আশ্বাস নয়, আদতেই শাস্তিটা হোক দৃষ্টান্তমূলক

শাহরিয়া দিনা:

ভাইয়ের সামনে থেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে নীলা রায়কে, ঘর ভেঙে পরিবারের মানুষের মাঝ থেকে ধর্ষণ করা হয়েছে চাকমা মেয়েটিকে, সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর সামনে থেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে স্ত্রীকে। পরপর এই কয়েকটি ঘটনা চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেয় কতটা অনিরাপদ মেয়েরা।

এতোটাই অরক্ষিত আমরা যে আমাদের দেশে একলা মেয়ের চলাফেরাতে সবসময় আতংকিত থাকে পরিবার। একটা ছেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাচ্ছে কোন ব্যাপার না। মেয়ে যেতে চাইলে প্রায়শই যেটা শুনতে হয়, ‘বিয়ের পর স্বামীর সাথে যেও’। এখন তো দেখা যাচ্ছে স্বামীর সাথেও সে নিরাপদ না। পরিবারের সদস্য কেউ একজন সাথে থেকেও রক্ষা করতে পারছে না তাকে। ঠিক ওই মুহূর্তে মেয়েটার মানসিক অবস্থাটা একবার চিন্তা করেন। সে জেনে যায় বাঘ, সিংহ, হায়েনা নয়, মানুষ নামক প্রাণীর চাইতে ভয়ংকর কিছু নাই।

পাহাড় বলেন আর সমতল, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ সবখানেই আতংক নিয়ে চলতে হয় মেয়েদের। ভীড়ের মধ্যে কেউ গায়ে হাত দিল, কেউ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেল, কী এক বিশ্রী ভয় নিয়ে এই পথচলা! একটা নারীর শরীর একদলা মাংস যেন আর শকুনের চোখ তাকে ঘিরে থাকে পাহারায়। একটা সুযোগের অপেক্ষায়।

নীলার রায়ের মায়ের আহাজারি দেখতে দেখতেই চোখের সামনে আসলো পাহাড়ের একটি মেয়ের দু’জনের কাঁধে ভর দিয়ে হাসপাতাল খোঁজার দৃশ্য। পায়ে দলা রক্ত, জামার পেছনে রক্তের দাগ, পেছন থেকে তোলা ছবিটা দেখে নির্বাক-ধূসর বিবেকবান। সে ছবি অদৃশ্য না হতেই আবার সিলেটের ঘটনা। আর কত!

খুন-ধর্ষণের মতো এমন পৈচাশিক ঘটনাগুলো আর কত হলে মেয়েরা একটা নিরাপদ পরিবেশ পাবে জানি না। যাদের দেখার কথা তারা কি দেখছে না? প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র তথা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কঠোরতা ছাড়া এই অবস্থার কোন মুক্তি আপাতত দেখছি না। মুখে বলা আশ্বাস নয়, আদতেই যদি শাস্তিটা দৃষ্টান্তমূলক হয় সেটাই সাবধান করতে পারে বখে যাওয়া, পঁচে যাওয়া সমাজের ওই অংশটাকে। আইনের ফাঁক-ফোঁকর গলিয়ে বেরিয়ে যাওয়াটা ভয়হীন করে ভবিষ্যৎ অপরাধীকে।

শহর থেকে কুকুর নিধন চলছে। প্রশাসন অবলা প্রাণী হত্যা করছে আর আসল জানোয়ার ঠিকই বেঁচে যাচ্ছে। মানুষরুপী যেসব জানোয়ারদের হামলায় ক্ষত-বিক্ষত হয় নারীদেহ তাদের পুরুষত্ব নিয়ে বাঁচার কোন অধিকার নাই। কঠোর হোক শাস্তি, ত্বরান্বিত হোক বিচার প্রক্রিয়া। আদিবাসী, সেটেলার, সংখ্যালঘু, ছাত্রলীগ, মুসলিম, আইন হোক সবার জন্যই সমান।

পৃথিবীটা নিরাপদ হোক সকল নারীর জন্যে। পুরুষ পাশে থাকুক ভাই-বন্ধু, সহমর্মী হয়ে। যদিও এমন দিন আসবে কিনা জানি না। পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে আজকাল আসলেই হতাশ লাগে।

শেয়ার করুন:
  • 153
  •  
  •  
  •  
  •  
    153
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.