আমি একজন ‘পুরুষতান্ত্রিক’ পুরুষ বলছি

ইশরাক সাব্বির নির্ঝর:

সুপ্রিয় পাঠকেরা, আজ আমি একজন পুরুষ হিসেবে কথা বলছি। সামাজিকভাবেও আমি পরিপূর্ণ একজন পুরুষ। চিন্তাধারার দিক থেকে আমি পুরুষতান্ত্রিক এবং আপনাদের ভাষায় মেল শোভেনিস্ট। আমি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষের প্রতিনিধি। আমি মনে করি পুরুষতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাসী যে কোনো পুরুষ এবং নারী মাত্রই পুরুষতান্ত্রিক। এখানে ঘটনাচক্রে আমি একজন পুরুষ।

একজন মেল শোভেনিস্ট হিসেবে বক্তব্য খুব স্পষ্ট। আমি নারীকে আমার সমতুল্য মনে করি না এবং নারীবাদকে ঘৃণা করি। কিছু মাত্রায় আমি নারী-বিদ্বেষী। আমার মতে, নারীর সৃষ্টি পুরুষের জন্যই। আজ অবশ্য আমার উদ্দেশ্য আমার মতবাদ প্রচার নয়- যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করা। জানি আপনারা, যারা নারী অধিকারের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন তাঁরা আমাকে ঘৃণা করেন। আমার একান্ত অনুরোধ আমার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন। পুরুষতন্ত্রকে না জানলে নারী-মুক্তির লড়াই অসম্পূর্ণ থাকবে।

প্রথম প্রশ্ন, আমি কেন পুরুষতান্ত্রিক? এর সঠিক উত্তর আমার নিজেরও অজানা। আমি শৈশব থেকে যা শিখেছি সমাজ থেকে, তাই চর্চা করছি। সমাজও প্রতিনিয়ত আমার মতাদর্শকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাই আমার বিশ্বাসও টলছে না। আমি কৈশোর থেকেই বুঝেছি পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে আমি কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং আমার বান্ধবী পার্শ্বচরিত্র। আমি কেন ছেড়ে দেবো আমার স্থান?
কিন্তু পুরুষতন্ত্র কি অলঙ্ঘনীয় প্রাকৃতিক সত্য? আসলে যুক্তি দিয়ে কখনোই ভাবিনি। এতোদিন শুধু জোর দিয়েই তালগাছকে আমার করে রেখেছিলাম। কেন পুরুষ শ্রেষ্ঠ? আমি বলেছি তাই। আর আপনারা তো জানেনই পৃথিবীর নীতি: যার লাঠি তার মাটি।

ইশরাক সাব্বির নির্ঝর

এমন নীতিতে এতোদিন ভালোই ছিলাম। এখন শুনছি পুরুষতন্ত্র নাকি পুরুষদেরই বন্দী করে ফেলেছে। মহামান্য কমলা ভাসিন বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন ম্যাম বললেন, আরো অনেক নারীবাদী বললেন। পুরুষতন্ত্রে আমরাই নাকি সবচেয়ে বড় ভিক্টিম। আসলেই কী?
আজ একদিনের জন্য আমি পুরুষতান্ত্রিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেখবো আর আমার বিশ্বাসের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তিপাত করবো আপনাদের সাথে নিয়ে।

পুরুষকে আমি কেন শ্রেষ্ঠ মনে করি? কারণ খুব সহজ। আমি মনে করি, নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল। পাঠকগণ- আঁখি মেলে দেখুন। যত কঠিন কাজ, অর্থাৎ ঘরের বাইরের কাজগুলো তো পুরুষেরাই করছে। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে পুরুষেরা, ঝুঁকি নিয়ে শ্রম দিয়েছে পুরুষেরা, অর্থনীতির চাকা ঘুরছে পুরুষের হাতে, কল চলছে পুরুষের হাতে।
কিন্তু হায়, বিজ্ঞান বলছে নারীরাই নাকি তুলনামূলক শক্তিধর লিঙ্গ। বিবিসি একটি গবেষণামূলক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে- নারীরা দুর্ভিক্ষ, মহামারী, এবং দাসত্বের মধ্যে পুরুষের তুলনায় বেশি টিকে থাকে। এমনিতেও বিভিন্ন দেশের লাইফ এক্সপেটেন্সির রিপোর্ট দেখলেই বুঝবেন- নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশিদিন বাঁচে। অর্থাৎ পুরুষরা আগে আগে বুড়িয়ে যায় এবং একসময় মারাও যায়।

তাহলে পুরুষরা যে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে, তার কী হবে? অবশ্য এমন হতে পারে পুরুষকে সমাজ প্রস্তুত করে ঝুঁকিপূর্ণ কঠিন শ্রমগুলো দেয়ার জন্য, তাই পুরুষকে বলবান বানানো হয়। কাজের গুরুত্ব দিয়েও মাপা যাচ্ছে না। গৃহস্থালীর কাজগুলোও কি কোন অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ?

এতো বিজ্ঞান তত্ত্ব না ঘেঁটে আসুন নিজেরাই একটু উদাহরণ খুঁজি। সব বাদ দিয়ে গর্ভধারণের কাজটাই একবার বিবেচনা করুন। শুনেছি গর্ভযন্ত্রণা থার্ড ডিগ্রি বার্নের যন্ত্রণা থেকেও ভয়াবহতর। পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক নারীই এই যন্ত্রণা সহ্য করেন, কখনো একাধিকবার। আর আপনারা বলেন তারা দুর্বল জাত।

নারী দুর্বল এ যুক্তি যখন টিকলো না- এবার ধর্মনীতি বা সমাজনীতির কথায় আসি। ধর্ম বা সমাজনীতি এযাবৎকাল আমরা যা দেখছি সবই পুরুষতান্ত্রিক। তার মানে কী? ঈশ্বর যখন বলছে নারী দুর্বল এবং পুরুষ শ্রেষ্ঠ, তখন আমি ক্ষুদ্র মানুষ তা অস্বীকার করি কী যুক্তিতে! অগত্যা বিশ্বাসের খাতিরেই মেনে নিতে হচ্ছে নারী দুর্বল।

কিন্তু না, এখানেও কথা আছে। ধর্মকে মেনে নিয়ে আপনার এ কথা মানতে নিশ্চয়ই বাধা নেই যে ধর্ম কোনো বিশেষ সমাজের, বিশেষ সময়ে নাজেল হয়েছে। তা প্রচারিত হয়েছে সেই সমাজের মানুষের দ্বারা। সুদূর অতীতে যখন ধর্মগ্রন্থগুলো পৃথিবীতে এসেছিল তখন সমাজ ছিল পুরুষতান্ত্রিক। পয়গম্বররা ধর্ম প্রচার যেমন করেছেন, তেমনি সমাজ সংস্কারও করেছেন। বিভিন্ন সমসাময়িক সমস্যার ব্যবহারিক সমাধান তাদের করতে হয়েছে। সমাজের রীতিনীতিগুলো বার বার তাই চলে এসেছে তাদের বক্তব্যে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের জন্য তাদের অনেক সমাধান আজকের প্রেক্ষাপটে পুরুষতান্ত্রিক শোনায়। তাই ধর্মের টেক্সটগুলোর অধিকাংশতেই রয়ে গেছে পুরুষতন্ত্রের চিহ্ন।

নারীকে ঈশ্বর বন্দী করেননি। বন্দী করেছে পুরুষতন্ত্র। আমরা নিরপেক্ষ নীতিকে ব্যাখ্যা করেছি নিজের সুবিধার্থে। ধর্ম অবশ্যই সর্বকালের মানুষের জন্য। কিন্তু ধর্মীয় বিধানের ক্ষেত্রে সঠিক ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনাও অত্যন্ত জরুরি।

যখন ধরেই নিলাম নারী দুর্বল নয়, ঈশ্বর নারীকে বন্দী করেননি, তবে আমি নারীকে স্বাবলম্বী হতে দেখলে এতো ভয় করি কেন? এই বিষয় নিয়ে একজন লেখিকা খুব সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন (উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত শেহরিন আমিন সুপ্তির- কেন নারীর স্বাবলম্বিতাকে এতো ভয় পুরুষতন্ত্রের দ্রষ্টব্য)। এখানে আমি নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটাই তুলে ধরছি।

অনেকগুলো কারণে আমি নারীর স্বাবলম্বী হয়ে উঠাকে ভয় করি।
প্রথমত, আমার ধারণা কোন নারী আমার সাথে যোগ্যতায় পেরে উঠবে না। কাজেই তারা যখনই আমার সমযোগ্যতার কোন কিছু করতে চায়, আমার মনে হয় ভীষণ সময় নষ্ট করছে।
দ্বিতীয়ত, নারী যদি আমার সমান কাজ করে তবে আমার জাত্যাভিমানে প্রবল আঘাত লাগে (মেল ইগো)। নারী অধম হয়ে পুরুষের মতো কাজ করবে, তা কি মেনে নেয়া যায়?
তৃতীয়ত, আমি খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি। আমার ধারণা স্বাবলম্বী নারী প্রতিবাদী এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না (শেহরিন আমিন এই বিষয়টি গুছিয়ে লিখেছেন)। এছাড়া নারী যদি অর্থনৈতিক কাজ করে, সংসার দেখবে কে? সন্তান লালন-পালন করবে কে? রান্না করবে কে? নারীকে স্বাধীনতা দিলে যে সংসার ভেঙে যাবে।
চতুর্থত, (এই কারণটি আমি গোপন রাখি) সত্যি বলতে কী অর্থোপার্জন ছাড়া আমি খুব অল্প কাজই জানি। আমি রান্না শিখিনি, সন্তান পালনে দক্ষ নই, ঘর সামলাতে ব্যর্থ, কাপড় ধুতে হিমশিম খাই। আমি শুধু অর্থ-উপার্জনের পন্থা এবং দিনরাত্রির প্রহরীর ভূমিকায়ই পারদর্শী। নারীও যদি এখন এ দুটোতে পারদর্শী হয়ে যায়- আমার স্বাতন্ত্র্য থাকলো কই?
পঞ্চমত, স্বাবলম্বী নারীরা মুক্তভাবে চলাফেরা করলে তারাই অনিরাপদ। সমাজে দুষ্ট লোকের তো অভাব নেই। এতে সমাজে ধর্ষণ, যৌন-নির্যাতনের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।

পাঠকগণ আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি জানি আপনাদের মধ্যে অনেক সহানুভূতিশীল পুরুষ আছেন যারা ঘরে এবং বাইরে সমান পারদর্শী এবং দায়িত্বশীল। এমন অনেক বাবা আছেন যাদের একা সংসার চালাতে হয় এবং সন্তান প্রতিপালন করতে হয়- অথচ তারা সন্তানকে মায়ের অভাব বুঝতে দেন না। অনেকেই তাঁর সহধমির্নীকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন এবং কঠোর শ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংস্থান করেন সংসারের জন্য। আপনাদের মন থেকে অভিনন্দন। এছাড়াও সব পুরুষতান্ত্রিক মিসোজিনিক নন। তাঁরা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিন্তু, পূর্বসংস্কার তাদের সত্যদর্শনকে ঢেকে রাখে।

এবার বিপরীত যুক্তিগুলো তুলে ধরছি।

প্রথমত, যে কোন নারীকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দেয়া হলে সে যোগ্যতায় কোন অংশে আমার আপনার তুলনায় কম যাবে না। বেশি দূর যেতে হবে না। রাজনৈতিক অঙ্গনেই দেখুন। বর্তমান পৃথিবীর নারী নেত্রীদের দেখুন। অথচ একসময় আমরা বলতাম নারীর ভোট দেয়ারও অধিকার নেই।

দ্বিতীয়ত এবং তৃতীয়ত, আপনি শ্রেষ্ঠ কিনা তার পরিচায়ক আপনার মনুষ্যত্ব, জীবনবোধ, মায়া মমতা এবং যোগ্যতা, আপনার পুরুষত্ব নয়। আপনার ইনসিকিউরিটিরও কোন কারণ নেই। আমি আশ্বস্ত করছি আপনার জীবনসঙ্গী স্বাবলম্বী হলেও আপনার সংসার সুখের হবে। হাজার হাজার স্বাবলম্বী নারী কী সুখের সংসার করছে না? তাছাড়া সংসারকে ধরে রাখার দায়িত্ব কী নারীর একার? আপনার নয়? আপনি নিজেকে ভরণপোষণের দায়িত্বে নিয়োজিত করে নারীকে দিয়েছেন মায়া মমতা ও সেবার দায়িত্ব। এতে নারী হারাচ্ছেন তাঁর অর্থনৈতিক যোগ্যতা আর আপনি হারাচ্ছেন আপনার সেবাধর্মিতার গুণ। আপনার মন হয়ে উঠছে কঠোর পাষাণ। এই অর্থনীতি আর সাংসারিক দায়-দায়িত্বের শ্রমবিভাজনের জিরো-সাম গেম না খেলে উইন উইন সিচুয়েশনে আসুন। নিজেও গৃহের কিছু কাজ হাতে তুলে নিন, নারীও নিক কিছু অর্থনৈতিক দায়ভার। আপনার জীবনসঙ্গিনী তার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন, আর আপনি পাবেন সেবাধর্মিতা ও মায়া-মমতা প্রকাশের সুযোগ। নির্ভরশীলতার নিষ্ঠুর শেকল থেকে আপনার সম্পর্ক মুক্তি পেয়ে হয়ে উঠবে সম্পূর্ণভাবে প্রেম ও মায়া নির্ভর।

চতুর্থত, আপনার অর্থোপার্জন ছাড়া অন্য কোন দক্ষতা নেই। বেশ তো- দক্ষতা অর্জন আপনার হীনমন্যতাও কেটে যাবে, লাইফ-স্কিল শেখা হবে। কারো গুণে ঈর্ষান্বিত হলে প্রতিশোধের সবচেয়ে প্রকৃষ্ট উপায় সেই স্কিল নিজে অর্জন ও চর্চা করা।
পঞ্চমত, একটু ভেবে দেখুন, কেমন সমাজে আপনি বাস করছেন যে সমাজ কোন মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে? সমাজের শিক্ষা ও মূল্যবোধের পতন হয়ে কিছু দুষ্কৃতির জন্ম নিলে তার জন্য নারীর স্বাবলম্বিতা দায়ী নয়। তা সমাজের শিক্ষা এবং মূল্যবোধের সংকট। নারীকে ঘরে বন্দী থেকে আত্মত্যাগ করতে বলা আর আপনি রাতে অফিস থেকে ফেরার সময় ছিনতাই হয়ে গেলে “আপনি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসে থাকলেই ছিনতাইকারীরা সুযোগ পেতো না” বলা একই কথা। তার থেকে আসুন সমাজ সংস্কার করি।

নারী স্বাবলম্বী হলে স্বাগত জানান। আপনি নিজে মুক্ত। আপনি কি চান না আপনার বান্ধবী, আপনার বোন, আপনার কন্যা সন্তান, আপনার প্রেমিকা, প্রতিবেশি বা বাসের পাশের সিটে বসা মেয়েটা আপনার মতোই মুক্ত হোক, স্বাধীন হোক? সুখ যে মুক্তির স্বাদে আমাদের সকলেরই অধিকার। অবশ্য নারীরা আপনার অনুমতির অপেক্ষায় বসে নেই। তারা সব সংস্কার ভেঙেচুরে বেরিয়ে আসছে। তারা আপনার সমান যোগ্য হয়ে উঠছে প্রতি ক্ষেত্রে, কখনো বা আপনাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর আপনি মিথ্যে চিন্তায় কষ্ট পাচ্ছেন। এসব বাজে নিয়ন্ত্রণের নেশা ছাড়ুন।

দেখা গেল আমার পুরুষতান্ত্রিক সংস্কারগুলোর পক্ষে শক্ত যুক্তি নেই বললেই চলে। তাছাড়া পুরুষতন্ত্রে পুরুষদেরও ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। ভীষণ বিভ্রম এই পুরুষতন্ত্র! তারা পুরুষকে রাজা বানিয়েছে ঠিকই- কিন্তু কেড়ে নিয়েছে তার সহজাত আবেগের প্রকাশ, মান-অভিমান এমনকি মনুষ্যত্বও। নারীবাদী দার্শনিক সিমোন দ্য বোভোয়ার বলেছিলেন- কেউ নারী হয়ে জন্মায় না। তারা নারী হয়ে উঠেন। পুরুষের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। পুরুষতন্ত্রের চাপে আমরা প্রতিনিয়ত পুরুষ হয়ে উঠছি।

দুঃখে জর্জরিত হলে সে পুরুষের কাঁদার অধিকার নেই- কারণ সে পুরুষ। পুরুষেরা কাঁদে না। আচমকা বজ্রপাত হলে তার ভয় পাওয়ার অধিকার নেই, কারণ সে পুরুষ। পুরুষেরা সাহসী হয়। সংসারের সব ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে পুরুষকে, প্রয়োজনে একা। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে যুদ্ধে যেতে হবে পুরুষকে, ঝুঁকিপূর্ণ সব শ্রমে লাগবে পুরুষকে। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেও আপনি টুঁ শব্দটি করতে পারবেন না। আপনার পুরুষত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পুরুষতন্ত্র পুরুষকে অমানুষ করে দিচ্ছে।

পুরুষতন্ত্রের চাপে সে হারাচ্ছে মনুষ্যত্ব। একজন পুরুষ যখন তার অর্ধাঙ্গিনীর উপর নির্যাতন চালায়, যৌন হয়রানির করে, ধর্ষণ করে, তখন সে সেই কাজকে একটি মিথ্যে অধিকারবোধ দিয়ে স্বতসিদ্ধ করে। যতই ভিক্টিম ব্লেমিং করুক না কেন মনে মনে সে পুরুষ অন্তস্থলের আগুনে জ্বলতে থাকে। পচে যাওয়া এই সিস্টেম জন্ম দিচ্ছে এমন পুরুষ। এর জন্য নারী দায়ী নয়, পুরুষ দায়ী নয়। দায়ী পুরুষতন্ত্র। এমন পুরুষদের জন্য একটি পুরুষফোবিয়া জন্ম নেয় সমাজে। অনেক মিথ্যে অভিযোগের ঘটনাও ঘটে। কিন্তু তার জন্য কে দায়ী বলুন? নারী? নারীবাদ? নাকি পুরুষরূপী পশু জন্ম দেয়া পুরুষতন্ত্র?

আরেকটি প্রবল দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যায় পুরুষতান্ত্রিক পুরুষেরা। পুরুষতন্ত্র বলে পুরুষ শ্রেষ্ঠ। কিন্ত বর্তমানে নারীরা যখন তার সমপর্যায়ে চলে এসেছে (ছাড়িয়েও যাচ্ছে কিছুটা) একটা দ্বন্দ্বের মধ্যে পরে যাচ্ছে সে। মিথ্যে একটি লজ্জায় তার মাথা কাটা যায়।

পুরুষদের বলছি- দুঃখ পেলে আপনার কান্নার অধিকার আছে। আপনার ভয় পাওয়ার অধিকার আছে। দরজার বাইরের ওই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আপনি একা নন- আপনার হাত মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নারী সহযোগীরা। আপনার হৃদয় পাষাণ নয়- তাতে লুকিয়ে আছে অজস্র মায়া-মমতা। শুধু শক্তিচর্চা নয়, সেবাধর্মও আপনার ধর্ম।

আসুন পুরুষের আগে মানুষ হই। নারীবাদীদের শত্রু না ভেবে তাদের সহযোদ্ধা হই।

অধ্যাপক কাবেরী গায়েন ম্যামের মতো স্লোগান তুলি-

“পুরুষতন্ত্র নিপাত যাক,
পুরুষেরা মুক্তি পাক”

লেখক:
শিক্ষার্থী,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.