#No_bra_day

শাহরিয়া দিনা:

অক্টোবর মাস ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতার মাস। এরই অংশ হিসেবে ১৩ই অক্টোবর পালন করা হয় “No bra day”। মূলত নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত নিজেকে নিজে পরীক্ষা করতে উৎসাহ দেয়া, স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এই দিবসটি পালন করা হয়।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, বিশ্বের প্রায় আট জন নারীর মধ্যে একজন ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। শুধু বাংলাদেশেই নারীদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ভেতর ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুর হার হলো ৬৯ শতাংশ। ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মাঝে অন্য যেকোন ক্যান্সারের চাইতে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্তের হার বেশি।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ হিসেবে বলা হয়, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, ত্রিশ বছর পর প্রথম সন্তান জন্ম দেয়া, কিংবা নিঃসন্তান, যাদের বয়স ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে অথবা যাদের স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খান, তাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

কিছু মিথ প্রচলিত যে, ব্রা পরার কারণেও মেয়েদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে। প্রতিদিন ১২ ঘন্টার বেশি বা ২৪ ঘন্টাই ব্রা পরে থাকলে তাদের ক্যান্সার হবার বুঝি ১১% বেড়ে যায়। এই মিথের পেছনে যুক্তি হচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে যেখানে প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারের কারণে মারা যান কয়েক হাজার নারী, সেখানে আফ্রিকার দেশগুলোতে স্তন ক্যান্সারে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল। যদিও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্রা পরায় ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হয়, এমন নির্ভুল কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রাচীন গ্রিসে নারীরা একটি বিশেষ পোশাক পরতো। একে বলা হয় অ্যাপোডিসমোস যার অর্থ ‘স্তন-বন্ধনী’। এক টুকরো কাপড় সামনে থেকে স্তন যুগলকে ঢেকে পিঠ বরাবর বাঁধা হতো। সেই থেকে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নারীদের মধ্যে বক্ষবন্ধনী বা ব্রা পরার প্রচলন শুরু হয়।

শুনতে অবাক হলেও সত্যি আমাদের দেশে অনেকেই ভুলভাল সাইজের ব্রা পরেন। কারো কারো স্বভাব হচ্ছে টাইট ব্রা পরবার যাতে বগলের কাছে বিস্তৃত লসিকা গ্রন্থি আক্রান্ত হয় বা ছিঁড়ে যায়। আবার যখন কেউ খুব ঢিলা অন্তর্বাস বা ব্রা পরেন তখন স্তনের ভারের কারণে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন চলছে পুশআপ ব্রা, আন্ডারগার্মেন্টস ব্রা এইসবও ক্ষতিকর। একটা দিন অন্তত ব্রা ছাড়া থেকে নিজেকে নিজে পরীক্ষা করার উৎসাহ দেবার জন্যই ‘নো ব্রা ডে’।

স্তন নারীত্বের প্রতীক। মাতৃত্বের পূর্ণতা আসে সন্তানকে স্তন্যদুগ্ধ পান করানোর মধ্য দিয়ে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই এটা একটা অঙ্গ মাত্র। তবু একে নিয়ে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই, লুকোচুরির কমতি নেই। সুন্দর, সুডৌল স্তন সবারই কাম্য। তবুও অন্যান্য অঙ্গের মতো এখানেও অসুখ হয়। তার চিকিৎসাও করতে হয়।

বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্মসূত্রে পাওয়া শরীরে এক ধরনের বিশেষ জীনের উপস্থিতি ধরা পরে। যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সুতরাং তিনি এই ঝুঁকি কমানোর জন্য তাঁর উভয় স্তন অপসারণ ও কৃত্রিম ভাবে পুনরায় স্থাপনের খবরটি এখন আমরা কমবেশি সবাই জানি। এতে করে তিনি তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুকি ৮৭% থেকে ৫% এ কমিয়ে এনেছেন।

সুন্দর আর আকর্ষণীয় হবার চাইতে সুস্থ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি মন থেকে সত্যিকারেই ভালোবাসে তবে সে আপনার স্তন দেখে নয়, স্তনের পেছনে যে হৃদয়টা থাকে সেটার জন্যই ভালোবাসবে। সচেতন হয়ে নিজের যত্ন নেয়াটা জরুরি।

#No_bra_day

শেয়ার করুন:
  • 367
  •  
  •  
  •  
  •  
    367
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.