জন্মসূত্রে সকল মানুষই তো সমান!

রিমি রুম্মান:

তখন আমি ম্যানহাটনের একটি চেইন স্টোরে কর্মরত। ক্রেতাদের অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গ। প্রায় সময় লক্ষ্য করলে দেখা যেতো শ্বেতাঙ্গ বাবা কিংবা মায়ের সাথে যেসব শিশুরা আসতো, ক্যাশ কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়াতো মূল্য পরিশোধের উদ্দেশ্যে, তারা বেশ ধীর, স্থির, শান্ত। কোন আবদার করে বসতো না। বাবা-মা’কে বিব্রত করতো না, কিংবা অস্বস্তিতে ফেলতো না। কখনো কোন শিশু কিছু কেনার আবদার করলে সেইসব বাবা-মায়েরা অমত করতেন না। অথবা দিতে না চাইলে সুন্দর করে এমনভাবে বুঝিয়ে বলতেন যেন একজন পরিণত মানুষকে বোঝাচ্ছেন। শিশুটিও কোন উচ্চবাচ্চ্য না করে মেনে নিতো। বিষয়টি সেই মুহূর্তে আমায় বেশ বিস্মিত করতো। এবং দৃশটি অসাধারণ মনে হতো। সেই থেকে আমার ভেতরে এক ধরনের ধারণা জন্মায় যে শ্বেতাঙ্গরা আসলেই মার্জিত, শিক্ষিত এবং ভদ্র।

আবার অন্যদিকে ক্যাশ কাউন্টারের সামনে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো কৃষ্ণাঙ্গ ক্রেতাদের অধিকাংশই ছিল অস্থির এবং অশান্ত। তারা বেশ বিরক্তির সাথে অপেক্ষা করতেন। ফিরতি ডলার এবং রশিদ দিতে খানিক বিলম্ব হলেই খিটমিট লাগিয়ে দিতো। তাদের কথা বুঝতে অসুবিধা হলে ‘ এক্সকিউজ মি, আমি ঠিক বুঝিনি, আরেকবার বলবে ?’ এমন অনুরোধ সত্ত্বেও তারা রাগান্বিত হয়ে কপাল কুঁচকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলতো, ইংরেজি জানো না ? যদিও এমপ্লয়িদের সর্বদা সব পরিস্থিতিতেই ক্রেতার সাথে নমনীয় থাকতে হতো, তবুও একবার আমার এক সহকর্মী ক্ষেপে গিয়ে প্রতিউত্তরে বলেছিল, ইংরেজি জানি না বলেই তো স্বল্প বেতনে এখানে কাজ করছি, আর তোমার মতো ক্রেতাদের বিরুপ কথা শুনছি!

একদিনের কথা। খ্রিস্টমাসের সময়। ধুম ব্যস্ততা। সকলেরই প্রিয়জনের জন্যে উপহার কেনার হিড়িক। খুব দ্রুততার সাথে ক্রেতাদের কাছ থেকে জিনিষের মূল্য নিচ্ছি, বিদেয় দিচ্ছি। ক্রমশ এগিয়ে এলেন কৃষ্ণাঙ্গ বিশালদেহী এক নারী। কসমেটিক্সগুলো ঝুড়ি থেকে কাউন্টারের উপর রাখলেন। সিগারেট চাইলেন ‘মার্লবোরো লাইটস’। কাউন্টারের পিছনের সেলফে রাখা সিগারেট নিচ্ছিলাম, শুনলাম সাথে থাকা সাত/আট বছরের শিশুর কণ্ঠস্বর। সামনেই সাজানো ক্যান্ডি থেকে কিছু কেনার আবদার করছে মায়ের কাছে খুব বিনয়ের সাথে, ‘প্লিজ’ শব্দটি উচ্চারণ করে। মা হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তা আবার আগের জায়গায় রেখে ধমকের স্বরে বললেন, আমার কাছে যথেষ্ট ডলার নেই। অতঃপর আমি তাদের হনহনিয়ে চলে যাওয়া দেখি। ভাবি, যে মা কসমেটিক্স কিংবা সিগারেট কেনার সামর্থ্য রাখে, তিনি শিশুকে সামান্য কয় আনার লজেন্স কিনে দেবার সামর্থ্য নেই! শিশুটিই বা কী শিখলো মায়ের এহেন আচরণ থেকে ? সেইদিন আমার ভেতরে ধারণা জন্মায় এভাবেই হয়তো কালো শিশুরা তাদের পরিবার থেকে রূঢ়তা কিংবা অন্যকে অসম্মান করা শিখছে।

বেশ কিছুদিন পর এক ভর দুপুরের নীরব সময়ে কর্মস্থলে ব্যস্ততা নেই, রেকর্ডারে বাজতে থাকা মিউজিকের সাথে মাথা দোলাচ্ছি আর টুকটাক পেপার ওয়ার্ক করছিলাম। এলো তিন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ। প্যান্ট কোমরের অনেকখানি নিচে নামানো, গায়ে ভারি ঘন কালো জ্যাকেট। জ্যাকেটের চতুর্দিকে বড় বড় পকেট। মাথায় জ্যাকেটের হুড তোলা। এসেই তিনজন তিনদিকে হাঁটলেন। একজন সাথে নিয়ে আসা কালো গারবেজ ব্যাগে এলোপাথাড়ি কসমেটিক্স ভরছেন, একজন সদর দরজায় দাঁড়িয়ে পাহারায়, আর অন্যজন ক্যাশ কাউন্টারের পাশেই সাজিয়ে রাখা নানান রকম ব্যাটারি পকেটে নিচ্ছেন দ্রুতই। ভীত সন্ত্রস্ত আমি নিরুপায় তাকিয়ে থাকি সেদিকে। আমার একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা দেখে কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ক্ষেপে গেলো। ধমকের সুরে বলল, ‘ হানি, হোয়াটস ইয়োর প্রবলেম, ডু ইয়োর জব, ওকে ?’ বিষয়টা অনেকটা চোরের নিজেরই বড় গলার মতো। তারা নির্বিঘ্নে কেটে পড়ার সময়টাতে স্টোরের সিকিউরিটি গার্ড লাঞ্চ সেরে বেইজমেন্ট থেকে সবে উপরে এসেছে। চোরদের দেখেই ছুটলো পিছু পিছু অনেকটা পথ। অতঃপর হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এলো। নিজেকে নিজেই ভর্ৎসনা করলো অসতর্কতার কারণে।

স্টোরের সিকিউরিটি গার্ডের নাম ছিল তৌফিক। নামটি বাঙালি মনে হলেও মূলত সে ছিল আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম। আফ্রিকার ঘানায় তাঁর পূর্বপুরুষদের বসবাস। গায়ের রং কুচকুচে কালো। মাথায় গুড়িগুড়ি কোঁকড়া চুল, কিংবা নেই বললেই চলে। হালকা পাতলা গড়ন, মাঝারি উচ্চতা। রোজ লাঞ্চ ব্রেকে সে যোহরের নামাজ আদায় করে নিতো। কাজের কোন এক ফাঁকে বেইজমেন্টে গিয়ে আসর এবং মাগরিবের নামাজও আদায় করতো সুযোগ বুঝে। অন্য অনেক কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের সাথে নানাবিধ অভিজ্ঞতার কারণে তাদের প্রতি আমার ধারণা যদিও সুখকর ছিল না, কিন্তু তৌফিক ঠিক তার বিপরীত। দুপুরের খাবারের সময় বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া আমার খাবারটি তার বেশ পছন্দের ছিল। তাই মাঝে মাঝেই আমি দুটো টিফিন বক্সে খাবার নিতাম। রাইস উইথ বিফ কারি। অনেকটা ভাইবোনের ভাগাভাগি করে খাওয়ার মতো। তৌফিক প্রায়ই বলতো, ইউ আর লাইক মাই সিস্টার।

প্রথমবারের মতো মা হতে যাচ্ছি এ খবর যখন সহকর্মীরা অবগত হলো, তারা সকলেই আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হলো। সেইসময়ে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলো তৌফিক নামের ভিনদেশি ছেলেটি। আমার দায়িত্বে কিছু ভারি কাজ ছিল, যা তৌফিক তার নিজের কাজের ফাঁকে করে দিয়ে যেতো। শাসনের স্বরে বলতো, এইসময়ে ভারি কাজ করা ঠিক না। কোন প্রয়োজনে সে বাইরে গেলে জানতে চাইতো কিছু খাবো কিনা, কিছু আনতে হবে কিনা। কর্মস্থলে আমায় রেস্টরুমের দিকে যেতে দেখলে দৌড়ে গিয়ে টয়লেট, বেসিন ঝটপট পরিষ্কার করে এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করে দিয়ে আসতো, যেন অপরিচ্ছন্নতা দেখলে আমার বমি না হয়। যেন সত্যিই আমার মায়ের পেটের ভাই। তৌফিকের এমন মানবিক ব্যাবহারে আমি যারপরনাই কৃতজ্ঞ থাকতাম। সেইসময়ে আমার ভেতরে যে অনুভূতি সঞ্চারিত হতো, তা শ্রদ্ধার, সম্মানের।

সন্তান জন্মের ঠিক দুই মাস আগে থেকে আমি আর কাজে ফিরলাম না। একসময় তৌফিকও পেশা বদল করলো। ট্যাক্সি চালনা পেশায় নাম লেখালো। মাঝে মাঝে আমার বাসার আশেপাশে কোন যাত্রী নিয়ে এলে ফোনে জিজ্ঞেস করতো, রাইস উইথ বিফ কারি রেঁধেছি কিনা। একবার এলো। খাওয়াদাওয়া শেষে বিদায় নেবার সময় আমার ৫/৬ মাসের সন্তান রিয়াসাতকে মামা মামা বলে কোলে নিতে চাইলো। রিয়াসাত সে কী চিৎকার করে কান্না! কিছুতেই যাবে না। দাদুর কোলে আরও শক্তভাবে লেপটে থাকলো। তৌফিক খুব দুঃখিত হয়ে বললো, ‘আমি কালো বলে তোমার ছেলে ভয় পেয়েছে। স্রষ্টা আমায় এমন না বানালেও পারতো’। আমিও বোঝাতে চাইলাম, ‘কালো বলে নয়, অচেনা বলে। শিশুরা অচেনা কারো কাছে যেতে চায় না’।

এর মাঝে সময় গড়িয়েছে অনেক। সাংসারিক ব্যস্ততায় যোগাযোগও ফিকে হয়ে এসেছে। কিন্তু আজও এই শহরের ব্যস্ততম ম্যানহাঁটনের রাস্তায় শত শত হলুদ ট্যাক্সির ছুটে চলা দেখলে আমার সুদূর আফ্রিকার ঘানায় জন্মগ্রহণকারী কৃষ্ণাঙ্গ যুবক তৌফিকের কথা মনে পড়ে। চলার পথে কৃষ্ণাঙ্গদের রূঢ় আচরণ দেখলে আমার ভেতরে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে না। আমার কেবলই একজন সহানুভূতিশীল মানুষের কথা মনে পড়ে। আমার ভিতরে উপলব্ধি হয় যে, জন্মসূত্রে সকল মানুষ সমান এবং নিষ্পাপ।

ভালোমন্দ সব জাতিতেই আছে। কিন্তু ওই যে বললাম, যে শিশুরা ছোট থেকেই দেখে শেখে যে, মা নিজের জন্যে সিগারেট, কসমেটিকস কিনে দাম দিয়ে, অথচ সামান্য কয় পয়সার ক্যান্ডি সন্তানের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে বলে, টাকা নেই, তারা তো বড় হয়ে সেই স্বভাবটাই নিজের ভেতরে ধারণ করবে স্বাভাবিকভাবেই। এটি যে কোন জাতির জন্যেই প্রযোজ্য। আবার জগতে তৌফিকদের মতো মানবিক মনের মানুষও আছে, যারা ভাষা কিংবা দেশ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অচেনা নারীদের নিজের বোনের মতোই আগলে রাখে সযতনে।

বেশ আগে একটা ভিডিও দেখছিলাম ইউটিউবে। যেখানে বলা হচ্ছিল Human Zoos অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের চিড়িয়াখানা খোলা হয়েছিল অনেক বছর আগে। এশিয়ান এবং আফ্রিকান মানুষদের পশুদের মতো করে সাদা চামড়ার মানুষদের দেখানোর জন্যে এটি খোলা হয়েছিল। ডারউইনের থিওরি যে সত্য, সেটা প্রমাণ করাও এর উদ্দেশ্য ছিল। সাদা চামড়ার মানুষেরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করতো। কালো মানুষদের সম্পর্কে জানার জন্যে তারা সেখানে যেতো। এটি ইতিহাসের জঘন্য এবং ন্যাক্কারজনক সময়। প্যারিস, লন্ডন এবং বার্লিনে খুব সহজেই দেখা যেতো এমন চিড়িয়াখানা। হাজার হাজার মানুষ সেইসব চিড়িয়াখানা দেখতে যেতো। ভিন্ন ভিন্ন উপজাতি নৃত্য করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করতো। লজ্জার বিষয় হলো এ ধরনের চিড়িয়াখানা বেশ অনেক বছর ধরে চলেছিল, যা মানব সভ্যতার এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে ইতিহাসে। ভাবা যায়!

কালের বিবর্তনে সাদা-কালো’র দূরত্ব কিছুটা কমে আসে যদিও, কিন্তু আমেরিকায় সাদা চামড়ার মানুষেরা কালোদের সাথে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ অব্যাহত রাখে। একদা শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে একই রেস্তোরাঁয় খাবার খেতো না। যানবাহনেও শ্বেতাঙ্গদের দেখলে বসার সিট ছেড়ে দিতে হতো কালোদের। মনিব আর ভৃত্যের মতো। ১৯৫৫ সালে রোসা পার্ক নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী বাসে শ্বেতাঙ্গ যাত্রীকে বসার সিট ছেড়ে না দেয়ার অপরাধে গ্রেফতার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে মণ্টোগোমারিতে অনির্দিষ্টকালের জন্যে বাস বয়কটের ডাক দেনমার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। তিনিই প্রথম মানুষ যিনি আমেরিকায় কালো মানুষদের অধিকার আদায়ের লক্ষে আন্দোলন করেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ব্যক্তিরা যুগযুগ ধরে নির্যাতিত, নিপীড়িত আর অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করে গেছেন, তাদের অন্যতম ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং। ১৯২৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি আটলান্টার জর্জিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসি’র লিংকন মেমরিয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক মুক্তি সহ সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের দাবিতে এক সমাবেশে মিলিত হন। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর দেয়া বিখ্যাত ভাষণ ‘অ্যাই হেভ অ্যা ড্রিম’। জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক স্মরণীয়, ঐতিহাসিক ভাষণ। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অহিংস আন্দোলনের জন্যে ১৯৬৪ সালে মার্টিন লুথার কিং নোবেল শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত হন। ১৯৬৮ সালের ৪ঠা এপ্রিল শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থী আততায়ীর গুলিতে এই মহান নেতা নিহত হন।

মারটিন লুথার কিং এর স্বপ্ন একদিন সত্যি হয়। আঁধার সময় পেরিয়ে আসে ঐতিহাসিক আলোকিত দিন। ২০০৯ সাল। আমেরিকার ৪৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কৃষ্ণাঙ্গ বারাক ওবামা। ২০১৭ সাল অব্দি টানা আট বছর বিশ্বের এক নাম্বার এই দেশের নেতৃত্ব দেন তিনি। তবুও দুর্ভাগ্য যেন কৃষ্ণাঙ্গদের পিছু ছাড়ে না। এই ২০২০ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ কর্মকর্তার নিপীড়নে কৃষ্ণাঙ্গ মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করা হয়। ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং’কে হত্যার পর সারা আমেরিকায় যেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, এখন ঠিক তেমনটিই দেখা যাচ্ছে।

৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছিল। এতে সে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫শে মে, আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রধান শহর মিনিয়াপোলিসে। বিক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে।

করোনাভাইরাস মহামারীকালীন লক ডাউনের মাঝেও জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথাও কোথাও ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী মোতায়েন করতে হচ্ছে। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখলাম, পুলিশ কর্মকর্তার হাঁটুর নিচে চাপা পড়া অবস্থায় অর্থাৎ মৃত্যুর ঠিক আগে ফ্লয়েড আকুতি করছিল, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ বলে। আমার তখন কেবলই মনে পড়ছিল সুদূর আফ্রিকার ঘানায় জন্মগ্রহণকারী তৌফিক নামের একজন প্রচণ্ড ধার্মিক, সহানুভূতিশীল মানুষের কথা। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা হাসিখুশি মানবিক মনের কৃষ্ণাঙ্গ এই মানুষটি ভাষা কিংবা দেশ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অচেনা আমায় কর্মস্থলে নিজের বোনের মতোই আগলে রেখেছিল সযতনে। কিন্তু গত কয়দিনের ঘটনা অর্থাৎ বিক্ষোভের নামে জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর-লুটপাট করা কৃষ্ণাঙ্গ মানুষগুলোকে কিছুতেই সেই তৌফিকের সাথে মেলাতে পারি না। কিছুতেই না।

রিমি রুম্মান
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.