রাসায়নিক অস্ত্রের প্রমাণ খুঁজতে জাতিসংঘ দূত দামেস্কে

UN in Syriaউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের প্রমাণ চাইতে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেলা কেইন এখন দামেস্কে। যে জায়গায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেখানে তদন্তকারীদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য সিরিয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই তার এই সফর বলে জানা গেছে।

বুধবার দামেস্কের পূর্বাঞ্চলীয় একটি উপশহরে রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালানো হয়েছে বলে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য দেশটির সরকারি বাহিনীকে অভিযুক্ত করে। তবে সিরিয় সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শনিবার বলেছে, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলেই রাসায়নিক অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সিরিয়ার সাথে একই সুরে কথা বলছে মিত্র দেশ রাশিয়াও। রাশিয়াও সন্দেহের আঙ্গুল বিদ্রোহীদের দিকেই তুলেছে। এ অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক ও বানোয়াট’ বলে বর্ণনা করেছে সরকার।

অস্ত্র পরিদর্শকরা এই মূহূর্তে সিরিয়ায় রয়েছেন, তবে বলা হচ্ছে তাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের এবং তদন্ত করার অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সিরীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে তারা যেন জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে যেতে দেয়।

টেলিভিশনে আরো বলা হয়েছে জোবার এলাকায় বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গে কিছু সৈন্য ঢোকার পর তাদের দমবন্ধ হওয়ার অবস্থা হয়েছিল।

এদিকে সিরীয় বাহিনীর হামলায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের এই অভিযোগ নিয়ে সিরীয় সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

সিরিয়ার বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে সরকারি বাহিনীর বুধবার সকালে চালানো এই রাসায়নিক হামলায় কয়েকশ সাধারণ মানুষ মারা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে করে তিনি সব ধরনের উপায়গুলোও এখন ভেবে দেখছেন।

সন্দেহভাজন এই হামলার পটভূমিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক্‌ হাগেল ইতিমধ্যেই বলেছেন সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থাগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। তবে কীধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি বলেন নি।

UN Navalপ্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করলেও পেন্টাগনকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে চতুর্থ মার্কিন রণতরীও পাঠানো হয়েছে।

আজ শনিবার আরো পরের দিকে প্রেসিডেন্ট ওবামা তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এই সম্ভাব্য হামলা নিয়ে বৈঠকে বসছেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.