টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই কার্যকরি জেন্ডার বাজেট

ইসরাত জাহান তানজু:

বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সামাজিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য উদাহরণস্বরূপ। একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হলেও ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে সকল অগ্রাধিকার পেতো, ভবিষ্যতে তা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই অবস্থায় দেশের জাতীয় আয় বৃদ্ধির বিকল্প কোনো উপায় নেই। কিন্তু জাতীয় আয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে বৃদ্ধি করা সম্ভব না, যদি না সমাজে বিদ্যমান জেন্ডার বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা যায়। জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজন প্রতিবছর যথাযথ জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন; বাস্তবায়ন; তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংরক্ষণ ও মনিটরিং।

জেন্ডার বাজেট বলতে নারীর জন্য পৃথক কোনো বাজেটকে বোঝায় না, বরং নারী ও পুরুষের ওপর বাজেটের যে পৃথক প্রভাব এবং নারী ও পুরুষের চাহিদার যে ভিন্নতা সেটিকে আমলে নিয়ে বাজেট বরাদ্দকে বোঝায়।অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক নানা সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশে নারী-পুরুষের অবস্থান আলাদা। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০১৮ অনুসারে জেন্ডার অসমতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬ তম। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নারীর সম্পৃক্ততা পুরুষের তুলনায় খুবই নগণ্য। দেশর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি যেখানে নারী, সেখানে শ্রমশক্তিতে নারী অংশগ্রহণ মাত্র ৩৬.৬ শতাংশ। পুরুষের অংশগ্রহণ ৮০ শতাংশ। মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হতে চাইলে নারী ও পুরুষের অবস্থা ও অবস্থানের ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে।

বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সম্পদ বন্টন, ব্যয় বরাদ্দ প্রণয়নে সরকার জেন্ডার সংবেদনশীল হলে নারী-পুরুষের বৈষম্য অবশ্যই কমিয়ে আনা সম্ভব।সরকারের বিগত বছরগুলোর বাজেটের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখবো জেন্ডার বাজেটিংয়ের প্রথম বছরে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৭,২৪৮ কোটি টাকা। যা তৎকালীন জাতীয় বাজেটের ২৪.৬৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.৯৫ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জেন্ডার খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৬৪,০৮৭ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ সালে ৪০ টি মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার বাজেটিংয়ের আওতায় আনা হয়। মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯২,৭৬৫ কোটি টাকা। যা ছিল মোট বাজেটের ২৭.২৫% এবং জাতীয় আয়ের (জিডিপির) ৪.৭৩ শতাংশ। এটি ছিল ২০১৫-১৬ অর্থবছরে গৃহীত জেন্ডার বাজেটের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি।২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও তিনটি মন্ত্রণালয়সহ মোট ৪৩ টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন করা হয়। ৫,২৩,১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ের এই বাজেটে পরিচালন ব্যয় ৬১.৩ শতাংশ আর উন্নয়ন ব্যয় ৩৮.৭ শতাংশ ধরা হয়। এর মধ্যে নারীর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ৩০.৮২ শতাংশ। যা ছিল মোট জিডিপির ৫.৫৬ শতাংশ।

দেখা যায় বিগত দশ বছরে জেন্ডার খাতে বাংলাদেশের বার্ষিক বরাদ্দ গড়ে ২২ শতাংশ বেড়েছে। বাজেটে নারীর হিস্যা টাকার অংকে ও শতকরা হারে বেড়েছে। কিন্তু কাজে-কর্মে বাড়েনি। সামাজিক,রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী -পুরুষের বৈষম্য আশঙ্কাজনক হারে বিদ্যমান। যা চলমান থাকলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে ছিটকে যেতে পারে মধ্যম আয়ের দেশেের কাতার থেকে। এজন্য সরকারকে বিভিন্ন নারীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিগত কয়েক বছরে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, তবে এই হার খুবই নগণ্য। হার কিছুটা বাড়লেও কার্যকর, অর্থবহ ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়নি। সংরক্ষিত আসনে যে সকল প্রার্থী নির্বাচিত হন সংসদে তাদের উপস্থিতি, কর্মতৎপরতা, জনসম্পৃকতা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। এর ফলে তারা নিজেদের জনগণের প্রতি কম দায়বদ্ধ মনে করছেন ও নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। পাশাপাশি সাধারণ আসনে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের সংখ্যা যেমন কম, তেমনি সংসদে তাদের ক্ষীণ কর্মস্পৃহা প্রমাণ করে -আমাদের দেশের জেন্ডার বৈষম্য আসলে কতটা প্রকট।

ইসরাত জাহান তানজু

স্থানীয় পর্যায়ে নারী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ খুবই হতাশাজনক। তাদের খুব কম সংখ্যকই জেন্ডার বাজেট বিষয়ে ধারণা রাখেন। যে কারণে তারা স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এছাড়া প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা যেমন -যোগ্যতা, দক্ষতা, ক্ষমতা ও সামর্থ্যের অভাব; কাজ করার ইচ্ছা, মানসিকতা ও আন্তরিকতার অভাব; বিভিন্ন কাজের জন্য পুরুষদের প্রতি নির্ভরশীলতা এক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে কাজ করে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নারী প্রতিনিধিদের সচেতনতা বাড়াতে হবে; তাদের ক্ষমতা, মর্যাদা, সম্মানী বৃদ্ধি করতে হবে। তাদেরকে তাদের দায়িত্বগুলো পুরোনো জানাতে হবে। অর্থনৈতিক খরচ ও বাজেট সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে তাদের কর্ম স্পৃহা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সৎ,যোগ্য, নিষ্ঠাবান প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নারীর সামাজিক ক্ষমতায়ন ব্যতীত জেন্ডার বৈষম্য দূর করা আদৌ সম্ভব না। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ শিক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধ করতে হবে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার রোধ করা, নারী বলে কোনো শিশু যাতে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, চিকিৎসা, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারগুলো থেকে নারীরা যাতে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের কড়া নজর রাখা জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে অর্থ বন্টনের ক্ষেত্রে নারীর জন্য আলাদা বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে হবে।

তবে আশাজনক বিষয় হলো- ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে সরকার বিশেষ বিশেষ মন্ত্রণালয়ভিত্তিক জেন্ডার বাজেট প্রনয়ন করে আসছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন হয় ৪৩টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে। নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও বৈষম্য দূর করার জন্য ৪৩টি মন্ত্রণালয়কে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়। এগুলো হলো-

১. নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি: নয়টি মন্ত্রণালয়কে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই বিভাগের ১১০,০৩৩ কোটি টাকার মধ্যে জেন্ডার বরাদ্দ ছিল ৫৪,৪৮৮ কোটি টাকা। ২. সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে নারীর সুযোগ বৃদ্ধি ও আয়বর্ধক কাজে নারীর অংশগ্রহণ: ২৫ টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে গঠিত এই বিভাগে ১৬২,৭৩৭ কোটি টাকার মধ্যে জেন্ডার বরাদ্দ ছিল ৮৬,০১১ কোটি টাকা। ৩. উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ: ৯ টি মন্ত্রণালয়কে নিয়ে গঠিত এই বিভাগে ৬৩,৩০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে জেন্ডার বরাদ্দ ছিল ২৯,৭৪৮ কোটি টাকা।

জেন্ডার সমতা অর্জনে নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বেগবান করতে হবে। নারীর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার হার বৃদ্ধি,সৃজনশীল ও কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।গবেষণামূলক ও উন্নয়নমূলক কাজে তাদের অংশগ্রহণ জোড়দার করতে হবে। বেশি বেশি নারী উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে তাদের জন্য কম সুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নারীর উৎপাদিত পন্য বা সেবা প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন, ভোক্তা সাধারণের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন ধরনের নারীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং কালক্রমে তার দেশের বাইরে সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।শ্রমবাজারের মজুরি বৈষম্য নারীদের অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। মজুরি বৈষম্য দূর করে তাদের ন্যায্য মজুরির ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় কাজ করিয়ে তাদের শোষণ করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে।

নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য চিকিৎসা খাতে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেতে হবে। শিশু অবস্থায় প্রয়োজনীয় সকল টিকা ও স্বাস্থ্যসেবা বিনামুল্যে প্রদান, দরিদ্র পরিবারের জন্য শিশু খাদ্য প্রদান করতে হবে। গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বল্প খরচে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিদ্যালয়গুলোতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের দেশে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে একটি করে ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাব ও জনগণের অজ্ঞাতার কারণে ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছুচ্ছে না। তাই ক্লিনিকগুলোকে কার্যকর করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচী সম্প্রসারণ করতে হবে। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এই সেবার আওতায় আনতে হবে। জনপরিসর বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা করতে হবে। স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদনে ভর্তুকির ব্যবস্থা করলে বাজারে এর সহজলভ্যতা বাড়বে।ফ লে সুলভ মূল্যে কেনা যাবে।

সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা রাস্তা-ঘাটে তারা যাতে ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় থানা পুলিশের কড়া টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মস্থলে তারা যাতে হেনস্থার শিকার না হয় সেজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন থাকা প্রয়োজন। নারীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়ে ন্যায্য বিচার পায়, সেজন্য আইনগত সুবিধা প্রদান করতে হবে।

দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দুঃখ-দুর্দশা,অভাব দূর করতে, প্রান্তিক জনগণের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায়নের জন্য সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (এনএসএসএস) খুবই প্রসংশার দাবিদার। এর মাধ্যমে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে যাবতীয় সমস্যা মোকাবিলায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী নিগৃহিতাদের জন্য ভাতা, দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্ব ভাতা, অস্বচ্ছল-প্রতিবন্ধী ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মায়েদের ভাতা, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় খাদ্য ও আয় বৃদ্ধিমূলক কাজে সহায়তা প্রদান কর্মসূচিগুলোর প্রকৃত উপকার যাতে নারীরা পায় তার প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। এজন্য কার্যকর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলতে সৎ, যোগ্য, দক্ষ স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল সরকারের আর্থিক সহায়তা দিলেই হবে না, নিজেদের অধিকার, জীবন, জীবিকা সংরক্ষণে নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন সেমিনার বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদেরকে জ্ঞান প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের উন্নয়নকে টেঁকসই করতে প্রবৃদ্ধিতে থাকা চাই নারী-পুরুষের সমান সমান অবদান। জেন্ডার শব্দটির তথাকথিত সংজ্ঞায় নারী-পুরুষের ভূমিকা নির্ধারণ করার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরকারকে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। বরাদ্দকৃত বাজেট উপকারভোগীদের হাতে গিয়ে পৌঁছুচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে সমাজে নারী অধিকারগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব। তাহলেই জেন্ডার বৈষম্যহীন,উন্নত,সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমরা নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারবো।

শিক্ষার্থী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.