একজন ধানকন্যার অকাল প্রয়াণ

ওমর ফারুক জনি:

ড. তমাল লতা আদিত্যের জাতির জন্য যে বিশাল অবদান সেই কৃতজ্ঞতাবোধ এবং দায়বদ্ধতা থেকে একজন কৃষিবিদ হিসাবে কিছু কথা শেয়ার করছি। আমাদের বন্ধু হিসাবে নিশ্চয়ই তোমরাও গর্বিত বোধ করবে।

ড. তমাল লতা আদিত্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ইয়ারমেট/ব্যাচমেট। আমাদের বন্ধু, কিন্তু সময়ের বাধ্যবাধকতায় গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন না। BRRI তে Director, research পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১১.৪৫ টায় BARC তে একটি সেমিনার শেষ করে গাজীপুরে ফেরার পথে কার্ডিয়াক এরেস্টে আমাদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে যান।

বাংলাদেশে উন্নত জাতের ধান উদ্ভাবন ও জনপ্রিয়তাকরণে অসাধারণ অবদান রেখে চলেছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিচালক ও প্রখ্যাত ধানবিজ্ঞানী ড. তমাল লতা আদিত্য। 

দেশের জন্য অবদান: দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে তার অবদান অনস্বীকার্য। সে ছিলো প্রথিতযশা ধান প্রজননবিদ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ বিজ্ঞানী। তার সরাসরি তত্বাবধানে ব্রী ৫৭, ব্রী ৫৮, ব্রী ৬৩, ব্রী ৭০, ব্রী ৮০, ব্রী ৮১,  ব্রী ৮২,ব্রী ৮৮, ব্রী ৯০, ব্রী ৯৫ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়।
এছাড়াও ব্রী ৪৬, ব্রী ৪৯, ব্রী ৫০, ব্রী ৫৬ এবং ব্রী ৭১ জাতের ধান উদ্ভাবনে ব্যাপক অবদান রাখেন।

অর্জন:

ধান গবেষণায় কৃতিত্ব এবং অবদানের জন্য নিম্নলিখিত এওয়ার্ড পান-
১. PBGSB youg scientist award 2013-14, Rotary club, Dhaka.
২. Best scientist BRRI award 2014
৩. তার নেতৃত্বে ২০১৭ সালে BRRI র উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ বংগবন্ধু কৃষি পদক লাভ।
৪. Senadhira rice research award, IRRI 2018
৫. আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জয়া আলোকিত নারী ২০২০ পদকে ভূষিত হন।
এছাড়া দেশে বিদেশে বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ৩০ টির বেশি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৬৭ সালে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৩ বছর। তার স্বামী শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডাক্তার তপন কান্তি সরকার। তিনি দুই ছেলে রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে generics and pland breeding এ মাস্টার্স। পরবর্তিতে লন্ডনের Imperial College থেকে একই বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ১৯৯৪ সালে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে ব্রীর উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে পদন্নোতি লাভ করেন এবং ২০১৭ সালে পরিচালক গবেষণা (চলতি দায়িত্ব) পদে যোগদান করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন।

বন্ধু হিসেবে আমাদের আরেকটা পরিচয় আছে, তমাল আমাদের ব্যাচমেট, অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে আমরা এসএসসি পাশ করেছিলাম। এইটুকু জীবনে তমাল যা দিয়ে গেছে, তার কানাকড়িও আমাদের ঝুড়িতে নেই। কৃতী বন্ধুর কৃতিত্বে আমরা একদিকে আজ যেমন মুগ্ধ, তেমনি প্রচণ্ডভাবে শোকাহত। বেঁচে থাকলে আরও কতো কী দেবার ছিল তাঁর!

বন্ধু ফরহাদ লিখেছে, “একশ বছর অর্থহীন বেঁচে থাকার চেয়ে ধান কন্যার মতো স্বার্থক জীবন যাপন অনেক বেশি কাম্য। একটি পুরো জাতি তার কাছে কৃতজ্ঞ।”

মুনিরা শিমু লিখেছে, “এরকম একজন ধান কন্যা আমাদের মাঝে ছিল জানতে পারলাম তার মৃত্যুর পর!! আফসোস রয়ে গেল। তার আত্মার শান্তি কামনা করছি”।

ভালো থেকো বন্ধু।

#Respect_Rice_Daughter

শেয়ার করুন:
  • 652
  •  
  •  
  •  
  •  
    652
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.