি লিখেছিলাম, “যে দেশে যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী হয়, রাজাকাররা বুক ফুলিয়ে বেড়ায়, সেখানে সকল আয়োজন অর্থহীন।” মেলা আয়োজক কমিটির বেশ কয়েকজন আমার উপর বিরক্ত হয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল বইমেলা’র সাথে আমি রাজনীতি জড়াচ্ছি কেন? আমি বলেছিলাম, আমরা কেউই রাজনীতির বাইরে নই। যে বইমেলায় জামাতি পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত প্রকাশনাগুলো বই নিয়ে বসে, সেখানে বইমেলার কোন সার্থকতা থাকতে পারে না।

আরেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে। স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি তালিকায় আমিও ছিলাম। বক্তৃতায় আমি বলেছিলাম, ৭১ এ যেমন তরুণরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তেমনি এখনও তরুণরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। মঞ্চেই একজন রাজাকার শাবক উপস্থিত ছিলেন। যিনি স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকতা করতেন। আমরা চলে আসার পর শাবকটি আয়োজক সংগঠনের সভাপতির কাছে আমার বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য ছিল সামাজিক সংগঠনে আমি রাজনীতি নিয়ে আসছি কেন! আমার যুক্তি হলো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি বা মুক্তিযুদ্ধের অমীমাংসিত দাবিগুলো নিয়ে কথা বলা শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সকল সচেতন নাগরিকদের দায়িত্ব। তরুণদের কানে এ দাবির পক্ষে মন্ত্র আমাদেরকেই পড়তে হবে। এতে কে খুশী হলো, কে রাগ করলো, কিছু যায় আসে না।

একই সময়ে সীতাকুণ্ডের জাফরনগর স্কুলে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তরুনদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম, “আপনারা কোন রাজাকার সমর্থকের সাথে হ্যান্ডশেক করবেন না। আত্মীয়তা করবেন না৷ বন্ধুত্ব করবেন না। তেল-পানি যেমন এক হয় না, ওরা আর আমরাও এক হওয়া সম্ভব নয়। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে।” যতো সহজে লিখছি, তখন বলার সময়ে পরিস্থিতি অত সহজ ছিল না৷ কিন্তু আমরা তো অবাধ্য তারুণ্যকে সঙ্গী করেছি। কোন রক্তচক্ষুর দিকে তাকানোর সুযোগ কই?

আশ্চর্য হয়েছিলাম ২০১৩ সালে। আমি বা আমরা একসময় নিজেদের একা ভাবতাম। ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চ শুরু হলে বুঝেছিলাম, আমি বা আমরা যেমন গ্রামে বা মফস্বলে হেঁটে হেঁটে রাজাকার শাবকদের বিরোধিতা করেছি, এরকম আমার মতো হাজার হাজার তরুণ সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। সেই তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ২০১৩ সালের সফল আন্দোলন ‘গণজাগরণ মঞ্চ’। যার ফলশ্রুতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কুখ্যাত সাকা- নিজামী- মুজাহিদ- কাদের মোল্লা- কামরুজ্জামান- মীর কাশেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

এতো কথা এজন্য বলছি, বিক্ষিপ্ত তরুণরা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তখন তাদের কেউ ঠেকাতে পারেনি। তখন সেটা কোন রাজনৈতিক দলের দাবি ছিল না। সেটা হয়ে উঠেছিল সাধারণ গণমানুষের দাবি। ২০১১-১২ সালে যেটা মানুষ ভাবতে পারেনি, ভাবেনি, মাত্র বছরখানেকের ব্যবধানে সেটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৯৭১ সালে যেমন ওরা হেরেছে, ৭১ পরবর্তী নানা সময়েও ওরা আমাদের কাছে হেরেছে। আড়ালে ঘাপটি মেরে থেকে আক্রমণে হয়তো ওরা সফল। কিন্তু মাঠের মুখোমুখি রাজনীতিতে ওরা পারেনি, পারবেও না, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি।

মুক্তিযুদ্ধের আকাংখিত বাংলাদেশ হওয়ার কথা ছিল বৈষম্যমুক্ত। কোন প্রকার বৈষম্য এ ভূখণ্ডে থাকবে না, এটাই প্রত্যাশিত ছিল। আমরা তা পাইনি। কেমন বৈষম্য? নানা ধরনের বৈষম্য। রাজনৈতিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য, ধর্মীয় বৈষম্য, লৈঙ্গিক বৈষম্য। এগুলো একটি অপরটির সাথে নানাভাবে জড়িত।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়- এমন দাবিতে অনেকে অটুট। কেউ কেউ হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলছেন, এখানে এতোটাই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে ও ‘মৌলবাদ’ এখানে এতো জনপ্রিয় পণ্য যে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন এখানে সম্ভব নয়। আমি তাদের সাথে একমত নই। আমি বলি, যে বাংলাদেশে সাকা- মুজাহিদ- নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হতে পারে, সে বাংলাদেশে সব সম্ভব। যে বাংলাদেশে রাজকার শিরোমনি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেইল্লা রাজাকারকে কারগারে বন্দী রাখতে পারে, সে বাংলাদেশে সবই সম্ভব। যে বাংলাদেশে গোলাম আজমের লাশে স্যান্ডেল নিক্ষিপ্ত হতে পারে, সেই বাংলাদেশে ৭১ এর চেতনার ধারক তরুণরা ঠিকই আরেকটা বিপ্লব করতে সক্ষম। এ তারুণ্য অপ্রতিরোধ্য।

আমি আশাবাদী। আমি আত্মবিশ্বাসী। প্রয়োজন ঐক্য, প্রয়োজন প্রচেষ্টা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেমন কার্যকর হয়েছে, তেমনি ‘রাষ্ট্রধর্ম’ বাতিল হবে। আজ না হলেও কখনো না কখনো এমন সময় অনুকূলে আসবেই। সেটা একবছর পরও হতে পারে, পাঁচ বছর পরও হতে পারে। নতুন যে বছরে আমরা প্রবেশ করছি, এই বছরেই হোক সেটাই প্রত্যাশা। আজকে হয়তো এটা কঠিন দাবি। তবে এটাই যে একসময় জনপ্রিয় আওয়াজ হবে তা আমি নিশ্চিত।

দুই.
মুক্তিযুদ্ধের আকাংখিত বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পঞ্চাশবছর পরও অমীমাংসিত দাবি নিয়ে অতৃপ্ত আত্মার তাড়নায় ছুটে চলছে অসংখ্য তরুন। এদের কেউ রাজনৈতিক কর্মী। কেউ লেখক, সাংবাদিক, তরুন চিন্তাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাহিত্যিক, পেশাজীবী। নানান শ্রেণীপেশার মানুষ। আমরা চাই, রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের অমীমাংসিত দাবি বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে।

কেউ কারো ব্যক্তিজীবনে নাক গলাতে পারবে না৷ এটার ব্যাখ্যা বিশাল। কেউ এমন কোন আচরণ করতে পারবে না যাতে করে অন্যরা বিব্রত হয়, অস্বস্তিতে পড়ে। যদি না সে অন্যকারো ক্ষতি করে৷ আমি কারো ব্যক্তিজীবনে নাক গলাই না। আমার জীবনেও কেউ অনাকাংখিত ভাবে নাক গলানোর অধিকার রাখে না। কেন সমাজের দোহাই দিয়ে, ধর্মের দোহাই আমাদের চিন্তার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে? প্রযুক্তির অপব্যবহারে এগুলো ভয়াবহ বেড়েছে। সবকিছু নিয়েই মানুষ অন্যের ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যতিব্যস্ত করছে।

কে আস্তিক, কে নাস্তিক, কে গরুর মাংস খায় আর কে শূকরের মাংস খায়, কে কোথায় বান্ধবীর সাথে ( পারষ্পরিক সম্মতি থাকলে) কীভাবে রাত কাটায় তাতে সমাজ ও ধর্মের দোহাই দিয়ে নাক গলানো চলবে না। কে ওয়েস্টার্ন পড়ে আর কে শাড়ী পড়ে, কে ইতোমধ্যে কয়েকবার জীবন সঙ্গী গ্রহণ করেছে আর কে এখনো অধিক বয়স সত্ত্বেও একবারও জীবনসঙ্গী গ্রহণ করেনি বা কে আজীবন একা আছেন- এসব একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। এমন বিষয়ে সমালোচনা, বিদ্রুপ করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা যাবে না৷

এদেশ সবার। এখানে নামাজ পড়ার অধিকার যেমন আছে পূজা করার অধিকারও আছে। মসজিদ বানানো গেলে মন্দিরও বানানো যাবে। কে নামাজ পড়ে আর কে পড়েনা, কে পর্দা করে আর কে করেনা, কে পাথর পূজা করে আর কে সূর্যের উপাসনা করে- এসব একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। এসব নিয়ে কাউকে আঘাত করা, বিদ্রুপ করা যাবে না।

ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে সহজ সরল মানুষদের জিম্মি করে ফায়দা লোটা ভয়াবহ অপরাধ। কেউ যদি রাজনীতি করতে চায় তাকে সরাসরি রাজনীতির মাঠে এসে রাজনীতি করতে হবে। ধর্মের নামে সমাবেশ ( ওয়াজ মাহফিল) করে সেখানে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা যাবে না। অন্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উপহাস করা যাবে না।

সময় পাল্টাবে। মোল্লাবাদের গোড়ায় কুঠারের আঘাত পড়বেই। আজ যে শিশুর জন্ম হলো পনের বছর পর তারও একটি সোচ্চার কণ্ঠ থাকবে। আপনার কণ্ঠের সাথে তার কণ্ঠ নাও মিলতে পারে। আজ যে দশ বছরের নিতান্তই বালক আগামী দশ বছর পর রাজপথ তার দখলে থাকবে। সে যদি একটি অন্যরকম বাংলাদেশ চায়? চাইবেই! দেশটা তারও। তারাই গড়বে অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদমুক্ত, বিজ্ঞান নির্ভর সমৃদ্ধ জাতি।

তিন.
একটি রাষ্ট্রকে যখন সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা থেকে ধীরে ধীরে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন সে জাতির উপর ভর করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, ধর্মীয় উগ্রতা ও নৈরাজ্যবাদিতা। এদেশেও ঠিক তাই হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব ও আধিপত্যবাদের রাহু তো আছেই।

ধর্মের দোহাই দিয়ে একের পর এক দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যে আঘাত হানার যে কৌশল চলছে, তা বন্ধ করার জন্য তরুণদের সংগঠিত না হয়ে আর কোন উপায় নেই৷ সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যে রবীন্দ্রনাথ চর্চা করে, সে কখনো মৌলবাদী হবে না। যে লালন বুঝে, সে কখনো সাম্প্রদায়িক হয় না। যে বেগম রোকেয়া পড়েছে, হুমায়ুন আজাদ পড়েছে, সে কখনও লৈঙ্গিক বৈষম্য প্রশ্রয় দিবে না। একসময় গ্রামে গ্রামে যাত্রাপালা হতো। জারি সারি গান হতো। কবিগানের প্রচলন হারিয়ে গেছে। এসবের চর্চার বিকল্প নেই। সব মায়ের দায়িত্ব ছোটবেলায় সন্তানের হাতে বইয়ের পাশাপাশি হারমোনিয়াম, তবলার ন্যুনতম চর্চা করানো। ছবি আঁকতে উৎসাহী করা। পাড়ায় পাড়ায় নাটক মঞ্চস্থ করার যে ঐতিহ্য আমাদের ছিল, তার জাগরণ আবার ঘটানো উচিত। গ্রামবাংলার মানুষ এখন নৌকা বাইচ ভুলে গেছে। এর চর্চা করানো উচিত। এসব চর্চা অব্যাহত থাকলে মোল্লারা তাদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবে না।

গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন দিবস ও ঋতুভিত্তিক উৎসবগুলো পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। বৈশাখী মেলা, বর্ষা উৎসব, শরৎ উৎসব, নবান্ন উৎসব, পৌষ পার্বন, পিঠা উৎসব, বারোমাসী ফল উৎসব, বসন্ত উৎসব, স্বাধীনতা মেলা, বিজয় মেলা, প্রভাতফেরি, বই মেলা, কবিতা উৎসব- এসবের চর্চা যতো বেশি ঘটানো যায় ততোই ভাল। তরুণরা এসব নিয়ে ব্যস্ত থাকলে শুধু মৌলবাদিতা বা সাম্প্রদায়িকতা রোধ পাবে তাই নয়, বরং নানা ধরনের কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, এসবও বন্ধ হবে।

আলী আদনান

গত দশকেও সাহিত্য পত্রিকা, লিটল ম্যাগাজিনের বেশ চর্চা ছিল৷ কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের দাপটে এখন সেই চর্চা হ্রাস পাচ্ছে দ্রুতগতিতে৷ এই চর্চা চিন্তার পথ বিকশিত করে। প্রশ্ন করার পাশাপাশি সমালোচনায় দক্ষ করে তোলে। বিনা যুক্তিতে কোন কিছু মেনে নেওয়ার যে প্রবণতা, তা তখনই বন্ধ হবে, যখন তরুণরা প্রশ্ন করতে পারবে। যুক্তিতর্কের ধাক্কাধাক্কিতে অন্ধত্ব ও কুসংস্কার নির্মূল হবে। ফলে ধর্মকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লোটা বন্ধ হবে।

মানুষের জীবনে বিনোদন নেই। মানুষের জীবনে আনন্দ নেই। নানা ধরনের হতাশা ও অস্থিরতায় চেপে বসছে মানুষের কাঁধে। মানুষ সামান্য স্বস্তির জন্য ছুটছে মিথ্যা, বানোয়াট কল্পকাহিনীতে ভরপুর ওয়াজ মাহফিলে। মানুষকে আমরা কীভাবে দোষ দিব? আমরা তো বিকল্প কিছু দিতে পারছি না। ষাট, সত্তর, আশির দশকে গ্রামে গ্রামে প্রচুর ক্লাব ছিল। নব্বইয়ের দশকেও প্রতিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রচলন ছিল। বিভিন্ন সংগঠন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতো। এখন সেসব নেই বললেই চলে। শ্রান্ত, ক্লান্ত মানুষ দিনশেষে আশ্রয় নেয় তারেক মনোয়ার, আমীর হামজা, রফিকুল্লাহ আফসারী, কুয়াকাটা, চরমোনাই, তাহেরী, এনায়েতউল্লাহ আব্বাসী, আলাউদ্দিন জেহাদীদের প্যান্ডেলের নিচে। যেখানে সারাবিশ্বের তরুণরা গবেষণায়, উদ্ভাবনে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের তরুণরা হুজুরের প্রতিটা কথায় চিৎকার করে ‘ঠিক’ বলা অভ্যাস করছে। অন্যান্য দেশের মানুষ যখন মঙ্গলে বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা করছে, আমরা তখন চাঁদে মানুষের মাথা দেখি!

ঘড়ির কাঁটা ঘুরে, ঘুরছে। যেভাবে ওরা অতীতে হেরেছে, ভবিষ্যতেও হারবে। ওরা ১৯৭১- এ হেরেছে, ওরা ২০১৩ সালে হেরেছে। ওরা ভবিষ্যতেও হারবে। মুক্তিযুদ্ধের আকাংখিত যে বাংলাদেশ, তা প্রতিষ্ঠা পাবে শীঘ্রই। নতুন বছরেই তার ভিত্তি স্থাপিত হবে তরুণদের হাত ধরে, সেটাই প্রত্যাশা।

(লেখক: আলী আদনান, লেখক, সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট।
মেইলঃ [email protected])

শেয়ার করুন:
  • 449
  •  
  •  
  •  
  •  
    449
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.