যৌতুক, ব্রাইড প্রাইস ও ডাওয়ারের সমাজ-অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা ও কিছু ইতিহাস

সুমিত রায়:

যৌতুক একটি প্রাচীন রীতি যার ফলে কন্যা সন্তান তার পিতার মৃত্যুর পর তার পিতামাতার সম্পত্তি লাভ করে না, বরং নিজের বিবাহের পর লাভ করে। এটি এমনই একটি রীতি যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগ কোন ভূমিকা রাখে না। যৌতুক একটি বৈবাহিক তহবিল বা কনজুগাল ফান্ড প্রতিষ্ঠা করে, যার বৈশিষ্ট্য অঞ্চল ও সংস্কৃতিভেদে বিভিন্ন হতে পারে।

যৌতুক কী?

যৌতুক দ্বারা বৈধব্যদশা বা স্বামীর অবহেলার ক্ষেত্রে স্ত্রীর একরকম আর্থিক নিরাপত্তাকে বোঝানো হয়। এছাড়া এর দ্বারা সন্তান সন্ততীর জন্যেও আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতার সৃষ্টি হয়। যৌতুক দ্বারা কেবল অর্থই বোঝানো হয় না, বসবাসের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী যেমন আসবাবপত্র, এবং এমনকি পোষা প্রাণীকেও যৌতুক হিসেবে দেয়া হতে পারে।

ব্রাইড প্রাইস যৌতুক নয়

অন্যান্য প্রাচীন সংস্কৃতিতে যৌতুক বা ডাউরিকে ব্রাইড প্রাইস ও ডাওয়ার এর সাথে সম্পর্কিত করা হয়, কিন্তু এই রীতিগুলোকে ডাউরি বা যৌতুকের সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না। ব্রাইড প্রাইস বলতে বোঝায় স্বামী বা স্বামীর পরিবার বিবাহের সময় স্ত্রীর পিতামাতাকে যে অর্থ প্রদান করে সেটা। কিন্তু যৌতুক বা ডাউরির ক্ষেত্রে উলটো ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর পরিবার স্বামী বা তার পরিবারকে যৌতুক প্রদান করে। এদিকে ডাওয়ার হচ্ছে সেই সম্পত্তি যা স্বামী তার স্ত্রীকে বিবাহের সময় প্রদান করে থাকে, এক্ষেত্রে সেই সম্পত্তি স্ত্রীর অধিকারে বা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ব্রাইড প্রাইস এর রীতি সেই সব সমাজে প্রচলিত, যেসব সমাজে সম্পত্তির পরিমাণ সীমাবদ্ধ। কেননা, এক্ষেত্রে সম্পত্তি ও নারী উভয়কেই দান করা হচ্ছে ভোগ্য বস্তুর মত, সম্পত্তি ও নারীর মধ্যে এখানে বিনিময় দেখা যাচ্ছে। যেসব সমাজে সম্পদের পরিমাণ কম সেখানে নারীকে সম্পদ দ্বারা বিনিময়যোগ্য বস্তু হিসেবে দেখা হতে পারে। প্রাচীন আরবে এই প্রথা ছিল, কারণটাও পরিষ্কার, সেখানে সম্পদের পরিমাণ সীমাবদ্ধ ছিল। এর সাথে যৌতুক এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই প্রথাটি দেখা যায় সেইসব সমাজে যেখানে অনেক সম্পদ রয়েছে, সেই সব শ্রেণীতে এটি দেখা যায় বা যেত যেই শ্রেণী সম্পত্তি অধিকার করে, যেমন বাণিজ্যিক শ্রেণী বা জমিদার শ্রেণী। এক্ষেত্রে যখন পিতামাতা তাদের কন্যার বিবাহ দিতেন, তখন তারা এটাও নিশ্চিত করতে চাইতেন যাতে তাদের কন্যা শ্বসুরবাড়িতে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করে, এবং সেই সাথে অধিক যৌতুক দিয়ে তারা সাধ্যের মধ্যে সব থেকে যোগ্য পাত্রকেই খুঁজে পেতে চাইতেন। কারণ এইসব সমাজে পাত্র যত যোগ্য হয় বিয়ের বাজারে তার তত বেশি ডিমান্ড হয়, আর তার ফলে তার দামও তত বেশি চওড়া হয়। আর তার ফল হচ্ছে অনেক বেশি যৌতুক। কোন সমাজ হুট করে অনেক ধনী হয়ে গেলে দেখা যায় যৌতুকের হারও বেড়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশরা আসার পর বাঙ্গালী কায়স্থ ও পাঞ্জাবি সৈনিক পুরুষদের দাম অনেক বেড়ে যায়, তার ফলে যৌতুক ও যৌতুক প্রথাও হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল বাংলা ও পাঞ্জাবে। বাঙ্গালী কায়স্থরা সরকারের প্রশাসন বিভাগে ও পাঞ্জাবি পুরুষেরা সামরিক বিভাগে চাকরি করে নিজেদের অঞ্চলে অন্যান্য পেশার লোকজনের তুলনায় অনেক বেশি উপার্জন করা শুরু করে, হুট করেই।

আর ডাওয়ার প্রথাটা এই দুই সমাজের মাঝামাঝি অবস্থার সমাজের জন্য প্রযোজ্য বলেই মনে হয়। এক্ষেত্রে নারী সম্পত্তি হিসেবে দেখা হয় বলে তার দেহের দাম হিসেবে তাকে একটা অর্থ দেয়া হয়, কিন্তু সেই অর্থ নারীর কাছেই থাকে যা তার নিরাপত্তা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী মুহম্মদ আরব অঞ্চলে যেসব সংস্কার নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে ব্রাইড প্রাইস এর প্রথা থেকে ডাওয়ার প্রথায় রূপান্তর একটি ছিল। এটি নিঃসন্দেহে তদকালিন সমাজের পূর্বের নারীর অবস্থার একটি উন্নয়ন। এর সাথে সম্পদের পরিমাণের তুলনামূলক বৃদ্ধির সমাজ-অর্থনৈতিক সম্পর্ক জড়িত থাকতেই পারে। আগেই বলেছি, সম্পদের পরিমাণের সাথে সামাজিক প্রথাগুলো কিভাবে সম্পর্কিত হয়। স্বল্প সম্পত্তির সমাজ ও শ্রেণী অধিক সম্পত্তির সমাজ ও শ্রেণীতে গমনকালে বিবাহের আর্থিক আদান-প্রদান প্রথা ক্রমশ ব্রাইড প্রাইস থেকে ডাওয়ার হয়ে ডাউরি বা যৌতুকে পরিণত হচ্ছে। এখন যদি কোন সমাজে সম্পদের পরিমাণ কমতে থাকে তাহলে কী হবে? আবার উলটো দিকে গমন হবে। ভাল কথা, পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের কথা মনে পড়ল, সেই উপন্যাসে পদ্মার মাঝি সমাজে ব্রাইড প্রাইসের প্রথার কথা উল্লেখ আছে। মাঝি শ্রেণীতে সম্পদের পরিমাণ কম হওয়াতেই সেরকমটা দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি

যৌতুকের একটি প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে স্বামী যদি তার স্ত্রীকে কখনও অযত্ন, অবহেলা, নির্যাতন, নিপীড়ন করে, তাহলে তাকে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করা, মানে একরকম ইনশিউরেন্স পলিসি আরকি। এভাবে যৌতুক স্বামী বা তার পরিবারের জন্য একটি কনডিশনাল গিফট বা শর্তাধীন উপহার হিসেবেই কাজ করে। মানে যদি স্বামী তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়, নির্যাতন করে, বা স্ত্রীর প্রতি অন্য কোন গুরুতর অপরাধ করে তবে যৌতুকের সম্পত্তি স্ত্রী ফিরে পাবে। এভাবে যৌতুক প্রদানের দ্বারা স্ত্রীর পিতামাতা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করছে যার ফলে তাদের কন্যাকে তার স্বামী কোন ক্ষতি না করে।

যৌতুক নতুন স্বামীকে তার নববিবাহিত জীবনে স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনেও অনেক সময় সাহায্য করে। সেইসব সমাজে যৌতুকের এই ভূমিকাটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেসব সমাজে প্রায়ই খুব তরুণ তরুণির মধ্যে বিবাহ সংগঠিত হত। এই যৌতুক নতুন যুগলের জন্য আবাসস্থল তৈরির সুযোগ করে দিত, যা যৌতুক ছাড়া প্রায় অসম্ভব হত। অনেক ক্ষেত্রে আবার যৌতুক স্ত্রীকে স্বামীর মৃত্যুর পর নিজের ভরনপোষণে সাহায্য করত। এক্ষেত্রে যৌতুককে স্বামীর সকল বা আংশিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিকল্প হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

অনেক সময় স্বামী ব্রাইড প্রাইস দিলে বা স্ত্রীর ভাত কাপড়ের দায়িত্ব নিলে তার বিনিময় হিসেবে মেয়ের পরিবারের প্রদত্ত হিসেবে দেখা হয় যৌতুককে। এক্ষেত্রে এটি বিয়ের একরকম বৈধতা দান করে ও দুই পরিবারের মধ্যকার বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করে। সেই সাথে দুই পরিবারের মধ্যে স্বীকৃতির অনুভূতি বা সেন্স অফ রিকগনিশনও তৈরি করে।

যৌতুক একটি প্রাচীন রীতির অংশ

যৌতুক দেবার প্রথার কথা পৃথিবীর প্রাচীনতম আইনগুলোতে, যেমন প্রাচীন ব্যাবিলনের হাম্বুরাবির আইনে বলা হয়েছে। সাধারণত নারীরা পৈতৃক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতো না, কিন্তু বিবাহের সময় তারা তাদের পিতামাতার থেকে যৌতুক লাভ করতো। এক্ষেত্রে কন্যার আজীবন নিরাপত্তা প্রদানের জন্য তার পিতামাতা সাধ্যমত যৌতুক প্রদানের চেষ্টা করতো।

পারিবারিক সম্পত্তি হিসেবেই স্ত্রীর এই যৌতুক স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকতো। কিন্তু যদি কারণ ছাড়া স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতো, তাহলে স্বামীকে তার স্ত্রীকে তার আনা যৌতুক ও ব্রাইড প্রাইস উভয়ই পরিশোধ করতে হতো। যদি নারী সন্তানহীন হয়ে মারা যেত, তবে যৌতুক স্ত্রীর পরিবারকে ফিরিয়ে দেয়া হতো।

প্রাচীন গ্রীসে ব্রাইড প্রাইস দেয়াই প্রচলিত রীতি ছিল। লেইট ক্লাসিকাল পিরিয়ডের (খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতক) পূর্বে সেখানে যৌতুক বা ডাউরির রীতি আসেনি। সেই সময় স্ত্রীর যৌতুকে স্বামীর নির্দিষ্ট কিছু অধিকার থাকতো। সেই সাথে, স্ত্রী বিয়ের সময় তার নিজের সম্পত্তি নিয়ে আসতে পারত, যা কেবলই তার, এবং যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই সম্পত্তিটি ছিল “যৌতুকের ঊর্ধ্বে” বা “বিয়ন্ড দ্য ডাউরি” এবং একে প্যারাফারনালিয়া প্রোপার্টি বা এক্সট্রা-ডোটাল প্রোপার্টি বলা হতো।

যৌতুকের এই প্রথাটি প্রাচীন রোমেও ছিল যেখানে কনে বা তার পক্ষ থেকে কেউ বরকে বা বরের পিতাকে বিবাহের সময় সম্পদ প্রদান করত। রোমান যুগে যৌতুক খুব সাধারণ প্রতিষ্ঠান ছিল এবং এক্ষেত্রে বিবাহের পর একটি নতুন বাসস্থান তৈরিতে কনেপক্ষ এর খরচের একটি অংশ প্রদান করবে তা আশা করা হতো। এক্ষেত্রে যৌতুক যেকোন ধরনের সম্পত্তি হতে পারতো, আর কেবল কনের পরিবার থেকেই যে যৌতুক আসত তা নয়, কনের পক্ষ থেকে যে কেউ নিজের সম্পত্তির অংশ দান করতে পারতো।

পরবর্তী যুগের যৌতুক রীতি

মধ্যযুগের ইউরোপে যৌতুক প্রথা সমস্ত ইউরোপ জুড়ে প্রচলিত ছিল, এবং এটির ভূমিকা কেবল নারীর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতেই ছিল না, সেই সাথে অভিজাত বা বড় বড় পরিবারগুলোর ক্ষমতা ও সম্পত্তি বৃদ্ধিরও একটি উপায় ছিল। এমনকি কেবলমাত্র যৌতুকের কারণে যে সম্পত্তির হস্তান্তর বা পরিবর্তন হতো তা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও এভাবে রাষ্ট্রের নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতো। মধ্যযুগে অভিজাত ও রাজকীয় পরিবারের কনেদের জন্য বিশাল পরিমাণে যৌতুক প্রদানই স্ট্যান্ডার্ড ছিল। আর কয়েক শতক পর ইংল্যান্ডে যদি রীতিসিদ্ধ বা পূর্ব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যৌতুক কেউ প্রদান করতে ব্যর্থ হতো তাহলে বিয়েই ভেঙ্গে যেত।

সুমিত রায়, লেখক

রেনেসাঁ এর সময় একজন অবিবাহিত নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণের শাস্তি ছিল যে, অপহরণকারী বা ধর্ষককে সেই নারীর বিবাহের যৌতুকের অর্থ প্রদান করতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে নানদেরকে কোন সন্ন্যাসিনী সংঘে যোগ দান করতে হলে যৌতুক প্রদান করতে হতো। এই ধরনের প্রথার কথা শুনে আপনার অবাক লাগতে পারে। কনেকে স্বামীর বাড়িতে যেতে না হয় যৌতুক লাগলো, কিন্তু সন্ন্যাসিনীকে ঈশ্বরের বাড়িতে যেতে যৌতুক লাগবে কেন? তখনকার সামাজিক অবস্থার কথা ভাবলেই উত্তরটা পেতে পারেন। সেইসময় যেহেতু কন্যা সন্তানের পিতামাতাদের অবধারিতভাবেই যৌতুকের চাপ বহন করে চলতে হতো, তাই একাধিক সন্তান হলে তারা তুলনামূলক সুন্দরী সন্তানকে বেশি যৌতুক দিয়ে ভালো পাত্রের হাতে ধরিয়ে দিতে চাইতো, আর বিনিময়ে কম সুন্দরী কন্যাটিকে নান বানিয়ে কনভেন্ট বা সন্ন্যাসী সংঘে পাঠাতে চাইতো, কারণ নানদের ক্ষেত্রে আর যৌতুক লাগে না। মানে বুঝতেই পারছেন, যৌতুক প্রথা যে সমাজে প্রচলিত তাতে সুন্দরীদের কপালেই অধিক যৌতুকের মাধ্যমে “যোগ্য” স্বামীপ্রাপ্তির সৌভাগ্য হয়। এদিকে যারা কম সুন্দরী তাদের ভাগ্যে জোটে যৌনতাহীন বাধ্যতামূলক সন্ন্যাসজীবন, কারণ তাতে যৌতুক লাগে না।

যাই হোক, তখন যারা ধর্মের হর্তাকর্তা ছিলেন, তাদের কাছে ব্যাপারটা ভালো ঠেকেনি, অনেকটা স্বার্থপর আচরণ লেগেছে, নান হওয়া উচিৎ পবিত্র হৃদয় থেকে, চাপ থেকে নয়। তাই তারা নিয়ম করে দেয় এখন থেকে নান হতে গেলেও যৌতুক দিতে হবে। এর ফলে কম সুন্দরী মেয়েদের ভাগ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল অনুমান করা যায়।

ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডে উচ্চবিত্তরা যৌতুককে কন্যাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারের অগ্রিম পরিশোধ বা আর্লি পেমেন্ট হিসেবে দেখতেন। বিবাহের এই আর্থিক দিকটি নিয়ে আজকের প্রিনাপশিয়াল এগ্রিমেন্টের মত খোলামেলা আলোচনা হতো। উভয় পক্ষ থেকেই এই অর্থের পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষি করতো।

এক্ষেত্রে পুরুষকে প্রমাণ করতে হতো সে কতটা মূল্যবান, পাত্রী তার পিতার গৃহে যেরকম জীবন যাপনে অভ্যস্ত সেরকম জীবন তিনি তার স্ত্রীকে দান করতে পারবেন কিনা। এক্ষেত্রে নারী প্রায়ই যৌতুককে প্রলোভন হিসেবে ব্যবহার করে তার সামাজিক মর্যাদাকে উন্নত করতে চাইতো। অনেক সময় ধনীরা দান বা চ্যারিটি হিসেবে দরিদ্র নারীকে যৌতুকের অর্থ দিয়ে দিত, এতে সেই নারী ভাল মানের স্বামী পাবেন, শ্বশুরবাড়িতে ভাল মর্যাদা নিয়ে থাকতে পারবেন ভেবেই এই দান করা হতো।

এখনও এই ঐতিহ্য দেখা যায়

১৯শ শতকের শেষ ও ২০শ শতকের শুরুতে ইউরোপে যৌতুকের এই রীতি ক্ষীণ হতে শুরু করে। তবে অন্যান্য স্থানে, বিংশ শতাব্দীর শেষে যৌতুকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় – এমনকি রাষ্ট্র কর্তৃক যৌতুক নিশিদ্ধ ও নিরুৎসাহিত হলেও এটির রীতি সেইসব স্থানে বৃদ্ধি পায়।বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যৌতুক প্রথা এখনও সাধারণ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে এটি প্রচলিত।

যৌতুকের প্রত্যাশা, দাবি এই অঞ্চলগুলোর অনেক স্থানেই খুব স্বাভাবিক, কিছু এলাকায় যৌতুককে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করার একটি শর্ত হিসেবে দেখা হয়। এই বিষয়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে যে এখনো বিশ্বের কিছু অঞ্চলে যৌতুক সংক্রান্ত কারণে মৃত্যু ঘটে।

সাধারণভাবে উন্নত বিশ্বে আজকের মানুষেরা যৌতুকে বিশ্বাস করে না, কারণ এটি নারীদের অপসারণ এবং তাদের স্বামীর উপর তাদের সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতাকে সমর্থন করে। যৌতুক শেষ পর্যন্ত লিঙ্গের সমতার জন্য দীর্ঘ লড়াইকে অস্বীকার করে এবং ভুলভাবে নারীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে, আর কিছু চরমক্ষেত্রে এই চর্চা সহিংসতার সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.