জীবন অমূল্য, একে উপভোগ করুন

মৌমিতা নওশীন সাথী:

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সে অনুযায়ী কাজের সুযোগ না পেলে বা বাধা পেলে যেমন ডিপ্রেশন তৈরি হয় ۔ তেমনি অনেক অনেক যোগ্যতা ক্যারিয়ার বা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ চরম ডিপ্রেশনে ভোগে।

শুধু আর্থিক সমস্যা বা কোনকিছু অপ্রাপ্তির কারণেই ডিপ্রেশন তৈরি হয় না, আত্মবিশ্বাস, নিজেকে ভালোবাসা, নিজেকে চেনা জানার অভাবেও এমন হয়… আমরা যতক্ষণ অন্যের ভালোবাসার প্রত্যাশা করি ۔۔তার অর্ধেক সময় বা গুরুত্ব যদি নিজেকে আমরা দিতাম তবে ডিপ্রেশন তৈরি হতো না।
অথচ নিজেকে ভালোবাসা۔۔ নিজের সাথে বোঝাপড়া করা কত সহজ! কত কত কাউন্সেলিং করেও কাজ হয় না এই নীরব ঘাতক রোগ ডিপ্রেশন থেকে বের হতে…কত কত চাওয়া পাওয়া মানুষের! কারও কাছে দুইবেলা পেট ভরে খেতে পাওয়ার নাম সুখ, কারও কারও অঢেল সম্পদ থাকার পরেও অপ্রাপ্তির কষ্ট!

একজন মানুষের মধ্যে যেসব সম্ভাবনা আছে তার উপযুক্ত ব্যবহার নিজেকেই নিশ্চিত করতে হয়। কিন্তু সমাজ ও পরিবারের ভয়ে পিছিয়ে যায় অনেক কিছু।
সমাজের প্রথা ۔۔ পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে যে ডিপ্রেশনে ভুগে আজ নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন, আপনি মরে গেলে বা আত্মহত্যা করলে তারা কয়দিন মনে রাখবে, আর তখন কি পরিবারের সম্মান সমাজে বাড়বে?
ডিপ্রেশনকে ছুটি দিন, তার চেয়ে বরং নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন।
এর বিনিময়ে হয়তো শুনতে হবে অনেক কুকথা, হারিয়ে যাবে অনেক সম্পর্ক, তাতে কী!

এবার নিজে নিজে তুলনা করেন ۔۔
ডিপ্রেশনে ভুগে নিজে শেষ হবেন?
নাকি সমাজের ভয়ে যন্ত্রণাময় সম্পর্ককে মুক্তি দিয়ে নিজে ভালো থাকবেন۔?
কেউ কেউ অন্যের কুকথার প্রতিবাদ বা পদক্ষেপ নিতে না পারার কারণে অনেক ডিপ্রেশনে ভোগে …۔ কখনও কখনও অন্যের বিকৃত চাওয়া পাওয়া বা অযাচিত মাতব্বরি বা অত্যাচার করার আপনি একটা মাধ্যম মাত্র। অন্যের এ ধরনের চাহিদা মিটিয়ে ভালো রাখার দায়িত্ব আপনার নয় ۔۔ ছোট-বড় যেই হোক এধরনের সম্পর্ককে পরিহার করুন۔۔ নিজেকে নিজ দায়িত্বে ভালো রাখুন।

কোন গরীব আত্মীয় বা সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থাকেন, দায়িত্ব নিন, আত্মহত্যার চিন্তা চলে যাবে।
এতো আধুনিকতায় ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মিলছে না ۔۔ যদি ধর্মকে আঁকড়ে ধরে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মেলে তবে তাই করুন। ধর্মীয় বিশ্বাসকে সচেতনভাবে ধারণ করা মানুষ বা ধর্মীয় যাজকদের মধ্যে আত্মহত্যার নজির তুলনামূলক অনেক কম।
ডিপ্রেশন/একাকিত্বের রোগটি উচ্চবিত্তের মধ্যে বেশি এবং এরাই বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ۔۔ মধ্যবিত্ত আর গরিব তো মৌলিক চাহিদার যোগানেই ব্যস্ত আর ভরসার জায়গায় অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তা।
তবে ডিপ্রেশনে কঠিনভাবে পড়লে সমাধানের পথ সংকীর্ণ হয়ে আসে, তাই শুরুতেই সচেতন হওয়া উচিত। আর এজন্যেই নিজেকে ভালোবাসা উচিত, আর মাঝে মাঝে একটু স্বার্থপর ও নিষ্ঠুরতাও প্রয়োজন নিজেকে বাঁচানোর জন্যে।

ডিপ্রেশন একদিনে তৈরি হয় না, চরম পর্যায়ে যাওয়ার আগে নিজেই প্রতিকার খুঁজুন। ক্ষুধাপীড়িত পৃথিবীতে প্রেম, বিরহ, অপ্রাপ্তির কষ্ট খুব মামুলি বিষয় ۔۔۔
পৃথিবীতে অল্পদিনের জন্যে বাঁচবেন, প্রয়োজনে সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখুন, তবু মাথা উঁচু করে বাঁচুন। তাই চরম ডিপ্রেশন বা আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠার মুহূর্তে আরেকবার ঘুরে দাঁড়ান।
কারও কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা না করে আপনার অমূল্য জীবনকে বিলিয়ে দিন পরোপকারে।
পরোপকার করতে গিয়ে নিজেরা যখন অন্যকে পরামর্শ দিবেন ভালো থাকার বা দায়িত্ব নিবেন ভালো রাখার, তখন তাদের প্রয়োজনে নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্বটাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

তাই প্রতিনিয়ত নিজের কাছেই নিজে নতুন করে বাঁচুন, নিজেকে আর নিজের বেঁচে থাকাকে নতুন করে আবিষ্কার করুন। অল্পদিনের অমূল্য জীবনকে বোঝা না ভেবে উপভোগ করুন।

Moumita Noushin Sathi
CEO-Tourism Addiction

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.