কন্যা সন্তানটিকে ‘আত্মবিশ্বাসী’ হিসেবে বড় করুন

পলি শাহীনা:

গুমোট আবছায়া দিন। শীতকাল। জানুয়ারি মাসের হাড় কাঁপানো শীতের সকাল। তার উপর আকাশে ভারী মেঘেদের ঝাঁক এলোমেলো ভাবে উড়ছে। যেকোনো সময় বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে ধরার বুকে। এমন দিনে মনে অসাড়তা ভর করাটাই স্বাভাবিক। শীত মানে জ্বরা। শীত মানে ডালপালা থেকে খসে পড়া শুকনো পাতা। শীতের কুয়াশা ঢাকা শহর, সূর্য মেঘে ঢাকা। সকাল বেশ আগে হলেও, মেঘের আধিপত্য কাটিয়ে সূর্য তখনও আলো বিলাতে সক্ষম হয়নি। এমন দিনে ইচ্ছে হয় ঘরের প্রিয় কোণে বসে গরম চায়ের পেয়ালা হাতে প্রিয় বই কিংবা প্রিয় গানের সঙ্গে সময় কাটাই। ইচ্ছে এবং বাস্তবতার মধ্যে বিরাট তফাৎ। জীবনের বাস্তবতার কাছে প্রিয় ইচ্ছেরা ধূসর হয়ে যায়। ঘরের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য বেরিয়ে পড়ি রাস্তায়। কয়েক হাত দূরেও ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। শীতের কেতাদুরস্ত পোশাকে আবৃত সবাই। আমি নিজেও।

পথে দেখা শায়লা আন্টির সঙ্গে। অবশ্য উনি নিজ থেকে না ডাকলে আমি তাঁকে দেখতেই পেতাম না। উনি আমার পূর্ব পরিচিত। চিনি বেশ অনেক বছর থেকে। আন্টি ইদানিং ডায়াবেটিসসহ নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এমন বিরুপ আবহাওয়ায় তাঁকে রাস্তায় দেখে ভাবলাম হয়তো হাঁটতে বের হয়েছেন। কুশলাদি বিনিময়ের পর বিদায় নিতে চাইলে উনি আমার হাত চেপে ধরেন, কিছু সময় তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য। স্নেহময় কন্ঠে বললেন, চলো দু’জন একসাথে কিছু পথ হেঁটে আসি। আন্টি খুব আদর করেন আমাকে। তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হয়ে গেলাম।

শীতের তীব্রতা মাড়িয়ে আমরা দু’জন পাশাপাশি হাঁটছি। কারও মুখে কথা নেই। আন্টিকে বিষাদ গম্ভীর দেখাচ্ছে। তাঁকে অন্যমনস্ক দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কি মন খারাপ? নাকি শরীর খারাপ? দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, মেয়ে মানুষের শরীর, মন খারাপ হলেই কী? না হলেই কী? তাদের শরীর, মনের খবর রাখে কে? মেয়ে মানুষের শেষ পর্যন্ত নিজের বলতে কী থাকে, বলতে পারো? তাঁর প্রশ্নগুলো শুনে আমি অস্বস্তিতে পড়ে যাই। আবার দু’জন কিছু সময়ের জন্য চুপসে যাই। নীরবতা ভেঙে বললাম, শরীর খারাপ হতে পারে। কিন্তু আপনার মন কেন খারাপ হবে? একমাত্র ছেলেকে বিয়ে করালেন। মেয়ে ভালো ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। আপনি আর আংকেল দু’জন মানুষ। এখন তো আপনাদের সুখের সময়। দু’জন মিলে আনন্দের ভেলায় ভাসবেন। জীবনকে প্রাণভরে উপভোগ করবেন। একটাই তো জীবন। এই জীবনকে নিংড়ে নিংড়ে অনুভব করবেন।

আমার কথাগুলো শুনে আন্টির হাঁটার গতি মন্থর হয়ে এলো। শূন্যে তাকিয়ে বললেন, ‘জীবনকে উপভোগ করতে যোগ্যতা লাগে রে মা। যে যোগ্যতা সবার থাকে না। সে মানসিক গঠন সবার তৈরি হয় না। মানসিক গঠন এমন একটি জিনিস যা ছোটবেলা থেকে একটু একটু করে গড়ে উঠে। হঠাৎ করেই কারো মন মানসিকতা যেমন গঠন করা যায় না, তেমনি পরিবর্তনও হয় না। ছোটবেলা থেকে যে যেভাবে গড়ে উঠে জীবনের বড়বেলায় তার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবে। ব্যতিক্রম আছে। তবে তা খুবি নগণ্য। এই যে দেখো, আমি নিজেই। ছোটবেলায় যেভাবে বেড়ে উঠেছি, আজও তা থেকে বের হতে পারিনি। এমনকি নিজের প্রয়োজনেও না। বুঝতে পারি বের হওয়া দরকার। কিন্তু শক্তি, সাহস কোনটাই পাই না। ওই যে ছোটবেলা থেকেই পরিবারে ভীতু হয়ে বড় হয়েছি। ভয়ের সে বৃত্ত থেকে বের হতে পারি না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিৎ জানি, তাও পারি না। মুখ বুঁজে সহ্য করি।’

বিস্ময়ের স্বরে জানতে চাইলাম, কী অন্যায় সহ্য করেন মুখ বুঁজে? কে অন্যায় করে? আন্টির উত্তর, দুর্বল মেয়েদের উপর জীবনভর অন্যায় চলতেই থাকে। মৃত্যুতে মুক্তি মেলে তাঁদের। জীবনের প্রথমাংশে পরিবার, মাঝখানে স্বামী, সমাপ্তি টানে সন্তানেরা।

শুষ্ক ঠোঁটের কোণে নকল হাসি ঝুলিয়ে আন্টি বলেন,’দুর্বল মেয়েরা শুধু কাঁদতে জানে। চোখের পানি শুকিয়ে গেলে আমার মতো রাস্তায় নেমে আসে, কিছু সময়ের জন্য খোলা আকাশের নিচে শ্বাস নিতে। তারপর আবার ফিরে যায় গতানুগতিক সে জীবনের কাছে। এছাড়া অন্য কোন উপায়ও যে থাকে না তাঁদের।’

আন্টির কথা শুনতে শুনতে আমি প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও ঘামতে থাকি।

আন্টির বুকে স্তরে স্তরে জমে থাকা কষ্টের বরফ যেন গলতে শুরু করেছে। উনি একনাগাড়ে বলে গেলেন, ‘আমার এরেঞ্জ ম্যারেজ। পরিবারের ইচ্ছেতে বিয়ে হয়। অচেনা, অজানা মানুষটার সঙ্গে পথ চলতে গিয়ে প্রথম দিন-ই হোঁচট খাই। আমার সঙ্গে তাঁর অস্বাভাবিক আচরণে কষ্ট পাই। ভেঙ্গে পড়ি।কাউকে কিছুই জানালাম না। ওই যে পরিবার থেকে শিখিয়ে দিয়েছে, মানিয়ে চলতে হবে। বিয়ের প্রথম দিন থেকে মানিয়ে চলার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে পড়ি। দিনের পর দিন মানিয়ে চলার জন্য সবকিছুতে ছাড় দিতে দিতে একসময় নিজেকে আবিষ্কার করি সমুদ্রের মাঝখানে। তীরে আসার মতো আমার হাতে তখন আর কিছুই নেই। পরিবার থেকে শিখিয়ে দেয়া ‘মানিয়ে চলো’ মন্ত্রে আমি ডুবে যাই। মানিয়ে চলতে চলতে আজ ছাই ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই আর।

এখন বয়স হয়েছে। ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিজেদের জীবনে। আগের মতো খাটতে পারি না ঘরে-বাইরে। যত বেশি কাজ করতে পারি, তত বেশি খুশি থাকেন তোমার আংকেল। শরীরে রোগ -বালাই বাসা বেঁধেছে। মনের শক্তি আরো কমেছে, সঙ্গে তোমার আংকেলের চক্ষুশুল হয়ে উঠেছি। শরীরের ভালোমন্দ খবর কখনো জানতে না চাইলেও, পান থেকে চুন খসলে কটু কথা শুনাতে এক বিন্দুও পিছপা হয় না। ধরো, ঘরের দশটি দরকারি জিনিসপত্রের মধ্যে একটি নেই, তার জন্য চিৎকার, চেঁচামেচি করে ঘর উত্তপ্ত করে তুলবে। নয়টা ভালো কাজের জন্য প্রশংসা না করলেও, একটা ভুল কাজের জন্য অনর্গল কথা শুনিয়ে যাবে। তোমার আংকেল যখন বাইরের মানুষের সাথে কথা বলে, আমি তখন তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি। গত পঁয়ত্রিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে যে হাসিমুখ আমি কোনদিন দেখিনি। সবার জন্য সে দানবীর মানুষ ঠিকই, কিন্তু আমার প্রয়োজনে কিছু চাইলে তার হাজারটা অভাব, অনটনের ফর্দ হাতে ধরিয়ে দিবে। আসলে আমার যে কোনো চাওয়া থাকতে পারে, সে অনুভূতিটকুও কোনদিন তার মাঝে দেখিনি। না পেতে পেতে আমার প্রত্যাশাগুলোও সে কবেই মরে গেছে। এটিও আমার পরিবার থেকে শেখা। মেয়েদের ইচ্ছের কথা মুখ ফুটে বলতে নেই।
তার মুখ থেকে ‘ভালোবাসি’ শব্দটি শুনেছি কিনা মনে পড়ে না। তবে অসংখ্যবার কোন বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলেই, তার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা শুনেছি।

বলতে পারো, মেয়েদের নিজের ঘর কোথায়? আমার নিজের কোন ঘর নেই। তাই এই শীতের মধ্যে রাস্তায় নেমে এসেছি মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবো বলে। তার ঘরে দম বন্ধ হয়ে আসছে। হাসফাঁস লাগছে। বিতৃষ্ণা চলে এসেছে জীবন, সংসারের প্রতি। ইচ্ছে করে সমাজ, সংসার নামক এই জেলখানা থেকে বেরিয়ে দূরে কোথাও চলে যাই। যেখানে আমার মতো আত্মবিশ্বাসহীন দুর্বল এই মানুষটিকে কেউ চিনবে না। তাও যে পারি না রে মা। জগতে হারিয়ে যেতে সবচেয়ে বেশি সাহস লাগে। সে সাহসও যে জীবনে সঞ্চয় করিনি। তাই হারিয়েও যেতে পারি না। মুক্তি বলতে আমার শুধু গন্তব্যহীন এই খোলা রাস্তা। ‘

আন্টির কথাগুলো শুনে বোবা হয়ে গেলাম। তাঁকে বলার মতো কোন কথা খুঁজে পেলাম না। কী এক যন্ত্রণাদায়ক জীবন পার করছেন নীরবে। তাও মিনমিনে কন্ঠে বললাম, আন্টি দেরিতে হলেও আপনার এখন প্রতিবাদ করা উচিৎ। অসহায়ের মতো আন্টির একই উত্তর, প্রতিবাদ করার মতো শক্তি, সাহস নিয়ে যে বেড়ে উঠিনি। প্রতিবাদ করার জন্য যথেষ্ট সবল হতে হয়। ওই যে ছোটবেলা থেকে নিজেকে ‘অবলা’ ভেবে বড় হয়েছি। বাবা-মা ঘরে যতটা মনোযোগ দিয়েছেন ভাইদেরকে শক্তিশালী ও স্বনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য, ঠিক ততটাই অমনোযোগী ছিলেন মেয়ের প্রতি। বাবা-মা ছেলেকে বড় করেছে প্রভু সম্পন্ন মনোভাব দিয়ে, আর মেয়েকে বড় করেছে দাসত্বের চেতনায়। বেশীরভাগ পরিবারে আজো মেয়েটিকে বড় করা হয় অন্যের ঘরে গিয়ে দাসত্ব করার জন্য। ছেলেটিকে বড় করা হয় কতৃত্ব ভাব দিয়ে। আমার পরিবারও এর বাহিরে ছিল না রে মা।

আমি আর শুনতে পারছিলাম না। আভিজাত্যপূর্ণ এই নিউইয়র্ক শহরটাকে আমার কাছে এক মন খারাপের বিষন্ন নগরী মনে হতে লাগলো। আন্টির মন ভালো করার মতো একটা বাক্যও খুঁজে পেলাম না। নিজেকে খুব অসহায় মনে হতে লাগলো। আসলে যার যার জীবন তাকেই যাপন করতে হয়। যার যার কষ্ট একান্ত তাকেই ভোগ করতে হয়। দূর্বল মানুষকে কেউ আজীবন আগলে রাখবে না, এটাও ধ্রুব সত্য। দুর্বল মানুষগুলোর মুক্তি নেই এই নির্মম পৃথিবীতে।
আনন্দ ভাগে বাড়ে, দুঃখ ভাগে কমে। আমার সাথে দুঃখগুলো ভাগ করে আন্টির কষ্ট বিন্দুমাত্র লাঘব হয়েছে কিনা জানি না আদৌ।

আমরা দু’জনে স্থির, সঙ্গে প্রকৃতিও। ঝড়-বৃষ্টির আগে প্রকৃতি শান্ত থাকে। আমরা বাড়ির পথ ধরে চুপচাপ হাঁটছি। আমার আর সুপার মার্কেটে যাওয়া হলো না। আমাদের পথ যেন ফুরায় না। ধবধবে ফর্সা আন্টির চোখের নিচে কালির গাঢ় স্তর পড়েছে। রাতে ভালো ঘুম হয় না, কোন কাজে উৎসাহ পান না বললেন। পথে বৃষ্টি শুরু হয়। ছাতা দিতে চাইলাম। নিল না। বৃষ্টিতে ভিজবেন। বললো বৃষ্টির জল শুধু জল নয়, এই বৃষ্টিজল শোষণ করে নেয় কষ্ট। আন্টি পা বাড়ায় তাঁর ঘরের দিকে। আমি চলে আসি আমার গন্তব্যে।

ঘরে এসে চা এর পানি বসাই। চা এর পানি ফুটতে ফুটতে শূন্যে মিলে যায়। আমি চুলা বন্ধ করে দিই। আমার আর চা খাওয়া হয় না। মনে পড়ে আমার কাছের বান্ধবী অনামিকার কথা। আন্টির কয়েক যুগ আগের জীবনের সঙ্গে এখনকার সময়ের অনামিকার মিল রয়েছে অনেকখানি। অনামিকা বেশ সুরেলা কন্ঠে গান গায়। লিখেও ভালো। কিন্তু কথা বলতে গেলেই চুপসে যায়। পরে জেনেছি, ওকেও ছোটবেলায় পরিবার থেকে মাথায় নাজুক মেয়েলিপনা স্বভাব ঢুকিয়ে দেয়া হয়। সবকিছুতেই ভয় দেখাতো তার মা। এই যেমন, আস্তে কথা বলো, আস্তে হাসো, আস্তে হাঁটো এমন সবকিছু, যা ওর প্রাণবন্ত মনটা কে ছোটবেলায় মেরে ফেলে। বেঁচে থাকা আর জীবন যাপন করা দু’টো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। আমার বান্ধবী অনামিকা বেঁচে আছে, শ্বাসও নেয়, কিন্তু জীবনটাকে কখনো যাপন করতে দেখি নি। এর একমাত্র কারণ তার পরিবার। রঙিন শৈশবে তাকে প্রজাপতির মত উড়তে না দিয়ে ডানাগুলোকে ভেঙে দেয় পরিবার। যে ভাঙা ডানা নিয়ে সে আর জীবনকে কোনদিন উপভোগ করতে পারেনি স্বাভাবিকভাবে।

পরিবার মেয়ে সন্তানটিকে যেভাবে বড় করে তুলবে সেভাবেই সে বড় হবে। মেয়ে সন্তানটিকে পরিবার থেকে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী মানুষ হিসেবে বড় করে না তুললে, আজীবন সে ধুঁকে ধুঁকে মরবে। পরিবার থেকে মেয়ে সন্তানটিকে শক্তিশালী, আত্মমর্যাদা সম্পূর্ণ করে গড়ে উঠালে, বড় হয়ে সে জীবনের প্রয়োজনে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। জীবনকে সম্মানের সঙ্গে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবে। একটি মেয়ে যত বেশী স্ব নির্ভরশীল হবে, তত বেশী জীবনের প্রতিকূল অবস্থাগুলো মোকাবেলা করতে স্বক্ষম হবে। নিজের ভালোমন্দ নিজেই বুঝবে।

পরিবার থেকে শুধু ‘মানিয়ে চলো’ এই অকেজো শিক্ষা নয়, তাকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শেখাতে হবে। নয়তো সারা জীবন তাকে অন্যায়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হবে। যে অন্যায়ের মাত্রা দিনদিন শুধু বেড়েই যাবে। প্রবাদে আছে, শক্তের ভক্ত নরমের যম। মেয়েদের নরম আচরণে অপরপক্ষের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলবে।

একটি মেয়ে আজীবন বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না। তাকে সম্পূর্ণ অপরিচিত জনদের সঙ্গে অচেনা একটি পরিবেশে এসে থাকতে হয়। অপরিচিত একটি পরিবারে গিয়ে জীবন যাপন মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ হয় না। সে কণ্টকাকীর্ণ জীবনে পথ চলার জন্য মেয়ে সন্তানটিকে পরিবার থেকেই শক্তি ও সাহসে যোগ্য করে তুলতে হবে। মেয়ে সন্তানটির প্রতি পরিবারের আরো বেশী যত্নশীল ও মনোযোগী হতে হবে। মেয়ে সন্তানটিকে ‘মেয়ে মানুষ’ নয়, একজন যোগ্য, আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে বড় করতে হবে। জীবনে কখনও দুর্দিন নেমে এলে মেয়েটি যেন নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারে, সে সামর্থের বীজ পরিবার থেকে তার ভেতরে বপন করে দিতে হবে। তবেই এই গুমড়ে মরা জীবন থেকে মেয়েরা রক্ষা পাবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.