অপরাহ্নের আলো

পলি শাহীনা:

মাঝরাত থেকে আকাশ নির্জনে একাকি কেঁদে যাচ্ছে। বরফ জড়ানো বাতাস, নুয়ে পড়া গাছের ডাল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দুর্দান্ত প্রতাপে ছুটছে। অন্ধকার রাতে মানুষ যেমন লুকিয়ে কাঁদে তেমনিভাবে মাঝরাতের বৃষ্টিও একাকি জমিনের বুকে লুটিয়ে পড়ে নীরবে। গতকাল থেকে মিনুর মনের মতো আকাশেরও ভীষণ মন ভারী হয়ে আছে। আকাশ যেন মিনুর মনের কষ্টে স্নান করে অঝোরে ঝরছে। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আধো আলো আধো অন্ধকারে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে মিনু ভাবছে – কত কত অন্ধকারের পাহাড় ডিঙিয়ে ভোর হয় তা শুধু একজন নির্ঘুম মানুষ জানে, অন্য কেউ নয়। তবে অন্ধকারে এক ধরনের গভীর প্রেম থাকে। দিনের ঝলমলে আলোর চেয়েও রাতের গাঢ় অন্ধকার মিনুর বেশি ভালো লাগে। অন্ধকারে মনের দেয়ালে থরে থরে সাজিয়ে রাখা স্মৃতিগুলো আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠে চোখের মণিতে। অন্ধকারে মিনুর মস্তিষ্কের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা স্মৃতিরা গল্পের আসর জমায়, সে তাদের সঙ্গে একান্তে প্রাণ খুলে কথা বলে, হাসে, কাঁদে। অন্ধকারে গোটা জগৎ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তার নিজেকে মনে হয় মূল্যবান এক হীরের টুকরো।

ভোরের আলো এখনো ফোটেনি ভালভাবে। শীতকালের শুরুর সময় এখন। বাতাসের শরীরজুড়ে হিমের আভাস বইছে। পাতাঝরার দিন চলছে প্রকৃতিতে। এই সময়টায় ঝরা পাতাদের দীর্ঘশ্বাসে মিনুর মন খারাপ থাকে অহর্নিশি। শীতের শুরুতে বাড়ীর আঙিনা পরিষ্কার করতে গেলে কষ্টে চোখ ঝাপ্সা হয়ে আসে ওর। বাড়ির সামনে নির্বিকার গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল একটা বড় গাছ আছে। যে গাছটির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মিনু নিজের মধ্যেও প্রচণ্ড একটা নির্বিকারত্ব ধারণ করেছে। ঝড়-ঝঞ্ঝার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি থেকে মিনু শিখেছে – যে কোনো দুঃখ-কষ্টে বেঁচে থাকার নিরন্তর নেশায় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে অনায়াসে।

গ্রীষ্মের শুরুতে সবুজ পত্র পল্লবে ন্যাড়া গাছটি যখন ভরে উঠে তখন আনন্দে মিনুর চোখ চিকচিক করতে থাকে। মিনু রাত জেগে ওদের সঙ্গে কথা বলে, ভাব বিনিময় করে৷ গলা ছেড়ে গান গায়, প্রাণ খুলে কবিতা-গল্প লেখে। নিঝুম রাতে মিনুকে সবুজে আচ্ছাদিত গাছটির দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখে ওর স্বামী ‘মাথা গ্যাছে ‘ বলে কত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো! এতে মিনুর কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। মিনু স্পষ্ট বুঝতো সবুজ পাতাদের ভাষা, ওরাও বুঝতো মিনুর ভাষা। ওরা একে অপরের নিঃস্বার্থ বন্ধু!

শীতের শুরুতে আস্তে আস্তে গাছটি যখন পত্রশূন্য হয়ে পড়ে, মিনু যখন ঝরা পাতাদের কুড়াতে যায়, তখন ওদের আর্তচিৎকার শুনে মিনুর বুক চৌচির হয়ে যায়।
ওরা অনর্গল মিনুর পা জড়িয়ে বলতে থাকে, ‘যেদিন আমাদের বর্ণ ছিল, গন্ধ ছিল, যৌবন ছিল, স্পন্দন ছিল, সুর ছিলো – সেদিন তো আমাদের পাশে ছিলে! কত নিশি জেগে আমাদের রুপে, গন্ধে, ছন্দে, মর্মরে তুমি শিহরিত হয়েছো! প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিয়েছো! আমাদের স্নিগ্ধতা ধার করে কবিতা-গল্প লিখেছো! আমাদের শীতল বাতাস গায়ে মেখে স্বর্গ সুখে দু’চোখ বুঁজে সুখ স্বপ্নে বিভোর থেকেছো! আমাদের সান্নিধ্য ছাড়া রাত নিশিথে তোমার দম আটকে আসতো, মনে আছে? ‘
ঝরা পাতাদের গগন বিদারী আর্তনাদে বিমর্ষতা পেয়ে বসে মিনুকে।
ও ভাবতে থাকে, ‘জানি না ঝরা পাতাদের মত কবে, কখন, কোথায় – আমার সময়ও ফুরিয়ে আসবে! কাছের মানুষেরা আমাকে ফেলে আসবে অজানার পানে।’

রোদ বাতাসে বরফ সকাল। এরই মধ্যে নিয়মের কোন ব্যত্যয় না ঘটিয়ে সূর্যের তীক্ষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে রোজকার মত। মিনু পর্দা সরিয়ে কাচের জানালার গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। গ্রীষ্ম কালীন দীর্ঘ ছুটি শেষে স্কুল খুলেছে। বাচ্চারা স্কুল বাসের জন্য অপেক্ষা করছে। সত্তোর্ধ নিলডা হাঁটতে বের হয়েছে সঙ্গি কুকুরটি কে নিয়ে। রাস্তার ল্যাম্প পোস্টগুলো নিভে গেছে। মুক্ত আকাশে ডানা মেলে ঝাঁকে ঝাঁকে মনের সুখে উড়ছে পাখীর দল। মিনুর স্বাদ জাগে জীবনের উপর আরোপিত সব শৃঙ্খল ভেঙে পাখীদের মত উড়তে।

‘সাধ আছে সাধ্য নেই। পাখীর মত মন দিলেই যদি প্রভু, উড়বার শক্তি কেন দিলে না।’ মিনুর স্বগতোক্তি।

শীতের আধিপত্যে কাবু হয়ে মিনু গায়ে একটি চাদর জড়িয়ে নিয়েছে। নিজের হাতে কফি বানানোর সুগন্ধি অবকাশটুকু মিনু নিংড়ে নিংড়ে অনুভব করে রোজ। মেশিনে কফি চাপিয়ে বুক শেলফ থেকে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ বইটি পড়তে শুরু করে। কয়েক পাতা উল্টানোর পর আর পড়তে ইচ্ছে করে না। নিজ হাতে বানানো কফি হাতে মিনু আবার জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। ততক্ষণে উজ্জ্বল আলোয় ঝলমল করছে পৃথিবী। হরেক রঙের পাখীদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ। বনের পাখীদের এমন কোলাহল মিনুকে সবসময় আনন্দ দিলেও আজ ওর ভালো লাগছে না। কারণ, ওর ঘরের পাখীটি গতকাল অভিমান করে বাপের বাড়ি চলে গেছে।

মিনুর অসহায় লাগছে। চুপচাপ কফি মগ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তিন্নির জন্য মন ছটফট করছে। বই যেভাবে না পড়ে শেল্ফে রেখে দিয়েছে, তেমনি ভাবে কফিও না খেয়ে ডাইনিং টেবিলে রেখে দিয়েছে।

মিনু বেগমের একমাত্র ছেলে মাহিনের বউ তিন্নি। সারল্যে ভরা তিন্নিকে প্রথম যেদিন দেখেছিল মিনু সেদিন-ই মেয়েটিকে তার খুব ভালো লেগে যায়। মাহিনের সঙ্গে তিন্নিকে প্রথমবার দেখার পর অবাক বিস্ময়ে মিনু ভাবতে থাকে, বিদেশে জন্ম – বেড়ে উঠা মেয়েটি কেমন করে এমন খাঁটি বাঙালিয়ানা ধারণ করেছে জীবনে! মনে মনে নীরস প্রকৃতির ছেলেকে ধন্যবাদ জানায় মিনু। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে তিন্নিকে এমন স্ব দেশীয় সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্যের মধ্যে বড় করে তোলার জন্য তিন্নির বাবা-মা কেও আপনমনে ধন্যবাদ জানায় মিনু।

মাহিন বরাবরই চুপচাপ স্বভাবের মানুষ। নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্সে অধ্যয়নরত তিন্নির সঙ্গে মাহিনের প্রথমে পরিচয় ও বন্ধুত্ব হয়। পরে তাদের সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়।
মাঝেমধ্যে মাহিনের আরো কিছু বন্ধুর সঙ্গে তিন্নিও বছরের বিশেষ বিশেষ উৎসবের দিনগুলোতে বাসায় আসতো। তখুনি মিনুর মন কেড়ে নেয় তিন্নি। ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজানোর সময় মিনুকে সাহায্য করতো তিন্নি। খাবার শেষে টেবিল পরিষ্কার করে দিত। বাসায় আসা- যাওয়ার সময় জড়িয়ে ধরে মিনুর বুকে লেপ্টে থাকতো তিন্নি। মাহিনের অন্য বন্ধু দের মত হাই, হ্যালোর পরিবর্তে সালাম দিত। শুদ্ধ উচ্চারণে বাংলা বলতো। তিন্নির মুখে শুদ্ধ বাংলা ভাষা শুনে মিনুর বুকে সুখের বাতাস বয়ে যেত। তিন্নির জন্য বুকে গর্ব হতো। মাহিন এতো সুন্দর, শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে পারতো না। কাঁধ ঢেকে থাকা চুলে ফুল গুঁজে, হাতে মেহেদির আলপনা এঁকে, পায়ে নুপুর পরে তিন্নি যখন বাসায় আসতো, মিনু তখন নস্টালজিক হয়ে পড়তো।
অন্যকে ভালোলাগার শুদ্ধ আবেশে প্রভাবিত করার অসম্ভব ক্ষমতা রয়েছে তিন্নির।

জগতে অসংখ্য মানুষ আছে, কিন্তু অন্যকে বদলে দেয়ার ক্ষমতা খুব কম মানুষের আছে। তিন্নি বদলে দেয়া মানুষদের একজন। ওর সরলতা ভরা ভালোবাসা মিনু কে বদলে দেয়।

দুই পরিবারের সম্মতিতে মহা ধুমধামে তিন্নি আর মাহিনের বিয়ে হয়। তিন্নি ঘরের পুত্রবধূ হয়ে আসার পর থেকে মিনুর মনে হতে থাকে – এই যেন পরীর দেশের মেয়ে ভুল করে চলে এসেছে তার ঘরে। তিন্নির হাসিতে চাঁদের আলো ঝরে, কথা বললে যেন পাখী ডাকে, হেঁটে গেলে মনে হয় কাঁচা ফুলের ঘ্রাণ এসে নাকে লাগে। অসাধারণ গুণবতী মেয়ে তিন্নি আসলেই অন্য সবার চেয়ে আলাদা; একদম আলাদা।

ঘুম জড়ানো চোখে মিনু কফির ঘ্রাণ পায়, চোখ মেলে দেখে তিন্নি গরম কফি কাপ হাতে তার শিউরে দাঁড়িয়ে আছে। মিনুর নিঃসঙ্গ সকাল-দুপুর রাত্রিগুলো গল্প – হাসি- গানে ভরিয়ে তুলেছে সে। মিনুর পছন্দগুলো জেনে নিয়েছে তিন্নি। সপ্তাহান্তে মিনুর পছন্দের খাবার তৈরি করে নিজ হাতে। মিনুর শোবার ঘরের লাগোয়া বারান্দায় তিন্নির হাতে লাগানো বেলি ফুলের গন্ধে ম ম করে পুরো বাড়ি।

মিনুর নিয়মমাফিক খাওয়া -দাওয়া, ঘুম, ওষুধ খাওয়া, বিশ্রাম নেয়া- সবকিছুতেই তিন্নির তীক্ষ্ণ মনোযোগ তাকে আপ্লুত করে তোলে, মানসিক শান্তি দেয়। জীবনভর ঘরে -বাইরে অক্লান্ত খেটে যাওয়া মিনু নিজের প্রতি খেয়াল করতে না পারার কষ্ট ভুলে যায় তিন্নির যত্ন – আদরে জীবনের শেষাংশে এসে৷

তিন্নির হাতে লাগানো বেলি ফুলের ঘ্রাণ মিনুকে স্মৃতিকাতর করে তোলে।

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবনায় মিনু তখন প্রজাপতির মত উড়ছে। কত স্বপ্ন দু’চোখ জুড়ে। মানুষ ভাবে এক হয় আরেক। মানুষ সবসময় যা চায় তা হয় না। নিয়তির কাছে মানুষ অসহায়। ভাগ্যের জালে আটকা পড়ে মাত্র সতেরো বছর বয়সে মিনু বিয়ের পিঁড়িতে বসে। ছোটবেলা থেকেই মিনু খুব ফুল ভালোবাসতো। ফুলের বাগান করতো। বাগাতে ফুল ফোটাতো যত্ন করে। ফুলের ঘ্রাণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে অন্ধকারে একা ফুল বাগানে চলে যেত। এজন্য মায়ের কত বকুনি খেয়েছে সে।

মা প্রায়শই বলতো, ‘একদিন পরী এসে তোরে নিয়ে যাইবো তাদের দেশে। আর ফিরতে দিব না আমার কাছে।’
মায়ের এসব কথা ভেবে হাসি পায় মিনুর।
বাবা-মায়ের কড়া শাসনে বড় হওয়া মিনু – প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সুযোগ না পেলেও, কল্পনাবিলাসী মনে স্বপ্ন দেখতো তার প্রিয় মানুষটি প্রতিদিন ফুল হাতে ঘরে ফিরবে। ফুলের ঘ্রাণে চমকে পেছন ফিরে দেখবে, তার মানুষটি ঘরে এসেছে। মিনুর স্বপ্ন, স্বপ্ন-ই থেকে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার স্বপ্ন নিয়ে মিনু ভর্তি হয় কোচিং সেন্টারে। একদিন সকালে কোচিং এ যাবার আগে দেখতে পায় একটি মোটরসাইকেল এসে থামে ঘরের সামনে। আরোহী বড় মামার সঙ্গে এক আগন্তুক কে দেখে ও। কোচিং থেকে ফেরার পর মিনু বেশ খুশি খুশি দেখে তার মা কে। বাবা বাড়ীর সামনের বট গাছটির মত মাথা নুয়ে নীরব দাঁড়িয়ে আছে। নিশ্চুপ বাবাকে বিপর্যস্ত দেখালো। বাবার জন্য মায়া হয় মিনুর। মা -ই প্রথম মিনু কে বিয়ের কথা বলে। প্রবাসী ছেলের গুণকীর্তনে ব্যস্ত মা সুপারি কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলে। মায়ের কথা একটাই, ‘ কোনভাবেই আমরা এ ছেলে কে হাতছাড়া করবো না। ‘

উচ্ছ্বসিত মায়ের চোখজোড়া মিনুর রাজকীয় ভবিষ্যৎতের কথা ভেবে হীরার মত জ্বলতে থাকে। মিনু নির্বাক। রাগী মায়ের মুখের উপর কথা বলার ক্ষমতা, সাহস কোনটাই তার নেই।
মিনুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন তখন ঘরের এক কোণে অন্ধকারে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকা বাবার শূন্য দৃষ্টির মত আস্তে আস্তে অসীমে মিলিয়ে যায়। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রবাস থেকে আনা বাইশ ক্যারেটের ১০০ ভরি ওজনের সোনার গয়না, আর সিঁদুর লাল বেনারসির ফাঁদে মুখ থুবড়ে পড়ে মিনু। স্বপ্নগুলো আটকা পড়ে সংসার নামক অদৃশ্য কারাগারে।

মিনুর স্বামী নাজমুল খুবই কর্মঠ মানুষ। বিয়ের পর ঘরের মানুষদের সঙ্গে মিনুকে ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে না দিয়েই এক সপ্তাহের মধ্যেই নাজমুল ফিরে যায় তার কর্মস্থলে।
বাঁচার অনেক ধরন আছে। নিঃশ্বাস নেয়া আর ফেলা কে যদি বেঁচে থাকা বলে; তবে সেভাবেই বেঁচে ছিল মিনু শ্বশুর বাড়ীর অচেনা মানুষগুলোর মহাসমুদ্রে, সেসব দিনগুলোতে।

মিনুর আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া হয় না। সংসার নামক মহাসমুদ্রে মিনু তলিয়ে যায়। যে সময়টায় মিনুর বন্ধুরা ক্লাসের পড়ায় মগ্ন ছিল, সে সময় হাত ভর্তি এঁটো প্লেট নিয়ে সে পুকুর ঘাটে ছুটেছে। যে সময় মিনুর বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় দলবেঁধে গ্রুপ ওয়ার্ক করছে, সে সময় মিনু নাজমুলের বিশাল পরিবারের বাজারের ফর্দ লিখছে, যে সময় মিনুর বন্ধুরা হৈ হুল্লোড় করে শিক্ষা ভ্রমণে যাচ্ছে, সে সময় দেবর-ননদের জন্য ডুবো তেলে নকশা আঁকা পিঠা ভাজছে সে।

বড়ো দেবর খাবে গুঁড়ো মাছের শুকনো চচ্চড়ি, মেঝো দেবরের পছন্দ কাঁচা মরিচ-টমেটো দিয়ে ঝোল মাখা বড় মাছ ভাজি, ছোট দেবর ভালোবাসে নারিকেল দুধ দিয়ে পোলাওর সঙ্গে খাশির রেজালা। মিনুর আহ্লাদী ননদরা আবার মাছ একবারে পছন্দ করে না। তাদের জন্য টেবিলে রাখতে হবে মুরগির ঝোল, হরেক পদের সব্জি ভাজি। মিনুর শ্বশুর আবার ভর্তা ছাড়া ভাত খেতেই পারেন না। হাতে বানানো ভর্তা হলে চলবে না। শিল-পাটায় ভর্তা করতে হবে তাঁর জন্য। কাজের মেয়ের ভর্তা তাঁর পছন্দ নয়। মিনুর হাতের ভর্তা খাবেন উনি। শাশুড়ি এক পাতিল পানির মধ্যে কচুর লতি ছেড়ে দেন বলে, মিনুর জেঠা শ্বশুর খেতে পারেন না। জেঠা শ্বশুর আদর করে মিনুকে বলেছে, ‘তোমার হাতের রান্না ছাড়া ইদানীং অন্য কারো রান্না ভালো লাগে না। পেট ভরে খেতে পারি না বৌমা! ‘

সবার ফরমায়েশ পালন পালন করতে করতে শ্রান্ত মিনুর মনে বাষ্প জমে উঠে। চোখের বিল উপচে পড়ে। রাতের বুকে মাথা রেখে অন্ধকারের সঙ্গে বিড়বিড় করে কথা বলে। অন্ধকার ছাড়া যে তার আর কথা বলার কেউ নেই।

আকাশের নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে মিনু চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমি শুধু ভালো রাঁধতে জানি না, আমার কন্ঠে সুর আছে, আমি গাইতেও জানি। আমি ভালো গল্প, কবিতাও লিখতেও পারি। তোমরা কেউ তো আমাকে গাইতে বলো না, লিখতে বলো না। তোমরা আমার কবিতা শুনতে চাও না কেন! তোমরা কেউ আমার মনের খবর নাও না! শুধু নিজেদের কথা ভাবো, আমার কথা ভাবো না! ‘

মিনু আকাশে ভেসে বেড়ানো তারাদের সঙ্গে ভাসতে থাকে- কল্পনায় পরীর মতো। আকাশের নীল বিছানায় খুনসুটিতে নক্ষত্রদের সঙ্গে মত্ত হয়ে পড়ে। বেগুনি রঙের ঘুড়ি হয়ে নিঝুম রাতে জোছনার সঙ্গে উড়তে থাকে। পাশ ফিরে মিনুর ঘুমের ঘোর কেটে গেলে, ভোরের সূর্য উদিত হবার সঙ্গে সঙ্গে নক্ষত্ররা হারিয়ে যায়। দিনের আলো জ্বলে উঠার পর, মিনু ও ভুলে যায় তার মনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নিঃসঙ্গ রাতের অশ্রু গাঁথা।

নাজমুল যখন ফোন করতো, তখন মিনুর ইচ্ছে হতো তাকে গান, কবিতা শুনাতে। নিজের লেখা গল্প পড়ে শোনাতে। কর্মঠ নাজমুল ওসব একদম পছন্দ করে না। সারাদিন কাজ শেষে সে সংসারের প্রয়োজনীয় কথা এবং সবার খোঁজখবর নিয়ে ফোন রেখে দিত। মিনুর গান, কবিতা, গল্প শোনার সময় ওর হতো না।

নাজমুলের কাছে প্রথমবার বিদেশে আসার সময় নীল রঙের জামদানী শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে নীল পাঞ্জাবি নিয়ে আসে মিনু। বিয়ের পর নাজমুল বিদেশে চলে আসায় হানিমুনে যাওয়া হয়নি। মিনু ভেবেছে বিদেশে এসেই ওরা আগে হানিমুনে যাবে। সমুদ্র মিনুর আজন্ম প্রিয়। সমুদ্রের থৈ থৈ জল ঘেঁষা একটা হোটেলে উঠবে ওরা। সকালে সমুদ্র থেকে উঠে আসা ভেজা শীতল বাতাসে হোটেলের বারান্দায় বসে নাজমুলকে গলা ছেড়ে গান, কবিতা শোনাবে। নাজমুলের হাত ধরে সমুদ্রের পানিতে পা ভিজাবে। মিনুর হাতে থাকবে তখন নাজমুলেত দেয়া কাঁচা বেলি ফুলের মালা।

বিদেশে এসেই মিনু হানিমুনে যাওয়ার জন্য বায়না ধরলে প্রথম প্রথম নাজমুল হাসতো। কর্মঠ নাজমুল ১৬/১৮ ঘন্টা কাজ শেষে বাসায় ফিরেই ঘুমিয়ে পড়তো। পরের দিকে মিনু একান্তে কথা বলার জন্যও নাজমুলকে কাছে পেতো না আর। একসময় মিনু ভুলে যায় হানিমুনের কথা।
তাদের হানিমুনে আর যাওয়া হয় না।

একসময় মিনুর কোল আলো করে আসে একমাত্র সন্তান মাহিন। ছেলের মধ্যে বিলীন হয়ে যায় মিনু।

মাহিন আর নাজমুলকে ঘিরে মিনুর সংসার সমুদ্রের অসীম জলরাশিতে সবাই থৈ থৈ সুখ দেখেছে বাইরে থেকে, কিন্তু সে সমুদ্রে চিরদিনের জন্য তলিয়ে যাওয়া মিনুর শখ, স্বপ্ন, নিজস্বতা, গান, গল্প, কবিতা, সুর কেউ দেখেনি; কেউ না। সম্ভবত স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও না।

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মিনুর হারিয়ে যাওয়া সুর, কবিতা, গান, গল্প, ফুলের গন্ধ নিয়ে হাজির হয়েছে আকাশ থেকে নেমে আসা পরী তিন্নি।

‘নিজের প্রতি অনেক অবহেলা করে সারাজীবন সংসারে শুধু খেটেই গেছেন। এবার আপনার যত্ন নেব আমি।’ তিন্নির কথায় মিনু হাসে।

ইউটিউব দেখে শাশুড়িকে নিয়ে একসঙ্গে রুপচর্চা করে তিন্নি, ছুটির দিন বিকেলে বেড়াতে বের হয়, লং ড্রাইভে যায়, শাশুড়ির পছন্দের গান, কবিতা শুনে, গল্প করে।

এসব দেখে তিন্নির কর্মঠ শ্বশুরমশাই গুজগুজ করতে শুরু করেছে। সাহস পায় না কিছু বলার। নাজমুল আজীবন মিনুর সঙ্গেই ঝামেলা করতে পেরেছে, অন্য কারো সঙ্গে কিছু করার, বলার সাহস পেতো না। মিনু ছাড়া অন্য কেউ নাজমুলের কৃপণ ধরনের এই আজগুবি ব্যক্তিত্বকে পাত্তা দিত না।

বাইরে যাওয়ার আগে তিন্নি যখন মিনুকে পরিপাটি করে সাজিয়ে দেয়, তখন তার চোখে আনন্দের প্লাবন নেমে আসে।
‘কী মায়াভরা মুখ!’ মিনু অপলক তিন্নির মুখের দিকে তাকিয়ে রয়।

ইদানিং মাহিন বেশ রাত করে বাড়ি ফিরে। মাহিনের অপেক্ষায় তিন্নি এ ঘর ও ঘর পায়চারি করতে থাকে। মাহিন নামকরা আর্কিটেক্ট। মাঝে-মধ্যে কাজের প্রয়োজনে শহরের বাইরে থাকতে হয়। সে সময়টায় তিন্নি একাকিত্বে ভোগে। মিনু সব বুঝতে পারে। তিন্নির জন্য মন খারাপ হয়।
ওদের বিয়ে হয়েছে এখনো বছর গড়ায়নি। এরমধ্যেই মাহিন সময় দিতে পারছে না ঘরে। মিনুর দুঃশ্চিন্তা হয় তিন্নির মেঘে ঢাকা মুখের দিকে তাকিয়ে। চশমার কাঁচ মুছে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিনু।

গত পরশু তিন্নির জন্মদিন ছিল। ওর পুরো পরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জন্মদিন উপলক্ষে। মিনু শুনেছে, মাহিন অফিসে যাওয়ার আগে তিন্নি আহ্লাদী কন্ঠে বার বার বলেছে, ‘তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসো আজ।’ মা ও তিন্নির থেকে বিদায় নিয়ে মাহিন অফিসে চলে যায়।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেলকে তাড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে অনেক আগে। মাহিন বাসায় আসেনি এখনও। মিনু ছেলেকে ফোন করেছে বাসায় আসার জন্য। ‘আসছি মা’ বলে মাহিন ফোন কেটে দেয়।
মিনু দীর্ঘশ্বাস টেনে আপনমনে বিড়বিড় করতে থাকে, ‘আম গাছে জাম ধরে না। জিন বলে একটি কথা রয়েছে। ছেলেটা কি তাহলে বাবার মতোই হলো? ‘
মিনু কোন দরকারি কাজে নাজমুলকে ফোন করলে ঠিক এভাবেই কথা শেষ না করে তড়িঘড়ি করে ফোন রেখে দিত।
নাজমুলের কন্ঠে রুঢ়তা থাকতো, মাহিনের কন্ঠে সে রুঢ় ভাব নেই – পার্থক্য এতোটুকুই!

নির্ধারিত সময়ে তিন্নির বাসার লোকজন এসেই অনেকবার মাহিনের খোঁজ করছিল। বুদ্ধিমতি লক্ষ্মী মেয়ে তিন্নি হাসিমুখে সবাইকে বলেছে, মাহিন খুব জরুরি কাজে আটকা পড়ে গেছে। খাওয়া -দাওয়া, কেক কাটা শেষে মাহিনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তিন্নির পরিবার বিদায় নেয়।

মাহিন সেদিন মাঝরাতে বাসায় আসে। রাতভর মাহিন ও তিন্নির কথা কাটাকাটির শব্দ পায় মিনু নিজের ঘর থেকে।

অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। তিন্নি ব্যাগ গুছিয়ে মিনুর ঘরে আসে। তিন্নির হাতে সুটকেস দেখে মিনু বুকে চিনচিন ব্যথা অনুভব করছে। শিশুর মতো তাকিয়ে আছে বাকরুদ্ধ মিনু। তার গলা ধরে আসছে, মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। মাথা ঝিমঝিম করছে। কী করবে, বলবে ভেবে পায় না। অসহায় বোধ করে।

মিনুর বিপর্যস্ত মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তিন্নি তাকে স্বাভাবিক করার জন্য বলে, ‘মা, আপনার নাইট ময়েশ্চারাইজারটা বেশ ভালো কাজ করছে। আয়নায় দেখেন, বয়স কমপক্ষে ১০ বছর কমে গেছে। কী যে সুন্দর লাগছে আপনাকে!’
মিনু শিশুর মতো খিলখিল করে হেসে উঠে।

তিন্নি শাশুড়ির মাথায় হাত বুলিয়ে কান্না জড়ানো কন্ঠে বলে, ‘মা যুগ যুগ ধরে চলা এই অনিয়ম ভাঙতে হবে। এই জং ধরা তালা খুলতে হবে। আমার মা আপনাকে শুধু চিনতো না, আপনার জীবনের অনেক অবহেলা, কষ্টেের গল্পও জানতো। আপনার কষ্টের কথা, ত্যাগের কথা আমার মা বলেছে মাহিনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হবার পর। আপনার জন্য আমার খুব মন খারাপ হয়েছে তখন। ভেবেছি, মাহিন ব্যতিক্রম হবে। এখন দেখছি মাহিনও বাবার মতই হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করবেন মা। আমি আপনার মতো মুখ বুঁজে সকল অন্যায়, অবহেলা মেনে নিতে পারবো না। আমার খুব কষ্ট হবে আপনাকে ছেড়ে থাকতে। মাহিন যেদিন ভুল বুঝতে পারবে, নিজেকে শোধরাতে পারবে, সেদিন আমি ফিরে আসবো। চিন্তা করবেন না একদম।’
মিনুর পা ছুঁয়ে সালাম করে তিন্নি বিদ্যুৎ গতিতে ভারী বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে যায় ঘর হতে।

তিন্নিকে বাধা দেয়নি মিনু। কারণ সে চায় না তার মতো জীবন হোক তিন্নির।

মিনুর বুক খাঁ খাঁ করছে তিন্নি চলে যাওয়ার পর থেকে। তার বুকে অসীম নিঃস্তব্ধতা নেমেছে। মিনু আদরে করে তিন্নিকে তোতা পাখী বলতো। তিন্নি ছিল মিনুর কথা বলার পাখি। তিন্নি এ বাড়িতে পুত্রবধূ হয়ে আসার পর কত কত বছর বাদে মিনু প্রাণ খুলে হাসতে, কথা বলতে শুরু করেছে। শাশুড়ি -বউ নয়, দু’জন যেন বান্ধবীর মতন ছিল।

মিনুর অস্থির লাগছে। কোন কিছু ভালো লাগছে না। সকালের ওষুধ, খাবার কিছুই খায়নি৷ তার ঘরের পাখি বেরিয়ে গেছে বলে, বাইরের পাখির ডাক অসহ্য লাগছে। সারাদিন তিন্নির জন্য মিনুর চোখে বৃষ্টি ঝরে।

মাহিন অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যা বেলায় কয়েকবার আম্মু, আম্মু বলে ডেকেছে। মিনু কোন উত্তর দেয়নি। তবে ছেলের জন্য টেবিলে খাবার সাজিয়ে রেখেছে। খাওয়ার সময়ও কয়েকবার ডেকেছে, তাও মিনু সামনে আসেনি। রাতের খাবার একা একা খেয়েছে মাহিন।

খাওয়া শেষ করে মায়ের ঘরে যায় মাহিন। মিনু ঘরের আলো জ্বালায়নি, অন্ধকারে বারান্দায় বসে আছে। মাহিন রুমে ঢুকে আলো জ্বালালে দু’হাতে চোখমুখ ঢেকে আলো নিভিয়ে দিতে বলে। মাহিন লাইট অফ করে অন্ধকারে মায়ের পাশে গিয়ে বসে। মায়ের কোন ভাবান্তর না দেখে মাহিন তার কোলে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।

ছেলেকে কাঁদতে দেখে মিনু বুকের সঙ্গে ওকে জড়িয়ে ধরে বললো, ‘বাবা, আমি তোদেরকে সুখী দেখতে চাই। তোদেরকে নিয়ে আমি একটি স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন চাই। তোদের মধ্যে কোন মানসিক দূরত্ব দেখতে চাই না। তিন্নির প্রতি তোর অমনোযোগ, অবহেলা, নির্লিপ্ততা দেখতে চাই না। বিয়ে অতি সুখের একটি বিষয়। বিবাহিত জীবনে যদি আনন্দ না থাকে সে জীবন সামনে বয়ে নেয়া ভীষণ যন্ত্রণার। দাম্পত্য জীবনকে মধুময় করে তোলার বেশিরভাগ দায়িত্ব কিন্তু তোর-ই। কারণ তিন্নি তার পরিবার ছেড়ে তোর কাছে এসেছে। টাকা-পয়সা জীবনের জন্য, জীবন টাকা -পয়সার জন্য নয়। আমি চাই না টাকা-পয়সার কাছে তুই জিম্মি হয়ে যা, তোর সুখ বেছে দে। সম্পদে সুখ নেই। সুখ খুঁজতে হয় মনে, নিজের ঘরে। তোর সুখ অভিমান করে চলে গেছে ঘর ছেড়ে। তুই তার অভিমান ভেঙে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আয় বাবা।’

মাহিন সম্মতি জানিয়ে মায়ের কপালে আদর করে ঘুমাতে যায়।

জগতে সবাই পরিপূর্ণ জীবন পায় না। নিজের জীবনের অসম্পূর্ণতার কথা ভেবে মিনু সারারাত ঘুমাতে পারে না। সে চায় না ছেলের জীবন তার মতো কোনদিক হতে অসম্পূর্ণ হোক।

মাহিন আজ সকালে মাকে বলে তিন্নির বাসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। মিনু বারবার জানালার পাশে গিয়ে বাইরে দেখছে। মিনুর আর তর সইছে না। কলিং বেল বাজার অধীর অপেক্ষায় সে সময় গুনছে।

জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের পাল্টে যাওয়া রুপ দেখছে মিনু। মেঘ কেটে গেছে। আকাশের গায়ে রংধনু জেগেছে। শেষ বিকেলের উজ্জ্বল আলো গাছের ফাঁকফোকর গলে মিনুর মুখে এসে পড়েছে। ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠে। মিনু দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলেই তিন্নিকে বুকের ওমে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। মাহিন পাশে দাঁড়িয়ে এই স্বর্গীয় দৃশ্য দেখে।

মাহিনকে কাছে ডেকে তিন্নির হাত ওর হাতের উপরে রেখে মিনু বলে, আমাকে একটি কথা দিবি বাবা?
– কী কথা?
– আকাশের ওই সাতরঙা রংধনুর মতো আজীবন তিন্নির জীবনকে রাঙিয়ে রাখবি? কথা দে, কোন দূরত্ব যেন কোনদিন না আসতে পারে তোদের মাঝখানে!

শেষ বিকেলের কমলারঙা অদ্ভুত সুন্দর আলোয় মাহিন হাসিমুখে মায়ের বুকে মাথা রাখে।

শেয়ার করুন:
  • 73
  •  
  •  
  •  
  •  
    73
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.