নখ দাঁত যখন কমেন্ট বক্সে!

রোকসানা বিন্তী:

ঈশ্বর থাকেন ভদ্রপল্লীতে! আর সাকিব আল হাসানের কন্যা থাকেন আমেরিকায়! তিনি কোনদিন বাংলাদেশে বসবাস করতে আসবেন কিনা সন্দেহ! তাই বাংলায় লেখা কয়েকটা মন্তব্যতে সাকিব আল হাসানের স্ত্রী বা কন্যার কিছু এসে যায় না! আমজনতার ক্ষমতা কেবল অনলাইনের কমেন্ট বক্সেই! সারাজীবনে মহাতারকাদের একবার চোখের দেখাটাও দেখতে পারবে কিনা সন্দেহ!

কিন্তু আমার কিংবা আপনার সন্তান হয়তো বাংলাদেশেই বড় হবে, পাট আর সূর্যমুখীর পার্থক্য না বোঝা মানুষজনের সাথে বাসে উঠতে হবে, ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে, চাকরি করতে হবে! তাই আমাকে প্রতিবাদ করতেই হবে! কারণ আমি চাইবো না আমার সন্তান এরমধ্যে বড় হোক! আমি চাইবো আমার সন্তান বেড়ে উঠার জন্য একটা সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ যেন পায়! তাই আমি প্রতিবাদ করবোই তা আপনারা সেটাকে “কচলানো ” বা “চ্যাবানো” যাই বলেন না কেন! শিশির মা হিসেবে তার সন্তানের ভালোটা দেখেছেন,আমি মা হিসেবে আমার সন্তানের ভালোটা চাইবো! তা আপনারা কমেন্ট বক্সে যতই নখ দাঁত নিয়ে বসে থাকুন না কেন!

কে কী বিষয় নিয়ে লিখবে তা নিয়ে কাউকে উপদেশ দেয়ার কোনো প্রয়োজন কারো নেই! শিশির চার পাঁচটা কমেন্টকে হাইলাইট করাটা খারাপ চোখে দেখেছেন বলে প্রতিবাদী নারীকুলকে আপনারা ঘেউ ঘেউ করা কুত্তা বলছেন! পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছেন পাট আর সূর্যমুখীর পার্থক্য না বোঝা ব্যাক্তিবর্গকেই! যেন চার পাঁচটা কমেন্টের প্রতিবাদ করা একটা বড় অপরাধ! অথচ নাসিরের বোন কিংবা তাসকিনের সন্তানের বিষয়ে কমেন্ট কিন্তু চার পাঁচটা ছিল না! শত শত কমেন্ট তাদের বিব্রত করছে! নৈতিকতার একেকজন অবতার যেন মন্তব্য লিখে যায় কমেন্ট বক্সে!

কমেন্ট বক্সে নখ দাঁত বের করে একজন নারীকে আক্রমণ করা ব্যক্তিদের জন্ম প্রক্রিয়াটা খুব জানতে ইচ্ছে করছে! তারা কি কোনো নারীর গর্ভে জন্ম নেন নাই? তাদের কি পরিবার নেই? তাদের কি কোন নারী ভাই বলে ডাকে না? তারাও তো কোনো না কোনো নারীর প্রেমিক বা প্রিয়তম স্বামী! তাহলে তারা কীভাবে অন্য একজন নারীকে অসম্মান করে? তারা কি জীবনে কেবল মিয়া খলিফা আর সানি লিওনিকেই দেখেছে?

মাদার তেরেসা বা বেগম রোকেয়ার নাম কি তারা কখনো শোনেনি? একজন সাবরিনা কিংবা পাপিয়াকে দিয়ে কি জগতের সমস্ত নারীকে বিচার করা যায়? যদি তাই হয় তাহলে আপনার মা, বোন, স্ত্রীও তো ওই দলেই পড়ে যাচ্ছে! তাদেরকে যদি কেউ কমেন্টে নখ দাঁত শানিয়ে আক্রমণ করে আপনার কেমন লাগবে? কী করবেন তখন? শাসন? ফেসবুক ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করবেন? মোবাইল বাজেয়াপ্ত করবেন? তাতে যে মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলার মতো ঘটনা ঘটবে আর আপনার সমর্থন নিপীড়কের দিকেই চলে যাবে!

সবারই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার অধিকার আছে! অধিকার আছে মত প্রকাশেরও! যত মত তত পথ! অন্যের মতামত, কর্মকাণ্ড কিংবা আপলোড দেয়া ছবি আপনার পছন্দ না হতেই পারে! তাই বলে বিশ্রী ভাষায় আক্রমণ করাকে নৈতিক দায়িত্ব মনে করবেন না! ভালো না লাগলে প্রয়োজনে এড়িয়ে যাবেন কিন্তু দয়া করে নখ দাঁত বের করে আক্রমণ করবেন না!

আজ আপনি হয়তো আক্রমণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন, কিন্তু আগামীকাল আপনার দেখানো পথে আপনারই পরিবারের কোনো নারী সদস্য হতে পারে এর ভিকটিম! তারচাইতে সুস্থ ও স্বাভাবিক উপায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করাই উত্তম!

শেয়ার করুন:
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.