ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ১৮তম বার্ষিকী পালিত

yasmin rapeউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: বহুল আলোচিত দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ১৮তম বার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে মহিলা পরিষদসহ নারীবাদী সংগঠনগুলো নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আন্তরিক হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য পুলিশ, আদালত ও সচেতন মানুষদের আহ্বান জানিয়েছে।

নারীবাদী সংগঠনগুলো দিবসটিকে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার আঠারোতম বার্ষিকীতে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিন করে বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন।

এ সময় শহরের নিমনগর বালুবাড়ি এলাকার শহীদ জাহাঙ্গীর কবরস্থানে ইয়াসমিনের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উদীচী বেসরকারি সংস্থা মহিলা বহুমুখী সমিতি, পল্লীশ্রী কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিডিএ), এসসিডিএল ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন।

আজ থেকে ঠিক আঠারো বছর আগে ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পুলিশ কর্তৃক নির্মন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় ১৩ বছরের শিশু ইয়াসমিন।

ইয়াসমিনের দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকাযর বাসিন্দা শরিফা বেগমের সন্তান। সংসারের অভাবের কারণে সে ঢাকায় গৃহপরিচারিকার কাজ করত। গৃহকর্তারা ছুটি না দেওয়ায় সে দীর্ঘদিন বাড়িতে যেতে না পারায় ছুটি পেয়েই ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশে রওয়ানা দেয় সে। কিন্তু সেদিন দিনাজপুরগামী কোনো বাসের টিকিট পায়নি সে। পরে ইয়াসমিন ঠাকুরগাঁওগামী রাত্রিকালীন ‘হাছনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি বাসে রওয়ানা হয়।

২৪ আগস্ট ভোরবেলা বাসটির চালক এবং তত্ত্বাবধায়ক দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামিয়ে দিয়ে দিনাজপুরগামী কোন বাসে উঠিয়ে দিতে স্থানীয় এক পান দোকানদারকে অনুরোধ করে চলে যায়।

পরে স্থানিয় পুলিশের টহল দল সেখানে গিয়ে কিশোরী ইয়াসমিনকে শহরের রামনগরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেয়। কিন্তু পথে পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ শেষে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ওই সময় ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষ ফুঁসে ওঠে কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে। সে সময় পুলিশ ঘেরাওকারী জনতার ওপরে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করলে সামু, কাদের, সিরাজসহ সাতজন প্রাণ হারান।

ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের তিন সদস্যের ফাঁসি কার্যকর হলেও আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অপরাধে তৎকালীন ডিসি, এসপি, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা এখনও দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন।

তদবিরের অভাবে মামলা দুটির বিচারকাজ থেমে আছে বলে তিনি জানান ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম বাদী আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম সরকার।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.