মুম্বাইতে গণধর্ষণের শিকার সংবাদকর্মী: গ্রেপ্তার এক

delhi_rapeউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: ভারতের মুম্বাইতে স্থানীয় একটি সাময়িক পত্রিকার জন্য ছবি তুলতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ২২-বছর বয়সী এক তরুণী ফটো সাংবাদিক।

এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ শত শত মানুষ ধর্ষণের প্রতিবাদে মৌন বিক্ষোভ করেছে।

বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি পরিত্যক্ত কাপড়ের মিলে ছবি তুলতে গেলে ওই তরুণীর পুরুষ সহকর্মীকে মারধর করে আটর রেখে পাঁচজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পুলিশ বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত একজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। অন্য চারজনকেও চিহ্নিত করতে পেরেছে বলেও জানান তারা।

খবরে বলা হয়, ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। প্রতিবাদ হয়েছে ভারতের পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন শহরে। প্রতিবাদ জমায়েতগুলোতে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকরা।

অন্য শহরেও নারী সংবাদকর্মীরা নিজেদের কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবী তুলছেন। এছাড়াও বিপদজনক এলাকায় নারী সাংবাদিক পাঠানো হবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

তবে এ বিষয়ে বিরোধিতা করেন আন্দোলনরত নারী নেত্রী কবিতা কৃষ্ণান।

তিনি বলেন, বিপজ্জনক জায়গায় যেতে হয়, সেসব কাজে একশবার নারীরা যাবেন। কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

এদিকে অভিযুক্তদের ধরতে ওই নারী ফটো সাংবাদিক আর তাঁর পুরুষ সহকর্মীর কাছ থেকে বিবরণ শুনে অভিযুক্তদের সকলের ছবি আঁকিয়ে বিলি করেছে সর্বত্র।
মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনার সত্যপাল সিং এর বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, “সাময়িক পত্রিকার কাজের অংশ হিসাবেই ওই মেয়েটি একজন পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে পরিত্যক্ত কাপড় মিলটিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে প্রথমে এক ব্যক্তি তাদের ছবি তোলা নিয়ে প্রশ্ন করেন, তারপরে আরও চারজন ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তারা ছেলেটিকে মারধর করে আটকে রাখে আর সবাই মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।”

খুব তাড়াতাড়িই সবাই ধরা পড়বে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করে সত্যপাল সিং আরও বলেন, যে ওই এলাকায় থাকে বা আসা যাওয়া করে এরকম বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদের পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের চিহ্নিত করা গেছে।

এর আগে দিল্লিতে, গত ডিসেম্বরে এক কলেজ ছাত্রী তরুণীকে গণধর্ষণ করে চলন্ত বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছিল। কলকাতাতেও একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নারীরা নির্যাতিত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল সহ অনেক রাজ্যেই।

ধর্ষণকারীদের কড়া শাস্তির বিধান করে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছে দেশটির সরকার।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.