এই ধর্ষণের উৎসব আর কতদিন চলতে দিবে রাষ্ট্র?

মিলি স্বপ্নময়ী:

আদিবাসীদের জীবন কিছুটা কাছ থেকে দেখার সুবাদে আমি জানি, তাদের সংস্কৃতিতে ধর্ষণ বলে কোনো শব্দ নেই। আজ পর্যন্ত কেউ কি কোনোদিন শুনেছেন একজন আদিবাসী পুরুষ একজন আদিবাসী নারী বা অন্য যেকোনো নারীকে ধর্ষণ করেছে? এই ধরনের কোনো নিউজের রেফারেন্স আপনি কোথাও পাবেন না।

বরং বাঙালি ছেলেদের সংস্পর্শে এসে তারা টিজ, রেপ এই শব্দগুলোর সাথে পরিচিত হচ্ছে।

১। আদিবাসী সমাজে কারো ঘর বা পাড়ায় চুরি হয় না। সারারাত তারা রুমের দরজা খোলা রেখে ঘুমায়। সারাদিন তারা জুমে কাজ করে ঘরে তালা না দিয়েই। এতে করে কারো ঘরের শুকর, মুরগি বা সম্পদ হারিয়ে যায় না বা চুরি হয় না।

২। আদিবাসী নারী পুরুষ একত্রে নদীতে পাশাপাশি গোসল করে, কাপড় বদল করে। কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকায় না। বরং পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া বাঙালি পুরুষ যদি বারবার গোসল করা নারীর দিকে একবারের বেশি দুবার তাকায়, তাহলে তারা নিজেদের শরীর যথাসম্ভব ঢাকার চেষ্টা করে। অথচ পাশেই নিজ গোষ্ঠীর অনাত্মীয়, প্রতিবেশীদের সামনে তাদের আলাদা করে শরীর ঢাকার প্রয়োজন হয় না।

৩। পাহাড়ের যতো গহীনে যাবেন, দেখবেন তাদের পোশাক ততো ছোট হবে। নারী পুরুষ প্রত্যেকেই নামমাত্র শুধু তাদের নিম্নাংশ ঢেকে রাখেন। অনেক সম্প্রদায়ের মেয়েরা শরীরের উপরের অংশ সস্পূর্ণ অনাবৃত রাখে, কেউ কেউ শুধুমাত্র বুকে ত্যানার মতো একটা কিছু জড়িয়ে রাখে। কিন্তু কেউ কারো দিকে ফিরে তাকায় না শরীরের লোভে!

মিলি স্বপ্নময়ী

আমরা বাঙালি মেয়েরা একটু কাপড়ের উনিশ -বিশ হলেই কতো কথা শুনি, বলা হয় যে কাপড়ের দোষেই নাকি মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হয়, অথচ সেই একই দেশে পাহাড়ের ভিতরে কাপড় যথাযথভাবে না পরেও কেউ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে না নিজ সম্প্রদায়ের কারো দ্বারা।

পাহাড়ে বাঙালিদের বসত গড়ে দেওয়া একটা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতির অংশ ছিল, যেটা জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বর্তমানে সেই ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতিকে কে বা কারা, কীভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে, এসব নিয়ে বলতে গেলে বহু কথা সামনে চলে আসে। তাই সেসবে না যাই।

শুধু বলতে চাই, এই যে দুইদিন পরপর পাহাড়ে ধর্ষণের উৎসব হয়, এসবের বিচার হওয়া তো বহু দূরের বিষয়, বরং অপরাধীদের নামে অভিযোগ পর্যন্ত করা যায় না, দাপটের সাথে তারা চলাফেরা করে, পাহাড়ি মাল বলে জিহবায় লালা এনে উদ্যমের সাথে তারা পুনরায় আবার কোনো পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণ করে। বলি রাষ্ট্র এই ধর্ষণের উৎসব আর কতদিন চলতে দিবে? অথচ সেই পাহাড়েই কড়া নিরাপত্তার নামে মোড়ে -মোড়ে যাদের রাখা হয়েছে, তাদের নিয়েও কিন্তু কেউ কোনোদিন ভুলেও প্রশ্ন তোলার সাহস রাখেন না।

আমি ধর্ষণ সংক্রান্ত নিউজ কখনোই পুরোপুরি পড়ি না বা পড়তে পারি না। বেশিরভাগ সময় এগুলো স্কিপ করে যাই। অথচ চোখে ভাসছে শুধু ধর্ষণের শিকার এক মেয়ের পরনে রক্তাক্ত জামা, পায়জামার ভিতর দিয়ে পা গলে ঝরঝর করে পরা রক্তের ছবি!

এরই মধ্যে একটা ছবি মলিন হওয়ার সুযোগ পেলো না, অন্যদিকে সিলেটে এমসি কলেজে গ্যাং-রেপ হওয়া আর এক মেয়ে নিউজ হয়ে গেলো!

এটাই বাংলাদেশ! যেই বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী বা শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, নয়তো কাউকে কুপিয়ে মারা হয়, নয়তো কেউ লোক লজ্জায় আত্মহত্যা করে, নয়তো কেউ সালিশের মাধ্যমে ধর্ষকের সাথেই নির্যাতিত মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দেয়। সারাজীবন ধর্ষণ করার সার্টিফিকেট প্রদান করে এই সমাজ, এই দেশ!

এইদেশের প্রতিটা কোণে ধর্ষিতার কাতর চিৎকার কয়জন শুনতে পান?

শেয়ার করুন:
  • 367
  •  
  •  
  •  
  •  
    367
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.