সমকাম সমাচার

ঔচিত্য:

সমকামিতা নিয়ে তাত্ত্বিক এবং যৌক্তিক আলোচনা করার পূর্বে চলুন আপনাকে নিয়ে একটা গল্পের ভিতর থেকে হেঁটে আসি-

যেহেতু গল্পটা পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত, তাই এই গল্প দ্বারা কারো শিশুসুলভ অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হলে লেখক এর দায়ভার বহন করতে অসম্মতি জ্ঞাপন করছে।

‘আল্লায় না করুক, ধরেন একদিন সকালে আরামের ঘুম ভেঙে উঠে দেখলেন, বাংলাদেশে নতুন একটা দল সরকার গঠন করে দেশের গদিতে বসে আছে। যে গণতান্ত্রিক দলটি বর্তমানে ক্ষমতাসীন রয়েছে তার নাম- বাংলাদেশ সমকামী লীগ।কী বিপদ! বুঝতেই পারছেন তাদের সর্বপ্রথম কাজটি কী হতে পারে!
ঠিক ধরেছেন, তা হলো- সংবিধানে অষ্টাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে প্রকৃতি-বিরুদ্ধ অপরাধ নামের ৩৭৭ নম্বর যে ধারাটি আছে তাকে বাতিল করা।[১]

এই ধারার মূল কথা অনেকেরই জানা- যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো পুরুষ, নারী বা পশুর সাথে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সংগম করে, তবে তার আজীবন কারাদণ্ড এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক জরিমানা দিতে হবে। ধরা যাক, তারা এই আইনটি বাতিল করতে সক্ষম হলো। কিন্তু তারা তাদের অতীত কুৎসিত অভিজ্ঞতার দরুন প্রতিশোধপরায়ন হয়ে সংসদে নতুন আইন পাশ করালো, যার মূলকথা অনেকটা এরকম- অতীতে যেসকল বিষমকামী ব্যক্তি সমকামিতাকে তীব্রভাবে প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলে প্রচারণা চালিয়েছে এবং সমকামীদের ঘৃণা করেছে ও তাদের জীবন বিষময় করে তুলেছে, সেসকল বিষমকামীদেরকে শাস্তিস্বরূপ সমলিঙ্গে বিবাহ করতে হবে। এর ব্যাখ্যায় বলা হলো- ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণে বিবাহের পর বিবাহিত যুগল পাঁচদিনের মধ্যে সংগম না করলে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধরা যাক, এই সরকারের আইনের শাসন চমৎকারভাবে প্রশংসনীয়। উপরের আইন হওয়া মাত্রই, সমকাম বিরোধী সেসকল বিষমকামীদের ধরপাকড় শুরু হলো। অনেকে অবশ্য পালিয়েও গেলো। তবে কাকতালীয় এবং দুঃখজনকভাবে যেসকল সমকাম বিরোধী বিষমকামী আমার এই লেখাটি পড়ছেন, তারা ধরা পড়লেন। সরকারি খরচে আপনাদের অন্য আরেকজন সমলিঙ্গের সাথে বিয়েও হলো, এবং আইনের ভয়ে পাঁচদিনের মাথায় আপনারা বিষমকামী হয়েও সমলিঙ্গে সংগম করতে বাধ্য হলেন। বাসর রাতে কী কী করলেন, কীভাবে করলেন সেই বর্ণনাতে না গেলাম।”

বেশিক্ষণ এই গল্পের ভিতর হাঁটতে পারবেন না বিধায় গল্পটা এখানেই শেষ করছি। এখন একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, কল্পনা করুন! এই আইনের প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আপনার জীবনটা কীরকম বীভৎস ধরনের ওলটপালট ও বিষময় হয়ে উঠবে!ভাবতেও পারছেন না, তাই না? সমকামীরাও নিশ্চয় একই অবস্থার মধ্য দিয়ে যান যখন তাদেরকে বিপরীত লিঙ্গে বিয়ে করে জীবন কাটাতে বলা হয়।

যা-ই হোক, আপনার সাথে যদি এমনটা হয় তখন হয়তো আমরা যারা লেখালিখি করি বা অধিকার আদায়ে দুই-এক কথাবলি তারা এই আইনের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করবো। আপনার অধিকারের পক্ষে লড়বো। ঠিক যেমন এখনসমকামীদের অধিকারের পক্ষে লেখালিখি করে লড়ার চেষ্টা করছি, অনেকটা সেরকম।

এবার সমকামিতার তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্য দিয়ে যৌক্তিক বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা যাক।

সমকামিতা বা Homosexuality অর্থ হচ্ছে সমলিঙ্গে আকর্ষণবোধ করার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কোনো নারী বা পুরুষ যখন নিতান্তই প্রাকৃতিক বা জৈবিক, জেনেটিক বা পরিবেশগত কারণসমূহের মিথষ্ক্রিয়ায় স্ব-স্ব লিঙ্গের নারী বা পুরুষের প্রতি প্রেম বা যৌন আকর্ষণ বোধ করে তখন তাকে সমকামিতা বলে ।তবে একে বোঝাতে ‘সমপ্রেম’ শব্দটি অধিক নান্দনিক বলে বোধ করি।

সমকামিতার বিস্তারিত তথ্যাদি সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানা সম্ভব বিধায় এর দ্বারা আলোচনা দীর্ঘায়িত করলাম না।[২]

বরং আমরা আলোচনা করবো- এই একবিংশ শতাব্দীতে বসবাস করেও কেন বাংলাদেশের সমাজে সমকামিতা এতো ঘৃণ্য?সমকামীরা কী এমন রাষ্ট্রীয় ক্ষতির সাথে যুক্ত যে তাদের সামান্য প্রেম-ভালোবাসা বা যৌনতার মতো অপূরণীয় চাহিদার সামনে আমরা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছি?

এর কারণ খুঁজতে যে বিশাল লম্বা পথ পাড়ি দেয়া লাগে ব্যাপারটা এরকমও না। আর তা হলো- ধর্মীয় মৌলবাদ, রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা বা প্রথা ভাঙার ভয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই কারণসমূহ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সমকামিতার ধারণাকে ভয় পাওয়া এক ধরনের মানসিক রোগ বলেই মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন।[৩] এই রোগের নাম হচ্ছে Homophobia বা সমকামভীতি। আর এই সমকামভীতির মূল উৎস যে ধর্ম, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশের সমকামীরা স্বাধীন কিনা এই প্রশ্ন বহু যুগ ভবিষ্যতে ফেলে রাখেন, বরং এর থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা সমকামিতার পক্ষে কথা বলে তাদের জীবন আদৌ নিরাপদ কিনা!(Robi 10 Minutes School এর আয়মান সাদিক এবং সাকিব বিন রশিদ এর কথা সবারই জানা। যদিও তারা এসব বক্তব্য উইথড্র করে ক্ষমা চেয়েছে) কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন এই সমকামভীতি? যারা সমকামীদের ভূতের মতো ভয় পান তাদের কাছে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর জানার খুব ইচ্ছা আমার। পারলে উত্তরগুলা দিয়েন-

সমকামীরা কী আমাদের বা আপনাদেরকে সমকামী হতে বলে বা জোর করে সমকামী বানিয়ে ফেলতে চায়?
এইযে হাজার বছর ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন, তারা কী তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে কোনো বোমা ফাটিয়েছে? সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিয়েছে বা নিরপরাধী কিংবা আপনাদের কাউকে হত্যা করেছে?
তারা কী বিষমকামিতাকে বিনা কারণে ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ’ বলে আপনাদের বা আমাদের ঘৃণার চোখে দেখেছে?
নাকি হাজার বছর ধরে যে তাদের বিরুদ্ধে বলে বেড়িয়েছেন তাতে রাগান্বিত হয়ে হত্যা দূরে থাক, কাউকে হুমকিও কি দিয়েছেন? রাষ্ট্রের কোনো বিশাল ক্ষতি করেছেন?
বিষমকামীদের ঘৃণ্য, বস্তাপঁচা, আবর্জনা কিংবা নর্দমার কীট বলে সমকামীরা কোনোদিন কাউকে গালমন্দ করেছেন?

এর সবগুলো উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে কেন, কোন যুক্তিবলে আপনারা তাদের অধিকার হরণ করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন?

ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসের যুক্তি যখন আর ধোপে টেকে না তখন আপনারা একেকজন বৈজ্ঞানিক অবতার রূপে দুম করে দাবি করে বসেন, সমকামিতা প্রকৃতিবিরুদ্ধ(!), আর সাথে সাথে আপনাদের ‘ধর্মানুভূতি রক্ষা কমিটি’এর সকল সদস্যবৃন্দরা আনন্দে লাফিয়ে বগল বাজানো শুরু করেন।

কী আশ্চর্য ভাই! সমকামিতা যদি প্রকৃতিবিরুদ্ধও হতো, তাও আমি বলতাম, দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজ ইচ্ছায় আর পরস্পর সম্মতিক্রমে তাদের ব্যক্তিগত যৌন জীবনে কী করবেন না করবেন তাতে আপনার এতো মাথাব্যথা কেন? মাথাব্যথার জন্যে বহু-বহু সমস্যা পড়ে আছেরে ভাই, সেগুলো নিয়ে কাজ করেন। আসলে বেকারত্বের অবস্থা অসম্ভব পর্যায়ে নিদারুণ হলেই কেবল এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় পাওয়া যায়। আমি আর আপনি সমকামী না, তাই বলে যারা সমকামে সুখ পায়, তাদের সুখ কেড়ে নেয়ার অধিকার আপনি কোথায় পেয়েছেন?

তারপরেও খুবই দুঃখের সাথে আপনাদের জানাতে হচ্ছে, সমকামিতা যে খুবই প্রাকৃতিক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ভুল, তার অসংখ্য প্রমাণাদি পাওয়া যায়-

American Psychological Association বলছে, সমকামিতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক যৌন প্রবৃত্তি। এমনকি পূর্বে এও ধারণা করা হতো যে, সমকামিতা একটি মানসিক রোগ। যে দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।[৪]

University of Oslo, Norway এর প্রাকৃতিক ইতিহাস বিষয়ক জাদুঘরের উদ্যোগে ‘Against Nature?’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনীমূলক অনুষ্ঠান হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রাণীদের মধ্যকার সমকামিতার প্রমাণ দেখিয়ে- ‘সমকামিতা প্রকৃতিবিরুদ্ধ’ এই ভুল ধারণাটি মানুষের মধ্য থেকে চিরতরে অবসান ঘটানো।[৫]

Science Daily জার্নালও ঠিক একই ধরনের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যপ্রমাণ দিয়েছেন।[৬

সমকামিতা যে প্রাণীদের মধ্যেও ব্যাপক হারে বিদ্যমান এবং কোন কোন প্রাণীর মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার একটা বিষদতালিকা এই রেফারেন্স থেকে চেক করে নিবেন।[৭]

সমলিঙ্গে কামচর্চা বিষমকাম অপেক্ষা স্বাস্থ্যঝুঁকি একটু বেশি দেখা গেলেও পরামর্শের মধ্য দিয়ে এই ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।[৮]

এসব তথ্যপ্রমাণাদি দেখে বিচলিত হয়ে এখন অনেকে হয়তো পাল্টা যুক্তি দিবেন এরকম- জীবজন্তু, পশুপাখি হচ্ছে অসভ্য প্রাণী। এরা যা করে তাই কেন মানুষের করা লাগবে?

তাদের কাছে আমার প্রশ্ন থাকবে- জীবজন্তু, পশুপাখি তো মলত্যাগ-মূত্রত্যাগও করে, এরা অসভ্য বলে এখন আপনারা সভ্যতার পরিচয় দিতে গিয়ে নিশ্চয় এসব করা বন্ধ করে দিবেন না!

তার মানে এই নয় যে আমরা বলছি, জীবজন্তু যা-যা করে তার সবই মানুষের করাটা স্বাভাবিক। জীবজন্তুর আছে দ্বিতীয় স্তরের মস্তিষ্ক আর মানুষের তৃতীয় স্তরবিশিষ্ট মস্তিষ্ক, যার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যুক্তি, বুদ্ধি আর বিবেচনা দ্বারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক প্রাণী থেকে আমরা উন্নত। আর এই বিবেকবোধ দ্বারা চালিত হয়েই আমরা যে কোনো ক্ষতিকর পাশবিক-কর্মকাণ্ড যাতে কিনা অন্যের ক্ষতিসাধন হওয়ার আশংকা আছে তার থেকে নিজেদের বিরত রাখি।

এই বিবেচনার মর্মার্থে তাহলে বলাই যায়, সমকামিতা যেহেতু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমাজের কোনো ক্ষতির কারণ বলে চিহ্নিত করা যায় না- তাই প্রত্যেক মানবিক মানুষের উচিত সমকামীদের অধিকারের পক্ষে জোরদার প্রতিবাদী কন্ঠে আওয়াজ তোলা এবং তাদের শত শত বছরের অবদমিত অধিকারের চাপা কষ্ট, আর্তনাদ ও চিৎকারের ভাগীদার হওয়া।

ধরণীর বুকে ভূমিষ্ঠ হয়ে আকারগত দিক দিয়ে মানুষরূপ ধারণ করলেই কেউ প্রকৃত মানুষ হয় না। এর জন্য প্রয়োজন সাধনা ও বুদ্ধিচর্চার। অন্যের জন্মগত অধিকার হরণ করে নয় বরং বঞ্চিত অধিকার আদায়ে লড়াই করে জীবন অতিবাহিত করার মধ্যেই মানুষ নামের অসম্পূর্ণ ধারণাটি পরিপূর্ণতা পায়।

লেখক পরিচিতি: ঔচিত্য

তথ্যনির্দেশ:

১/ প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ,ধারা ৩৭৭- https://bn.m.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87_%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0#%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8_%E0%A6%93_%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE

২/ সমকামিতা বিস্তারিত- https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE?wprov=sfti1

৩/ হোমোফোবিয়া এক ধরনের মানসিক রোগ-

Dysfunctional Personality Traits Linked to Homophobia

৪/ সমকাম প্রকৃতি বিরুদ্ধ নয় (American Psychological Association) – https://web.archive.org/web/20130808032050/http://www.apa.org/helpcenter/sexual-orientation.aspx

৫/ ইউনিভার্সিটি অব অসলো,নরওয়ের প্রদর্শনী – https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF_%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%3F?wprov=sfti1

৬/ সমকাম প্রকৃতি বিরুদ্ধ নয়/অন্যান্য প্রাণীতে সমকামের লক্ষণ (Science Daily)- https://www.sciencedaily.com/releases/2009/06/090616122106.htm

৭/ সমকামিতা দেখা যাওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীদের তালিকা- https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A6%BE_%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%BE_%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE_%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%80_%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE?wprov=sfti1

৮/ https://www.cigna.com/individuals-families/health-wellness/lgbt-disparities

শেয়ার করুন:
  • 154
  •  
  •  
  •  
  •  
    154
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.