অনার কিলিং (পর্ব-২): সকল যুগেই নারী যাপন করে অন্যের জীবন

মলি জেনান:

মেরি উলস্টোনক্রাফটের একটি কথা দিয়ে শুরু করছি-
“আমি চাই না নারীরা পুরুষের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিক, বরং আমি চাই নারীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেরা নিতে শিখুক”।

গত পর্বে ১৭ বছর বয়েসি শাফিলিয়ার (নিচে লিংক দেয়া হলো) কথা বলেছিলাম, যে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে গিয়ে নির্মমভাবে অনার কিলিং এর শিকার হন।

এবার আমরা জানতে চাই অনার কিলিং কী-

অনার কিলিং এর নির্দিষ্ট কোনো সংঙ্গা নেই, এটি দেশ কাল ও পাত্রভেদে ভিন্নতর হয়ে থাকে। তবে মোটের উপর অনার কিলিং বা সম্মানের জন্য হত্যা হলো পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে অবাধ্য সদস্যের খুন করার প্রক্রিয়া। যদি মনে করা হয় কোন ব্যক্তি পরিবারের জন্য অসম্মান বা লজ্জা বয়ে আনছে, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নিয়ম-নীতি অস্বীকার বা অমান্য করছে, বাবা-মায়ের পছন্দ করা পাত্র/পাত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, পরিবারের অপছন্দের কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পডেছে বা বিয়ে করেছে কিংবা বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হয়েছে, সমকামিতায় আসক্ত, এমনকি ধর্মীয় রীতিনীতি মোতাবেক পোশাক পরছে না বা এমন পোশাক পরছে যা পরিবারের পছন্দ নয়, তবে এর যেকোনো একটি কারণের জন্যই সে অনার কিলিংয়ের শিকার হতে পারে।

এমনকি অনার কিলিং এর জন্য মনে করাই যথেষ্ট, প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
একজন নারী যদি সমাজের নানা রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে অথবা মা কিংবা গৃহিনী হিসেবে কোন নারী যদি নিজ জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকে, তাহলে এর ফলে তিনি অনার কিলিং এর শিকার হতে পারেন। পরিবার থেকে আশা করা হয় যে নারী তার পিতা, ভাই কিংবা স্বামীর সিদ্ধান্তগুলো মেনে চলবে এবং নিজ চিন্তাধারার প্রয়োগ ঘটাবে না। সম্মান রক্ষার নামে হত্যাকাণ্ডের আরেকটি কারণ হলো নারীদের নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করা অথবা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে অথবা উচ্চশিক্ষা লাভে গৃহ ত্যাগ করার চিন্তা। নারীদের স্বাধীন হওয়ার এ চিন্তা তথাকথিত সামাজিক কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। এর ফলে অনার কিলিং সমাধান হিসেবে গৃহীত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর তথাকথিত “শারীরিক” বিশুদ্ধতা অনার কিলিংকে প্রভাবিত করে। নানা ক্ষেত্রে ব্যভিচারের গুজব নারীকে অনার কিলিং এর দিকে ঠেলে দেয়। জর্ডানের ৮০ ভাগ অনার কিলিং এ ধরনের সন্দেহের ভিত্তিতে হয় যেখানে ব্যভিচারের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ নামক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘অনার কিলিং’কে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে-

‘পরিবারের জন্য অসম্মানজনক সন্দেহে পুরুষ সদস্য কর্তৃক অপরাধী নারী সদস্যকে হত্যা বা তার প্রতি সহিংস আচরণের নাম অনার কিলিং। বিভিন্ন কারণে নারী সদস্যটি এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে পারে, যার মধ্যে স্বামীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানানো থেকে শুরু করে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনও কারণ হতে পারে। মোটা দাগে বলা হয়, নারী যখন নিজের জীবনের লাগাম নিজের হাতে তুলে নিতে চায় তখনই গোটা সম্প্রদায় তার বিরুদ্ধে চলে যায়। আর সেই নারীকে চরম শিক্ষা দিয়ে বাকি মেয়েদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে পরিবার তুলে নেয় তার প্রাণনিধনের দায়িত্ব।’
বিরল ঘটনা হলেও কখনো কখনো পুরুষদেরও শিকার হতে হয় অনার কিলিংয়ের। কোনো নারীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অপরাধে নারীটির পাশাপাশি অমানবিক এই প্রথায় খুন করা হয় পুরুষ সদস্যটিকেও। এক্ষেত্রে হত্যাকারী সাধারণত নারী সদস্যটির পরিবার।

অনার কিলিং বেশি দেখা যায় যে দেশগুলোতে-

বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, ইসলাম ধর্মের সাথে মিশে আছে অনার কিলিংয়ের অস্তিত্ব। কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা নয়। কেননা শিখ, হিন্দু, খ্রিস্টান পরিবার এবং আদিবাসী গোত্রগুলোতে অনার কিলিংয়ের রেকর্ড থাকলেও এটি মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বেশি দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো অনার কিলিংয়ের জন্য বিশেষভাবে কুখ্যাত। মিশর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ফিলিস্তিন, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্ক, ইয়েমেন এদিক থেকে বেশ এগিয়ে আছে। ইউরোপের আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে অহরহ অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। ব্রাজিল, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ল্যাটিন আমেরিকার পুলিশও এ সংক্রান্ত মামলা সামলাতে সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায়। আর ওশেনিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান, ভারত আর পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি অনার কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে। আমাদের দেশে যে তা একেবারে অপরিচিত কিছু, তা ঠিক বলা যায় না। এখানে ভিন্ন নামে, ভিন্ন পন্থায় পারিবারিক কারণ দেখিয়ে নারীদের খুন করার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এসকল দেশের বংশোদভূত নাগরিকদের দ্বারা পাশ্চাত্য়ের বিভিন্ন দেশে ক্রমেই সম্মান হত্য়াকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Honor Based Violence Awareness Network (HBVA) এর মতে, “বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৫০০০ ‘সম্মান রক্ষার্থে’ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এর মাঝে প্রতিবছর ১০০০ ভারতে, ১০০০ পাকিস্তানে এবং ১২ টি যুক্তরাজ্যে সংঘটিত হয়।”

সবচেয়ে দু:খজনক যে অনার কিলিং এর মতো জঘন্য অপরাধে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগুলোতে ধর্মের নামে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মদদ থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তানের কথা ধরা যাক-
পাকিস্তানের নিম্ন আদালতগুলি অনেক ক্ষেত্রেই নারী বিদ্বেষী হয়। পাকিস্তানের মেয়েরা সাবালক অবস্থাতেও নিজের পছন্দমতো স্বামী বেছে নিলে বা কারো সাথে পালিয়ে গেলে মেয়ের বাবা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মামলা দিতে পারে। এক স্বামীর ঘর থেকে ডিভোর্স করে আরেক স্বামী বেছে নিলে আগের স্বামী জিনার দায়ে মামলা করতে পারে। সেক্ষেত্রে আদালত সেসব মেয়েদের মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেয় এবং আদালতের ভাষায় এসব মেয়ের সরকারি নাম “ক্রাইম প্রপার্টি”। এ যুগে আর কোন দেশের আদালত মানুষকে সম্পত্তি হিসেবে অভিহিত করে কিনা জানা নেই।
এ দেশের অনার কিলিং এর ক্ষেত্রে সামাজিক ও রাষ্ট্রিয় মদদের কিছু উদাহরণ দেয়া যাক-

মোহাম্মদ ইউনুস নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে অবৈধ যৌনাচারের দায়ে হত্যা করে। যদিও মেডিক্যাল রিপোর্ট, পারিপার্শ্বিক অবস্থায় তার দাবি ধোপে টিকেনি, কিন্তু মাননীয় আদালত তার রায়ে বলেন; “অভিযুক্ত ব্যক্তি নিহত নারীর দুই সন্তানের জনক, যখন এই লোক তার স্ত্রীকে দেহের বিভিন্ন স্থানে উপুর্যপুরি ছুরি মেরে হত্যা করেছে তখন বুঝতে হবে যে সেই মহিলা নিশ্চয়ই এমন গুরুতর কোন অন্যায় করেছে যা এই ব্যক্তিকে ক্রোধান্বিত করেছে”।
লাহোর হাইকোর্টে আরেকটি অনার কিলিং এর ঘটনায় ১৯৯৪ সালে লিয়াকত আলী নামের এক লোকের বিচার হচ্ছিল। সে তার নিজ বোনকে ছুরি মেরে গুরুতর আহত করে ও বোনের প্রেমিক বলে কথিত এক লোককে হত্যা করে। তার উকিল আদালতে যুক্তি দেয়, “ইসলামী সমাজে জিনাকারী ধরা পড়লে তাকে প্রকাশ্যে তৎক্ষণাৎ হত্যা করার বিধান আছে, এসব হত্যা মূলত অপরাধ বলেই বিবেচনা করা উচিত নয়, এগুলি ধর্মীয় দায়িত্ব”। বিজ্ঞ জজ সাহেব এই যুক্তির পক্ষে ঐক্যমত প্রকাশ করেন।

অনার কিলিং এর প্রতি রাষ্ট্রীয় মদদের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে জর্ডানের কথা উল্লেখ করা যায়। নারী অধিকার বিষয়ে দেশটির সামগ্রিক ইমেজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলির তুলনায় অনেক উন্নত হওয়া সত্ত্বেও অনার কিলিং এর প্রতি রাষ্ট্রীয় আইনের পরিষ্কার স্বীকৃতি আছে। “According to Article 340 of the criminal code, “A husband or a close blood relative who kills a woman caught in a situation highly suspicious of adultery will be totally exempt from sentence.” কী দারুণ আইন! তবে আর্টিকেল ৯৮ আবার অনার কিলিং এর জন্য যথাকিঞ্চিত শাস্তির ব্যবস্থাও করেছে। “Article 98, meanwhile, guarantees a lighter sentence for male killers of female relatives who have committed an “act which is illicit in the eyes of the perpetrator.” তবে এই শাস্তির মাত্রা হলো সাধারণত ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, তাও আবার শর্ত সাপেক্ষে। খুনি যদি ১৮ বছরের নিচে হয় তবে মাত্র দু’তিন মাস পরেই মুক্তি বা কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখান থেকে তারা ক্লিন রেকর্ড নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। কী দারুন সব আইন! নারী তার নিজের পছন্দমতো জীবন যাপন করলে পরিবারের যে কেউ তাকে হত্যা করলে এসব মহান(!) আইনের ফাঁক গলে অনায়াসে পার পেয়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে তাই অনেক সময়ই খুনির ভূমিকায় পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্যকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।

জর্ডানের মতোই আরো বেশ কটি মধ্যপ্রাচ্যিয় ও উত্তর আফ্রিকার দেশ যেমন সিরিয়া, মরক্কো, তুরষ্কে অনার কিলিং এর পক্ষে এ ধরনের নমনীয় আইন আছে। তবে তুরষ্ক সম্প্রতি এ আইন কিছুটা বদল করেছে। মুসলমান প্রধান দেশগুলির বাইরেও ব্রাজিল, কলম্বিয়া, হাইতিতে একই ধরনের আইন আছে, ফলাফলও অনুরুপ। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে পশ্চিমের দেশগুলির মাঝে ইতালিতেও এরকম আইন ‘৮১ সাল পর্যন্ত ছিল। কারণ মনে হয় রাষ্ট্রের উপর চার্চের প্রভাব। তার একটি উদাহরণ কিছুদিন আগেই সেখানে ঘটেছে। এক লোক তার স্ত্রীকে পিটিয়ে মৃত ভেবে ট্র্যাশ বিনে ফেলে দেয়। তার অপরাধ ছিল সে স্বামীর পরকীয়ায় বিরক্ত হয়ে ডিভোর্স চেয়েছিল। ওই নারীটি কোনভাবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। এই মামলা আদালতে উঠলে স্থানীয় চার্চের যাজক একে ভালবাসার কারণে হামলা বলে দাবি করেন ও তারা উল্টা ওই নারীর বিরুদ্ধে স্বামীকে গ্রহণ না করার অপরাধে মামলা ঠুকে বসেন।

HBVA এর মতে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১০০০ অনার কিলিং এর ঘটনা ঘটে। এদেশে সহমরণের মতো জঘন্য হত্যাকাণ্ড ধর্মের দোহাই দিয়ে ঘটানো হয়েছে দিনের পর দিন। এখনও রাজস্থানে প্রায়ই “নারীর সতী হবার” ঘটনা জোরপূর্বক ঘটানো হয়। ভারতে অনার কিলিং এর অধিকাংশই মূলত ঘটে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, ও উত্তর প্রদেশের গ্রাম্য এলাকায়। এ ছাড়া বিহার, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান উল্লেখযোগ্য। এদেশে অনার কিলিং ঘটে থাকে মূলত সনাতন হিন্দু ধর্মীয় জাত প্রথার কারণে। জাতপাতের কঠোর প্রথা ভংগ করে অন্য জাতে কেউ বিয়ে করলে অনেকক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় যে পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে, তখন পারিবারিক সিদ্ধান্তে ঘটানো হয় অনার কিলিং।

লেখক: মলি জেনান

তবে এ কথা সত্য যে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম বা নির্দিষ্ট কোন দেশে অনার কিলিং সীমাবদ্ধ নয়, প্রায় সকল দেশে সকল যুগেই ভিন্ন ভিন্ন নামে চলে নারীর উপর সহিংসতা। প্রখ্যাত ডকুমেন্টারি নির্মাতা শারমিন ওবায়েদ চিনয় যিনি অনার কিলিং থেকে বেঁচে যাওয়া এক পাকিস্তানী তরুণীর সত্যিকারের গল্প নিয়ে নির্মাণ করেন অস্কারজয়ী ফিল্ম ‘অ্যা গার্ল ইন দ্য রিভার’; তাঁর ভাষ্যমতে-
“অনার কিলিংয়ের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, পুরো ব্যাপারটাই নিয়ন্ত্রণ আর আধিপত্য বিস্তারের সাথে জড়িত”।

বরং অনার কিলিং এর সাথে সম্পর্ক আছে রাজনীতির। পুরুষতন্ত্র তার প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নারীর উপর আধিপত্য বিস্তারের লিঙ্গীয় রাজনীতিতে মেতে থাকে; সে লক্ষ্যেই নারীকে দ্বিতীয় লিঙ্গ করে রেখে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে চলে। এর ব্যত্য়য় হলেই সে ক্রুদ্ধ হয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সকল কাঠামো দ্বারা নারীকে বাঁধতে চায় আষ্টেপৃষ্টে। কোনো নারী এ সকল শৃঙ্খল ভেঙ্গে বেরিয়ে এলে পুরুষতন্ত্র নড়ে-চড়ে বসে, তার সমস্ত নখ ও দন্ত নিয়ে হুঙ্কার ছাড়ে ভয়ে, পাছে না তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধসে পড়ে।
তাই সকল প্রতিষ্ঠান- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং ধর্ম যুগ যুগ ধরে নারীদের যাপন করতে শেখায় অন্যের দেখানো জীবন। জন্মের পর থেকেই তাদের ছকে বাঁধা জীবনে অভ্যস্ত হতে হয়- কীভাকে কথা বলবে, কতোটা জোরে হাসবে, কোনদিকে তাকাবে, কতটা পড়ালেখা করবে বা করবে কিনা, কাকে বিয়ে করবে বা কাকে করবে না, এমনকি কতটা কী পোশাক পরবে তাও তাকে ছকে বেঁধে দেয়া হয়। একটু ছকের বাইরে গেলেই শুরু হয় হা!হা! রব, গেল গেল সব। পরিবার, সমাজ, ধর্ম সব টলে উঠে। পুরুষতন্ত্রের জাত্যাভিমান জেগে উঠে। সেবাদাসী সব নিজেদের জীবনের ছক নিজেরা আঁকলে প্রভুর প্রভুত্ব আর থাকে কই? তাই তড়পায়, হুঙ্কার করে উঠে, পথ রোধ করে, জীবন বিপন্ন হয়।

রেফারেন্সঃ
১. http://www.amnesty.org/en/library/info/ASA33/018/1999
২. http://www.gendercide.org/case_honour.htm
৩. http://www.stophonourkillings.com/?q=node/4267
৪. http://www.thaindian.com/newsportal/uncategorized/honour-killings-a-shame-on-india-chidambaram_100224214.html
৫. telegraph.co.uk
৬. Times of India
৭. roar.Media
৮. blog.mukto-mona.com

 

আগের পর্বের লিংক:

অনার কিলিং (পর্ব-১): নারী যখন সম্মান নামক জড় বস্তুর আধার
https://womenchapter.com/views/34956

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.