জোরপূর্বক বিয়ে থেকে রক্ষায় অভিনব পন্থা

marriage n lawউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: যেসব মেয়ে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হবে বলে আতংকে আছে, তাদের জন্য এক অভিনব পদ্ধতি বের করা হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে, বিয়ে দেওয়ার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় প্যান্টিতে চামচ লুকিয়ে রাখতে। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় তারা সহজেই তখন সনাক্ত হয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চাইতে পারবে।

ব্রিটেনে সম্প্রতি অল্পবয়সী মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরকম একটি প্রস্তাব এরই অংশ।

কর্মা নির্ভানা নামের একটি প্রতিষ্ঠান বলছে, বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশেষ স্ক্যানার স্থাপন করা হলে মেয়ে এবং নারীদের উপকারে আসবে। বিশেষ করে তারা নিজেদের রক্ষায় একটা শেষ সুযোগ অন্তত পাবে। তারা কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবে যে, তাদেরকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একটি সংগঠনের তথ্য অনুসারে, বেশ কয়েকজন নারী ও মেয়ে এই পদ্ধতিতে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে।

ডার্বি-ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা কর্মা নির্ভানা জোরপূর্বক বিয়ের শিকার মেয়েদের সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটি বলছে, তাদের সুপারিশ বেশকিছু মেয়ের ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে।

গত সপ্তাহে ব্রিটেনের কয়েকজন মন্ত্রী হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন যে, স্কুল ছুটির সময় যেসব তরুণী মেয়েকে দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে তাদের পরিবার, তারা জোর করে বিয়ের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।গত বছর জুন থেকে আগস্টের মধ্যে ৪০০ অভিযোগ পায় এমন বিয়ের। আর এই সংখ্যা বছরে দাঁড়ায় দেড় হাজারে।

প্রকৃতপক্ষে কেউই জানে না, ঠিক কতসংখ্যক ব্রিটিশ মেয়েকে প্রতিবছর এমন ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। এই সংখ্যা দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজারে হওয়ার আশংকা করছেন কর্তৃপক্ষ। আর এদের অধিকাংশেরই বয়স ১৬ বছরের নিচে।

কর্মা নির্ভানার অপারেশন ম্যানেজার নাতাশা রাত্তু সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আতংকিত কিশোরী-তরুণী মেয়েরা যখন সহায়তা চেয়ে তাদের হেল্পলাইনে ফোন করে, আমরা তাদেরকে প্যান্টির ভিতরে চামচ রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেই। এমনকি অনেকেই বলতেও পারে না যে, কখন আসলে এই ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে, বা আদৌ ঘটতে যাচ্ছে কিনা। অনেকেই কেবল আতংক থেকেই ফোন করে’।

তিনি বলেন, ‘এসব মেয়ে যখন বিমানবন্দরের ইমগ্রেশন পার হবে তখন নিশ্চিতভাবেই তাদের শরীরে বহন করা চামচ ক্লিক করবে। তাদের বয়স ১৬ বা যাই হোক না কেন, তাদেরকে তখন নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে তারা নিজেদের কথা বলার শেষ সুযোগ পাবে’।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার দেশের সব শিক্ষক, চিকিৎসক এবং বিমানবন্দর কর্মীদের গ্রীষ্মের ছুটিতে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।

জোরপূর্বক বিয়ে রোধে কাজ করে এমন আরেকটি সংস্থা ফ্রিডম চ্যারিটি। এর প্রেসিডেন্ট আনীতা প্রেম জানান, গ্রীষ্মের ছুটিই অধিকাংশ মেয়ে এবং নারীর জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গার্ডিয়ান পত্রিকাকে তিনি বলেন, গ্রীষ্মে শিশুরা সবার মনযোগ থেকে হারিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত মেয়েরা হয়তো ভাবে যে, তারা আত্মীয়ের বিয়ে খেতে দেশের বাইরে যাচ্ছে, কিন্তু তারা জানেই না যে, তাদের নিজেদের জীবনেই একটা পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এবং তারা যখন যায়, বেশ অনেক সময়ের জন্যই তারা যায়। অন্ত:সত্ত্বা না হওয়া পর্যন্ত তারা ব্রিটেনে ফেরত আসে না’।

দাতব্য সংস্থাগুলোর আশংকা, ব্রিটেনে এই মূহূর্তে জোরপূর্বক বিয়েতে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ অধিকাংশ ঘটনাই জানার অসাধ্য থেকে যাচ্ছে। বাচ্চারা বেশিরভাগ সময়ই মা-বাবার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে চায় না। অথবা তারা জানেই না, এমন একটি অবস্থায় কার শরণাপন্ন তারা হবে। তবে এই সংখ্যা সত্যিই আতংকিত হওয়ার মতো বলে উল্লেখ করলেন প্রেম।

ফ্রিডম চ্যারিটি জোরপূর্বক বিয়ের সম্ভাব্য ভিকটিম বা অন্যান্য নির্যাতনের শিকার মেয়েদের জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। মার্চে এটি চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ তাদেরকে ফোন করে এটি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

এদিকে কর্মা নির্ভানা জানিয়েছে, সারা ব্রিটেন থেকে তারা বছরে সাধারণত সাড়ে ছয় হাজার কল পেলেও, এবছর আগস্ট পর্যন্তই এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.