নারী কথা কও

ড. গোলসান আরা বেগম:

নারী তুমি কথা কও মন খুলে। তোমার মুক্তির গান তোমাকেই গাইতে হবে। তোমার কোমর তোমাকেই সোজা করে দাঁড়াতে হবে। তোমার নীতি আদর্শকে কেউ মূল্যায়ন করে না, বা করবেও না। ঘরে বাইরে কোথাও নেই তোমার ব্যক্তিত্বের তিল পরিমাণ ঠাঁই। এমনকি স্বর্গের ঠিকানাও তোমার জন্য প্রযোজ্য নয়। তুমি কি তা বোঝো?

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নারীর অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে উচ্চারণ করেছেন, এ বিশ্বে যা কিছু মহান, চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। তারপরও কোন অঙ্গনেই নেই কেন তোমার শক্ত সবল অবস্থান। কেন কচু পাতার পানির মতো টলায়মান দয়ার সাগরে তোমার বসবাস?

তোমার জেনে রাখা দরকার বিশ্ব দরবারে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ১৯৯১ সাল থেকে বিগত প্রায় তিরিশ  বৎসর যাবৎ এ দেশের নারীরাই প্রচণ্ড দাপটের সঙ্গে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এমন কোনো অঙ্গন নেই যেখানে নারীর পদচারণায় সফলতার স্বর্ণাক্ষরের স্বাক্ষর নেই। যে সমস্ত নারী প্রগতির পাঠশালায় রেখেছে পা, তাদের নিয়ে দুর্ভাবনার কিছু নেই। নির্বোধ কিছু নারী রয়েছে, যারা আরাম আয়েশে দিন যাপন করে। নিমগ্ন থাকে টিভি সিরিয়ালে। তাদের জন্য আমার আহবান ‘নারী কথা কও’।

তুমি কেবল স্বামী সন্তান নিয়ে নির্ভাবনায় ঘুমাও, দশ আঙ্গুল করো উজার তাদের সেবা যত্নে। দশের সুখের আয়নায় নিজেকে করো আবিস্কার। তোমারও যে স্বাধীনতা আছে। পুরুষের সমতালে হাঁটার অধিকার আছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংবিধান তোমাকে মূল্যায়ন করতে কার্পণ্য করেনি। জন্মলগ্নেই দিয়েছে সমধিকারের স্বীকৃতি। অতি নির্ভীক মানবিক গুণাবলী তোমার চরিত্রে নেই, এ কথা কেউ বলতে পারবে না। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তুমিও শ্রম, ঘাম কম ব্যয় করোনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরং প্রত্যাশারও অধিক কিছু ঢেলে দিয়েছো মানব কল্যাণে। জন্ম, মৃত্যু তোমার জন্যও স্বতঃসিদ্ধ। সমাজ গড়ার গোড়ার দিকে সকল কতৃত্বের অধিকারী ছিলে তুমি। তোমার কথায় সমাজ সংসারের চাকা ঘুরতো। মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তোমার আঙ্গুল হেলুনিতে ওঠতো, বসতো সকলেই। কানা দুষ্ট সমাজ পুরুষের অসহায়ত্ব বুঝতে পেরে তোমার অধিকার নেয় ছিনিয়ে। সেই থেকে তুমি হয়ে আসছো অত্যাচারিত, বঞ্চিত, শোষিত পরিশেষে ফতোয়া নামক যাঁতা কলে পিষ্ট। কিন্তু পৃথিবীর জয়গান থেকে তোমাকে কেউ মুছে ফেলতে পারেনি, পারবেও না।

ধর্মাশ্রয়ীরা কখনও দেবীর আসনে বসিয়ে করে পূজা। কেউ বা স্বর্গচ্যুতির  জন্য করে দোষারোপ। কেউ বলে অর্ধাঙ্গিনী, কেউ করে নারীকে নরের ভূষন হিসেবে মূল্যায়ন। তোমার পায়ের তলে স্বর্গলাভের বিধিও রয়েছে। তোমাকে নিয়ে যত রঙ্গ তামাশা। কাজের গোয়ালে তুমি কে বা কী? কেউ তার উত্তর জানে না? জানে কিন্তু বলবে না। স্বীকৃতি দিবে না।

তুমি মাতৃজঠরে সন্তান ধারণ করতে পারো বলেই পৃথিবী হয়ে ওঠেছে জন কোলাহলে জনারণ্য। কোমল হাতের ছোয়াঁয় তুমি ফুল ফোটালে ধরণী প্রাণ খুলে হাসে। তোমার পায়ের নিচে রয়েছে সন্তানের বেহেশতের চাবিটি জমা। তুমি তোমার সন্তানের বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দিতে ঘাম শ্রম ব্যয় করো। সৌন্দর্যের জন্য অভয়বাণী উচ্চারণ করে কথা কও সকল অপশক্তির বিরূদ্ধে। মাথায় রেখে হাত ভয় মুক্ত করো পৃথিবীকে। নীতিহীন নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও।

তুমিই পারো সাগরের মতো বিশালতা, পাহাড়ের মতো উদারতা, প্রেমময় ভালোবাসার নির্যাস ছড়িয়ে দিয়ে বিশ্ববাসীকে হিংসা বিদ্বেষ মুক্ত জীবন উপহার দিতে। শান্তির শ্বেত কবুতর তোমার হাতে জমা। পৌঁছে দাও শুভ্র সুখের সুবার্তা ঘরে ঘরে প্রতিটি সুখের আয়োজনে। তোমার মস্তিষ্কের রন্ধ্র কোষের বুদ্ধি, মেধা ও জ্ঞান কোন অংশেই নগণ্য নয়। তুমি তোমার প্রতিপক্ষ প্রতিকূলতাকে বুঝিয়ে দাও নোবেল বিজয়, হিমালয় বিজয়, যুদ্ধজয় সর্বোপরি বিশ্ব জয় তোমার দ্বারা অসম্ভব নয়। তুমিও পারো। তোমার হাতে শক্তি মেধা আছে জমা।

মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট, জোয়ান অফ আর্ক, মাদার তেরেসা, মাদাম কুরি, বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতা , ক্লারা জেটকিন, হিলারি ক্লিনটন, ইন্দিরা গান্ধী, ইলা মিত্র, মার্গারেট থেচার, বেগম সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম, শেখ হাসিনা এই সমস্ত মহীয়সী নারীর তেজস্বিতা, আত্মত্যাগ, সততা, কর্মনিষ্টা ও গর্বময় পদাংক অনুসরণ কর।

স্বপ্ন দেখো বেগম রোকেয়ার কল্পিত “নারীর স্থান” এর বাস্তবতায়। তোমার স্বপক্ষ শক্তি কর্মে, ধর্মে, মেধায়, যুক্তি তর্কে, মানানসই আড্ডায় আজ আর কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। সৃষ্টির উষা লগ্নে কৃষি বিপ্লবে ছিলো তোমার অংশগ্রহণে ঘনিষ্ট ত্যাগও গর্বময় অবদান। চোখ খুলে দেখো পা পা করে এগিয়ে যাওয়া সমাজের সৃষ্টি কর্মে কোথায় নেই তোমার হাত দুটোর ছোঁয়া! সতীদাহ, সহমরণ, জীবন্ত কন্যা শিশু কবর দেওয়া ইত্যাদি বহু নির্দয় অত্যাচার সহ্য করার পরও স্বীয় সত্ত্বায় তুমি মহীয়ান। রাষ্ট্র পরিচালনায়, মহাশূন্যে পদচারণা, দুর্গম নৈপূণ্যে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, নীতি আদর্শের লড়াইয়ে, সেবা-যত্নে এসব ছাড়াও কোথায় নেই তোমার উপস্থিতি।

তুমি তো জানো এবং উপলব্ধি করো, অধিকাংশ আত্মীয় স্বজন, জঠর নিঃসৃত সন্তানও পারতপক্ষে তোমার আদেশ, নির্দেশ একবাক্যে মেনে নেয় না। কর্তব্য পালনে তোমার কিঞ্চিত পরিমাণ এদিক-সেদিক হলে তুলোধুনা করে তোমাকে। কেউ কেউ মুখ ঘুরিয়ে রাখে একশত আশি ডিগ্রি কৌণিক রেখায়। কোন কোন ক্ষেত্রে তার যে ব্যতিক্রম নেই তা বলছি না। যতক্ষণ তুমি পাচঁ আঙ্গুল উজার করে স্নেহ আদর পারবে দিতে ততক্ষণ ফিরতি পথে ঠোঁটের হাসি ফেরত পাবে। তোমার হাতের মজার মজার খাবার খাবে আর ঢেঁকুর তুলবে। আবারও ভুরিভোজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করবে। অমুকের মা, তমুকের বউ খুব ভালো। রান্নার হাত তার চমৎকার।

কন্যা, জায়া, জননী এই বিচিত্র ত্রি-পরিচয়ে আবদ্ধ তুমি। কন্যা অবস্থায় অবলম্বনের আশ্রয় খোঁজ বাবার ছায়ায়। যৌবন বিলিয়ে দিয়ে তুমি হও কারো না কারো ঘরনী। স্বামী তোমার সারা দেহের স্বত্বাধিকারী, এমনকি চিন্তা, চেতনা মনোজগতও। তার সুখে তুমি হাসো, দুঃখে শোকের ফুল কুড়াও। গৃহ কর্তার আদেশ নির্দেশ ছাড়া টুÑশব্দটি উচ্ছারণ করার উপায় নেই। রান্না ঘর ও শয়ন কক্ষে চক্কর দিতে দিতে কালো চুলে পাক ধরে যায়। নিত্যদিনের আয়োজনে সজ্জিত সূঁই সুতা থেকে নামী দামী হীরা জহরতে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। স্বামী নামক ভদ্র পুরুষ ক্রোধে বা স্বজ্ঞানে তিন তালাক উচ্চারণ করার সাথে সাথে কোন অজুহাত ছাড়াই নিজের হাতে সাজানো গোছানো সাধের সংসারটি হয়ে যায় পর। গায়ে পরার কাপড় ছাড়া জঠর নিঃসৃত সন্তানও তোমার নিজের নয়। যৌবন হারা বাসি ফুল খোঁপায় গুঁজে কোথায় যাবে? যৌবনের রোদেলা দুপুরে তুমি কি তা ভাবো? হাঁড়িতে ভাত, সন্তানের স্নেহ, প্রেম, গত রাতের সাজানো বাসর, নিত্যদিনের আয়োজন ছেড়ে বিনা বাক্য ব্যয়ে পা রাখতে হবে আনিশ্চিত গন্তব্যে। মানতে না চাইলেও মেনে নিতে হবে। এই হলো নারী ভাগ্যের বিড়াম্বনা।

স্বামী তোমার বেপরোয়া, নিষিদ্ধ জায়গায় যাতায়াত করে, পরকীয়া করে বেড়ায় যার তার সাথে। মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফিরে গভীর রাতে, আরো বহু দোষে দোষিত সে – কী করতে পারবে তুমি? চোখ ভিজলেও মন আড়াল করতে পারবে না। লোক সমাজের ভয়ে মানিয়ে নেবে নত শিরে। মনের কষ্ট রাখতে হবে মনের কারাগারে জমা। প্রতিবাদ করবে তো মরবে। কাচের টুকরার মতো ভেঙ্গে যাবে সংসার।

নারী তুমি চোখ তুলে তাকাও। তোমার চারিদিকে হাজারও অসঙ্গতি বিরাজমান। তা সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করার চেষ্টা করো। নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে হাত খুলে দাঁড়াও। মন দিলেও মন পাওয়া যায় না। তারপরও পোড়া মন নিয়ে ছলনাময়ী জীবনকে আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকো। ঘর ভাঙ্গার ভয়ে তোমাকে সর্বদা থাকতে হয় তটস্থ। পান থেকে চুন খসলে শুনতে হয় হাজারও গাল মন্দ। বৃদ্ধ, বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধি,যৌবনের ফুল ফোটেনি, এমন মেয়েটিও রক্ষা পায় না লোভাতুর যৌবন ছিনতাইকারীর হাত থেকে। যৌন কর্মিদের আস্তানা পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু ওখানে কে যায় তাদের বিচার করে না। যারা এ ব্যবসাকে উৎসাহিত করে তাদের কেন বিচার হয় না। এ সব কি জীবনের অসঙ্গতি নয় ?

নারী বিদ্বেষিরা সব সময় নারীর দোষ খুঁজে বেড়ায়। সর্বকালেই প্রণয়ন করে নারী বিরোধী নীতি বিধি। নারী পুরুষে সমধিকার শব্দটি তাদের প্রধান গাত্র দহনের কারণ। শিক্ষার সকল স্তরে সমমানের সিলেবাস শেষ করে নারী তার সার্টিফিকেট অর্জন করো। চাকুরী করতে যাবে সেখানে রয়েছে সমপরিমানের দায়িত্ব পালন ও নির্ধারিত সমতুল্য পারিশ্রমিক। তখন তো বলা হয় না একটু কম কাজ করো, কম নম্বরের পরীক্ষা দাও বা অল্প স্বল্প পড়ো। ভোট প্রদানে রয়েছে সমধিকার। পৃথিবীর মুক্ত আলো বাতাস মাথার উপর উদার আকাশ, শক্তির উৎস সূর্যের কিরণ সমান ভোগের বিন্যাস নির্ধারিত করে রেখেছে। ধর্মীয় আচার-আচরণ বা আনুষ্ঠানিকতায় তুমিও তো সমান অবদান রাখো। শুধু অধিকার তাও ঘরে-বাইরে ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে তোমার অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কৃপণতা কেন? কেন অমানবিক আচরণ?

তোমার মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারী তুমি কথা কও। যুগে যুগে প্রজ্ঞাবান মহিয়সী ব্যক্তিরা কথা বলেছিলো বলে নারীরা চার দেয়ালের অচলায়তন ভেঙ্গে আলোর মুখ দেখতে পেরেছে। নারী নেত্রী ক্লারা জেটকিন মুখ খুলে কথা বলেছিলো বলে পৃথিবীতে ৮ই মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সতীদাহ প্রথার মতো জঘন্য ‎ হৃদয় বিধারক অবস্থান থেকে মুক্তি পেয়েছে নারীরা রাজা রামমোহন রায়ের সহমর্মিতায়।

যুদ্ধজয়, নোবেল প্রাপ্তি, হিমালয় জয় আজকাল নারীর কাছে যেনো নস্যি। ভয়ের কালো মেঘ দেখে ভয় পায় না। দয়া মায়ার হাতও রাখে প্রসারিত। নারী তুমি সুখের গন্ধ ছড়াও ফুলের সুবাস মেখে তবে তোমার অধিকার ক্ষুন্ন করে না। নিজের পাওনা ষোল আনা কড়ায় গণ্ডায় নাও গুনে।

“পুতুলের মতো করে সাজিয়ে রাখবো” -এ সমস্ত মিথ্যা প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করো। কেন পুতুলের মতো সেজে গুজে বসে থাকবে? নিজের মেধা কাজে লাগাও। তোমার রক্তকণা থেকে জন্মানো ও জঠর নিঃসৃত সন্তানের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করো। ধর্মে, কর্মে, মানানসই আড্ডায় নিজেকে মানিয়ে নাও। সমঝোতা, সহমর্মিতা, সমবেদনা হউক তোমার পথের সাথী। তেমনি সততা, আদর্শবাদিতা, ধৈর্য্য, প্রজ্ঞা, মেধায় হতে হবে উজ্জল দৃষ্টান্তের স্বাক্ষর।

“সংসার সুখের হয় রমণীর গুনে” -এই সমস্ত ফাঁকিবাজী কথায় বিশ্বাস করো না। সংসারে সুখ স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে হলে প্রত্যেকটি সদস্যকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ঠোঁটের হাসি মুখের মধু, দুঃখ ব্যথার লেনাদেনায় থাকতে হবে সমবিন্যাস।

কেউ কেউ নারীকে শ্রেষ্ঠতম শিল্পকর্ম, সৃষ্টির মুকুট, সৌন্দর্যের আধার বলে আখ্যায়িত করেছে। নারীকে ভালোবেসে আপ্লুত হয়ে খোঁপায় গুঁজে দিয়েছে তারার পাথর ফুল। সমুদ্রের গভীরে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে প্রবাল ও মুক্তা, তাকে সাজাবার জন্য। কেউ আবার কলমের কালি শেষ করে ফেলেছে রমণীমোহন কবিতা লিখে। নারী বিদ্বেষী প্রবাদ পুরুষ রবীন্দ্রনাথও নারীর স্তুতি বন্দনার আতিশয্যে মেতে রক্তে মাংসের রমণীকে স্বর্গের অপ্সরা বানিয়ে ছেড়েছেন। সমগ্র মহাবিশ্ব থেকে উপকরণ সংগ্রহ করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল তার প্রেয়সীকে সাজাবার জন্যে। নারীকে বলি- কপালে কষ্টের তিলক এঁকে রাজ ঘরের বাসি ফুল হয়ে লাভ কী বলো? কামনার বাসর ঘরে প্রশংসা চাই না। চাই নারীর মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি।

নারী তুমি কি জানো­- স্মৃতি শাস্ত্রের প্রধান প্রবক্তা মনু নারীকে মিথ্যার মতো অপবিত্র বলেছেন এবং বেদপাঠের অধিকার হরণ করেছেন! হিন্দু ধর্মশাস্ত্রের অন্যতম শতপথ ব্রাহ্মণকে নারী শুদ্র, কুকুর ও কালো পাখী সমার্থক অসত্য, পাপও অন্ধকার বলে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে বারণ করা হয়েছে।

খ্রিষ্ট ধর্মমতে নারী অপবিত্র, পৃথিবীতে পাপ আনয়নকারী ও পুরুষের পতন সৃষ্টিকারী (নারী নির্যাতন নারী আন্দোলন, ৬ চিত্র মণ্ডল, পৃষ্ঠা -১৪)। মহাভারতে ভীষ্ম বলে গেলেন নারীর চেয়ে অশুচি আর কিছু নেই। পূর্বজন্মের পাপের ফলে নারী জন্ম হয়। নারীর কাছে মিথ্যা বললে পাপ হয় না। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সীমারেখা এখানেই শেষ নয়। দার্শনিক রুশো বলেছেন, নারী দরকারী, অশুভ ((necessary evil), শেক্সপিয়ারের মতে দুর্বলতার নামই নারী (fraelly, the name is woman)। ফ্রয়েড বানিয়েছেন নারীকে দেহসর্বস্ব (Her anatomy is her destiny). Thus spake zarathustra গ্রন্থে তিনি বলেছেন, নারী বন্ধুর উপযুক্ত নয়।

সৃষ্টির কারুকাজ, নারীর সাহসী পথ চলা; পৃথিবীর সার্বিক চাহিদা দেখে এ সমস্ত বাসী পান্তা কথা কেউ কি মেনে নিবে? নারী মুক্তির বিরোধী পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে নারী তুমি হও সোচ্চার, আলোর দীপ্রতা ছড়াও। এগিয়ে চলো বুলেটের গতিবেগে। নারী তুমি কথা কও, তোমার অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে।

 

লেখক: কবি, কলামিস্ট, সিনেট সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন:
  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
    121
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.