স্বামীর বিত্তবৈভব ভোগ করলে অপরাধের দায়ও নিতে হবে

সাবিনা শারমিন:

ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন লেখালিখি হয় না। তবে লেখালিখি না হলেও নদীর কোথাকার পানি কোথায় যায়, সেইদিকে ঠিকই চোখ রাখি।
করোনা পরিস্থিতিতে দেখলাম মানুষের জীবন কতোটাই ঠুনকো!

মানুষ জানে না আগামী নয় দশদিন পর তার নিজের জীবনে কী ঘটতে চলেছে! কেন বলছি এ কথা? রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের প্রকাশিত বিভিন্ন অভিব্যক্তিতে উচ্চমহলের সাথে ঘনিষ্ট ফটো এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি! টকশোতে কতো ধরনের স্টাইলে তিনি জাতিকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন! জাতিও তার শরীর সংস্পর্শ পেয়ে নিজেকে গর্বিত ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। আনন্দিত হচ্ছে! এইসব দেখতে দেখতে চোখ পড়ে গেলো একটি সংবাদে। যেই করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে এতো কাহিনী সেই করোনাক্রান্ত হয়েই সাহেদ তার নিজের বাবাকে রিজেন্ট এ ভর্তি না করিয়ে করিয়েছিলেন আয়শা মেমোরিয়াল হাসপাতালে! মানুষের কী পরিণাম দেখুন! একে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? মানুষ অন্যের জন্য যে ফাঁদ পাতে, সেই ফাঁদে একদিন নিজেই পতিত হয়। কী খুব নিষ্ঠুর লাগছে কথাগুলো তাই না? কথাগুলো প্রতিশোধপরায়ণ মনে হচ্ছে? আমরা এতোটা নিষ্ঠুর না হলেও প্রকৃতি তার শোধ আদায় করে নেয় হয়তো।

সাহেদের বাবার মৃত্যু হয়েছে এই করোনাক্রান্ত হয়েই। প্রথম দু’দিন খবর নিলেও এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ। লাশ আনতে সাহেদের পরিবারের কোন ব্যক্তিই আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে যায়নি।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর এই দুর্যোগে এই সাহেদরা কিন্তু থেমে থাকেনি। যুদ্ধের সময়েও এরাই ঘরপোড়ার মধ্যে আলু পোড়া দিয়ে খেয়েছিলো। এরাই মৃতদেহ থেকে গহনা কেড়ে নেয়। এরাই মৃত নারীর শরীরকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। যাহোক সাহেদের বাবার জন্য মায়া হচ্ছে। হয়তো তিনি মানুষ খারাপ ছিলেন না। তবে সেই বিচারে আমরা না গিয়ে বরং তার আত্মার শান্তি কামনা করি। তবে করুণা হচ্ছে সাহেদ লোকটির জন্য, যে নিজের জ্বালানো আগুনে নিজেই পুড়ে মরলো!

আমার বন্ধু তালিকায় একজন লিখেছেন, ‘সাহেদের স্ত্রী ডিগ্নিফায়েড পরিবারের মেয়ে। উনার নানী সেই আমলে আমাদের জামালপুর গভর্মেন্ট গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তার মা শাহিদা আরবী বিটিভির নাম করা মুখ।’
আমার ফেইসবুক বন্ধুর লেখার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলতে চাই পারিবারিক ডিগ্নিটি দিয়ে ব্যক্তিগত চরিত্র, লোভলালসা জাজ করা সকল সময় সঠিক নাও হতে পারে। এরশাদের সময়ের ছাত্রনেতা অভি রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান ছিলো। তার বিরুদ্ধে মডেল তিন্নিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের কন্যা ঐশীও নিজের পিতামাতাকে হত্যা করেছিলো!

একজন স্ত্রী জানবেন না তার স্বামী কোথায় কী করছেন, এমন পরিবারের মেয়ে তার স্ত্রী নন। সে হিসেবে এই দায় তার স্ত্রীর উপরেও বর্তায়। তবে তার স্বামীর এই পুকুর চুরির কথা জেনে তিনি যদি এই অপকর্মের ঘোষণা দিয়ে সম্পর্ক থেকে বের হয়ে আসতেন তাহলে হয়তো এ দায় থেকে তিনি রেহাই পেতেন। তবে তার বিধ্বস্ত চেহারা দেখে যারা তাকে নিষ্পাপ দাবি করতে চাইছেন আশা করি তারা বিষয়টিকে নিয়ে আরেকবার ভাববেন। তার স্ত্রী অবলা পরিবারের মূর্খ নারী নন। আর স্ত্রী সন্তান অলৌকিকভাবে আকাশ থেকে টুপ করে পরেন না। স্ত্রী – স্বামী – সন্তান প্রতিদিন চাল নুন তেল পেঁয়াজের সংসার করেন। একে অপরের খবর না রেখে বিত্তবৈভব ভোগ করার নাম সংসার নয়। তাই এই অপরাধ পরিবারের সকল প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের। হ্যাঁ, তার স্ত্রীকে তখনি ডিগ্নিফায়েড বলা যেতো যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এই ঘটনার আগেই এই সম্পর্ক থেকে তিনি বের হয়ে আসতেন। প্রয়োজনে বিচ্ছেদ নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে টিউশনি করে জীবন চালানোও অনেক সম্মানের। এ কারণেই নারীর স্বনির্ভরতা খুব বেশি জরুরি।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.