দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনে সাধারণ মানুষ বাঁচবে কীভাবে!

নাসরীন রহমান:

শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। রমজান ও ঈদ সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকান-পাট খোলা রাখা যাবে। সোমবার (৪ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আলাদা আদেশ জারি করে এ নির্দেশনা দিয়েছে।

সরকারের এই ঘোষণায় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে এই আদেশের ফলে শপিং মলে লোকসমাগমের আশংকা করছেন আর তাতে করোনার বিস্তার হবে এমনটাই ভাবছেন। অনেকে আবার ব্যাঙ্গোক্তি করে লিখছেন, “এবার বাঙালীর শপিং শুরু হবে”।

অনির্দ্দিষ্টকালের জন্য অর্থনীতির চাকা বন্ধ রাখা কাজের কাজ না; যারা নিরাপদ অবস্থানে থেকে দোকানপাট খোলার বিপক্ষে বলছেন, তাদের পকেটে যথেষ্ট জোর থাকতে পারে, কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, ইতিমধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থা করুণ! ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লোন নিয়ে মাল তুলেছিলেন দোকানে; করোনায় এতোদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় সকলের মাথায় হাত, এ ক্ষতি কী করে পোষাবেন তারা জানেন না। ব্যবসা না থাকায় দোকান ভাড়া, কর্মচারিদের বেতন, সব বাকি! দেশিয় বিভিন্ন বুটিক প্রতিষ্ঠান যার মালিকানা অনেকক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তারা; এদের কী পরিমাণ লোকসান হচ্ছে, ভুক্তভোগীরাই জানেন। দোকান কর্মচারিরা না খেয়ে মরার দশা; এদের কথা কি ভাবছেন??

সবার সব সমালোচনা ধর্তব্যে নিয়েও বলতে হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে লকডাউন হলে এই দেশে করোনায় না মরলেও মানুষ অনাহারে মরবে, আমি নিশ্চিত। সুতরাং একটা কথাই বলবো যে, এই জাতি সচেতন না হলে কিচ্ছু করার নেই। অর্থনীতির চাকা চলতে দিতে হবে এখন। মানুষের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে, থুতু, কফ, কাশির সময় নিয়মগুলো মানতে হবে।

ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোতে জমানো টাকা তোলার হিড়িক পড়ে গেছে। এর মানে কী? এর মানে পরিষ্কার, মানুষের হাতে টাকা নেই, যা সামান্য জমানো আছে, তাতে হাত পড়ছে। মধ্যবিত্তের এই জমানো টাকা শেষ হলেই শুরু হবে আসল ক্রাইসিস!

জীবন না জীবিকা এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার অবকাশ মিলবে না আর তখন; বরং এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য, কিছু কিছু অফিস খুলে দেওয়া উচিত। তাতে ব্যাপক অর্থনীতির ধ্বস কমিয়ে আনা যাবে, ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক ক্ষতি যা হবার হয়েছে। মনে রাখতে হবে জীবন আগে; করোনা প্রতিরোধের উপায় আছে সচেতনতার মাধমে, কিন্তু লোকের না খেয়ে মরা শুরু হলে এ ঠেকানো অসম্ভব!

আবেগে হুটহাট পোস্ট বা ফিচার লেখার আগে ভাবুন। নিজের অবস্থান দিয়ে সকলকে বিচার করবেন না, বাস্তবতার আলোকে বিচার করুন।

সামাজিক অবস্থা দেখে বিচার করুন। নিম্নবিত্তের অবস্থা অসহায়, দরিদ্র না খেয়ে থাকার দশা! অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের অবস্থা করুণ, কাজ নেই। হাহাকার তাদের। এই কিছুদিন আগেও যারা বাসা বাড়ি, মার্কেট, অফিসে পপরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতো, আজ তারা ভিক্ষার হাত পাতছে! যারা বড় বড় অট্টালিকায় নিরাপদে আছেন, ভাবছেন আপনাদের করোনা কিচ্ছুটি করতে পারবে না! যথেষ্ট খাদ্য আপনাদের মজুদ!

একটু কান পেতে শুনুন আপনার অট্টালিকার নিচেই খাবারের জন্য কাঁদছে মানুষ।; আজ এরা ভিক্ষুক, কিছুদিন আগেও এদের কাজ ছিল।

এক করোনায় সব অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা যায় না। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের হার কমিয়ে এনেছে তারা আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমে, করোনা টেষ্টের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করার মাধমে। বাংলাদেশে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে সবচাইতে বেশি প্রয়োজন ব্যাপক প্রচার সামাজিক সচেতনতার বিষয়ে। এর বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন:
  • 185
  •  
  •  
  •  
  •  
    185
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.