প্যারেন্টিং যখন ভয়াবহ এক চ্যালেঞ্জ!

কাজী সামিয়া মোন্নাফ সাম্য:

নিজে এই সংঘাতের সময় পার করে এসেছি বেশিদিন হয়নি। তার উপর ঘরে এখনও দুইজন টিনেজার, দুইজন ভার্সিটি পড়ুয়া ৷ সমস্যাগুলো তাই একদমই বুঝি না বা পরিবার নামক প্রতিষ্ঠানের তাঁবেদারি করছি, তা না।

বাবা-মা বোঝেন না/মেন্টাল/ফিজিক্যাল টর্চার করেন/নিজেদের সব ফ্রাস্ট্রেশন/উচ্চাকাঙ্ক্ষা সন্তানের উপর চাপিয়ে দেন – যার ফলে এই জেনারেশনের প্রতিভাবান মানবিক ছেলেমেয়েরা ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছে, কেউ কেউ সুইসাইড করছে (অনেকের মতে)। করোনার এই গৃহবন্দী সময়ে পুরো সময়টাই যখন এখন একসাথে কাটাতে হচ্ছে, অনেকেরই সমস্যা বাড়ছে।

কাজী সামিয়া মোন্নাফ সাম্য

বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের জেনারেশন গ্যাপটাই মূলত সমস্ত ঝামেলার মূলে। অনেক বুদ্ধিমান বাবা-মা আছেন যারা নিজেরা একটু আপডেট হয়ে জেনারেশন গ্যাপটা মিনিমাইজ করার চেষ্টা করেন। বাকি অধিকাংশই স্টেরিওটাইপ। আমাদের ৯০ এর দশকের সন্তানদের বাবা মায়ের কাছে সন্তান ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে মুখ গুঁজে আছে মানেই রসাতলে গেছে, রাত করে কেন ঘুমাচ্ছে, ভোরে কেন উঠছে না এসব নিয়েই লাগাতার খিটমিট। এসব প্রতি ঘরের কাহিনী। আমার বাসায়ও হচ্ছে হররোজ। তো? প্রথমেই মেনে নিচ্ছি সমস্ত দোষ বাবা মায়ের ৷ তারা নিজেদের অপ্রাপ্তিগুলো সন্তানের উপর চাপিয়ে দিতে চান, নিজেরা স্বৈরাচারি মনোভাব রাখেন, সন্তান পড়তে চায় আর্টস, জোর করে চাপিয়ে দেন সায়েন্স। ব্লা, ব্লা, ব্লা। সন্তানেরা কী করছে? তারা এই জেনারেশন গ্যাপ মেটানোর জন্য স্টেপ নেয়? এই লকডাউনের দিনেই এক ছাদের নিচে থেকেও কয় ঘন্টা সময় দেয় বাবা মাকে? কয়টা কথা বলে দিনে?

প্যারেন্টিং একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় ৷ জন্ম দিলেই বাবা মা হওয়ার যুগটা আমরা পেরিয়ে এসেছি। বাবা মা দের ও বুঝতে চেষ্টা করা উচিত সবকিছু চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে। স্টেরিওটাইপিং টা সহজে দূর হওয়ার জিনিস না যদিও। এই যে আমার শিক্ষিত কর্মজীবী স্মার্ট মায়ের সাথেই অনেক কিছু কিন্তু মিলে না৷ তাই বলে তিনি ভুল বা আমি ভুল তা কিন্তু না। গ্যাপটা যুগের সাথে তাল মিলানোয়।

যে খাওয়ায় সেই খোঁটা দেয়। বাবা নিজে সংসার চালাতে হিমশিম খান বলেই সন্তান যেন সংসার চালাতে হিমশিম না খায় তাই সরকারি চাকরির জন্য ট্রাই করতে প্রেশার দেয়। সন্তানেরা ঠিক কী আশা করে? বাপ-মা খাওয়াবে, পরাবে। আর তারা ইচ্ছেখুশি মতো জীবন কাটাবে? সেই ইচ্ছেখুশিতে জীবন কাটানোও যদি প্রোডাক্টিভ কিছু হয়! বাপ মা খেটেখুটে আপনার রোজকার খরচ বহন করবে, আর আপনি ছবির হাটে গাঁজা খেয়ে বুঁদ হয়ে থাকবেন- এই জিনিসটা ফ্যামিলি না মানতে চাইলেই ফ্যামিলি হয়ে যায় খুব খারাপ, আর আপনাদের সুইসাইড করে ফেলতে ইচ্ছে করে।

আত্মহত্যা কখনোই সমাধান না। যারা আত্মহত্যা করে তাদের সাহসী তকমা দেওয়ারও মানে দেখি না। ইফ ইউ আর ব্রোকেন, এডিক্ট, ফ্রাস্ট্রেটেড অর এনিথিং এলস- সিক হেল্প। যথেচ্ছা জীবনাচরণকে ইচ্ছে স্বাধীনতায় বাঁচবার নাম যদি দাওই, তবে তার ফলস্বরূপ যে বিষন্নতা বা একাকিত্ব ভর করে তা বইবার সামর্থ্য তোমাদের হয় না কেন?

#guilty_but_not_guilty

লেখক: সমতা ফাউন্ডেশন স্কুল শিক্ষক এবং কো অর্ডিনেটর।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.