ঐশী নয়, লৌকিক

lonelinessউইমেন চ্যাপ্টার: রাজধানীতে স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তা খুন হওয়ার পিছনে তাদেরই মেয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠার পর অনেকগুলো বিষয় সামনে চলে এসেছে। এসবের মধ্যে সন্তান লালন-পালন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন আলোচনায়। গত কয়েকদিন ধরেই এ সংক্রান্ত নানা ইস্যু নিয়ে পত্রপত্রিকায়, টেলিভিশন টকশোতে আলোচনা হচ্ছে।

তেমনই একটি আলোচনা ছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট এ বৃহস্পতিবার রাতে আজকের বাংলাদেশ প্রোগ্রামে। বিষয়বস্তু ছিল, ‘ঐশী নয়, লৌকিক’। এতে অংশ নেন নাট্যাভিনেত্রী সারা যাকের, মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল এবং অক্সফোর্ড স্কুলের সাবেক প্রিন্সিপাল জি এম নাজিমউদ্দিন।

সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ মুহীউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে চারজনের আলোচনারই মূল বিষয় ছিল কেন ও কিভাবে বিভিন্ন অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে, কি করে শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে এসব অপরাধের সাথে, অপরাধের মাত্রাসমূহ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায়।

তাদের কথার মূল বক্তব্য ছিল শিশুদের একাকীত্ব, মা-বাবার ব্যস্ততার কারণে সময় কম দেওয়া, বিনোদনের অভাব, শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি, শিক্ষকদের দায়িত্ব না নেওয়া, সর্বোপরি সচেতনতার অভাবই বাচ্চাদের জীবনের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলছে। তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধের সাথে, হয়ে পড়ছে মাদকাসক্ত।

এ থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে তারা বেশ কয়টি প্রস্তাব করেন। যেমন, স্কুলগুলোতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা, নির্দ্দিষ্ট সময় পর পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পাঠ্যসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, অভিভাবকদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া, শিশুদের বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে পরিচিত করা, অ্যাপার্টমেন্টগুলোর সংস্কৃতিগত পরিবর্তন এনে সামাজিকতা বাড়ানো ইত্যাদি।

আলোচকরা একবাক্যে খেলাধুলার অভাব অর্থাৎ শারীরিক তৎপরতা কম হওয়াকেও শিশু-কিশোরদের মনোজগতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার জন্য দায়ী করেন। তারা বলেন, এক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সীমাবদ্ধতা নিয়েও তারা আলোচনা করেন। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতেও আবদ্ধ, দম বন্ধ করা পরিবেশ। কারাগার থেকে কোন অংশেই কম নয় সেগুলো। এলিনা খান বলেন, স্কুলগুলোতে যেমন মাঠ নেই, খেলার ব্যবস্থা নেই, তেমনি এসব পুনর্বাসন কেন্দ্রেও নেই। ফলে বদ্ধ জীবনে ওরা আরও জড়োসড়ো হয়ে পড়ে।

আলোচকরা পরামর্শ দেন, কোন শিশু যদি দরজা বন্ধ করে রাখে দীর্ঘক্ষণ, তাহলে সেটা খেয়াল রাখতে হবে এবং কম্পিউটারে কি করে, কি দেখে, তাও জানতে হবে। তবে সবার আগে ওদের প্রাধান্য দিতে হবে, একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা খুবই বাঞ্ছণীয়।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.