করোনা মহামারিতে ৪০ লাখ কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে

ইংরেজি থেকে অনুবাদটি করেছেন নাসরীন রহমান:

আন্তর্জাতিক শিশু দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনা মহামারির কারণে আগামী দুই বছরে বিশ্বে ৪০ লাখ শিশু বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে; মহামারির কারণে আর্থিক দুরবস্থা এতোটাই ভয়াবহ আকার নেবে যে তা কাটিয়ে উঠতে পরিবারগুলো তাদের কন্যাশিশুদের বিয়ে দিয়ে দিতে পারে; তাছাড়া বিদ্যালয় বন্ধ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশু-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে যাবে।

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সংস্থাটির বাল্যবিবাহ বিশেষজ্ঞ এরিকা হল বলেন যে, সংকট, দুর্যোগ এবং মহামারির মতো সমস্যা দেখা দিলে বাল্যবিবাহের ঝুঁকিও তৈরি হয়। আমরা যদি এখনই এ নিয়ে না ভাবি তবে খুব দেরি হয়ে যাবে। আমরা মহামারি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না।

ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুদান, আফগানিস্তান ও ভারতে বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ রয়েছে, যেখানে হেল্পলাইনে কল দেওয়ার পরে সংস্থাটির লোকজন পুলিশ নিয়ে সাতটি বিয়ে বন্ধে কাজ করেছিল।

হল আশঙ্কা করছেন যে, কিছু লোক বাল্যবিবাহ গোপন করার জন্য লকডাউন ব্যবহার করবে, তবে তিনি আশা করেছিলেন যে পরিবারগুলি অর্থনৈতিক পরিণতির সাথে লড়াই করার পরে এই সমস্যাটি সামনে আসবে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন যে, করোনার কারণে স্কুলগুলি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যেসব সংস্থা বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজ করে সেইসব সংস্থার পক্ষে লকডাউনের সময় কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ায় মূলত বাল্যবিবাহের ঝুঁকিগুলি আরও বেড়ে গেছে! আরও একটি বিষয় আছে, একদিকে যেমন বাল্যবিয়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি প্রজনন স্বাস্থ্যসেবাও করোনা মহামারির কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে কিশোরীদের ওপর।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর বয়স ১৮ পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রায় এক কোটি ২০ লাখ কিশোরীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, যা হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রতি সেকেন্ডে একজন।

জাতিসংঘের এক রিপোর্টে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে এই বলে যে, করোনা মহামারির কারণে পরবর্তী দশক জুড়ে আরও অতিরিক্ত এক কোটি ৩০ লাখ বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটবে। বাল্যবিয়ে নিরসনের লক্ষ্যে কর্মরত ১৪শ সংস্থা মিলে তৈরি গ্লোবাল পার্টনারশিপ ‘গার্লস নট ব্রাইডস’ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহি ফেইথ মুয়াঙ্গি-পাওয়েল বলেছেন, ‘যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তারা একে মোটেও স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে না। ঘটনাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে বিশ্বজুড়ে এক বিশালসংখ্যক বাল্যবিয়ের ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছি। ভারত, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা থেকে এরকম খবরগুলো আসছে। অনেকেই বলছে যে বাল্যবিয়ে নিরসনে আমরা গত দশকগুলো ধরে যেসব কাজ করেছি তা সব মিথ্যা হয়ে যাচ্ছে, আবারও ফেরত আসছে সেই আগের সময়গুলো। বিশেষ করে স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগটা বেশি তৈরি হয়েছে। কারণ স্কুল অনেকক্ষেত্রেই শিশু-কিশোরীদের সুরক্ষা দেয়। স্কুলগুলি যখন বন্ধ করে দেয়া হয় তখন বিয়ের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। এমনকি করোনা পরবর্তিতেও মনে হচ্ছে অনেক মেয়েই আর স্কুলে ফিরবে না। যা কিনা খুবই উদ্বেগজনক। এ বিষয়গুলো আমাদের নিশ্চিত করতে হবে’।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তা হল বলেছেন, মূলত করোনাকালে যে ভয়াবহ আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে তা থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতেই কন্যাশিশুদের এমন অবস্থার বলি হতে হবে। কারণ এছাড়া দরিদ্র পরিবারগুলোর আর কোনো বিকল্পও নেই। এটা দু:খজনক।

শেয়ার করুন:
  • 299
  •  
  •  
  •  
  •  
    299
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.