কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পূর্বে লকডাউন বন্ধ হতে পারে না

ফাহমি ইলা:

‘চীন কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মহামারীর প্রথম ওয়েভকে ঠেকিয়ে দিতে পেরেছে, কিন্তু দ্বিতীয় ওয়েভ একটি নিষ্ঠুর সত্য’

চীনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন সমীক্ষা বলছে, যদি দেশগুলো লকডাউন শেষ করে মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক করতে চায় এবং কাজে ফেরত যেতে চায়, তবে নতুনভাবে সংক্রমণের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে নজরদারি করতে হবে এবং কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সামঞ্জস্যতা ধরে রাখতে হবে।

হংকংভিত্তিক গবেষকেরা বলছেন, চীন আগ্রাসী নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর প্রথম ওয়েভকে আটকে দিতে পেরেছে, কিন্তু দ্বিতীয় ওয়েভ ফেরত আসতে পারে, এটাও নিষ্ঠুর সত্য।

ফাহমি ইলা

এ গবেষণায় সহ-নেতৃত্ব দেয়া ইউনিভার্সিটি অফ হংকংয়ের প্রফেসর জোসেফ টি উ বলেন যে, এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে সংক্রমণ সাময়িক হ্রাস পেয়েছে, তবে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে সার্বিক সংক্রমণ-মুক্ত হওয়া ছাড়া এ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে, শিল্প বাণিজ্যে, স্কুলে আবারও মানুষ আসা শুরু হবে এবং সামাজিক দূরত্ব ঘুচে যাবে এবং ঠিক তখনই সংক্রমণের দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হতে পারে। এমনকি যেহেতু এ সংকট বৈশ্বিক, আন্তর্জাতিক চলাফেরার মাধ্যমে ভাইরাস পুনরায় আমদানী হতে পারে। চীন সংক্রমণের সংখ্যাকে ধাক্কা দিয়ে কমিয়ে দিতে পেরেছে। সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা কমে মহামারী সংকুচিত হয়ে এসেছে।

প্রফেসর জোসেফ টি উ আরো বলেন-’শারীরিক দূরত্ব ও আচরণ পরিবর্তনের মতো নীতিগুলো কিছু সময়ের জন্য বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকলেও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সতর্ক ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং একইসাথে সংক্রমণ কমিয়ে রাখাই একমাত্র কৌশল হতে পারে।’

ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি চীনের মহামারীর মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী হুবেই প্রদেশ বাদে চীনের অন্যান্য অঞ্চলে মৃত্যুহার অনেক কম ছিলো। হুবেইতে মৃত্যুহার ছিলো ৬%, যেখানে অন্যান্য অঞ্চলে ছিলো ১% এর কম। এটি প্রতিটি প্রদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেখক প্রফেসর গ্যাব্রিয়েল এম লেউং বলেছেন -‘এমনকি বেইজিং এবং সাংহাইয়ের মতো স্বচ্ছল মেগাসিটিগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, এবং সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে এদেরও রীতিমতো লড়াই করতে হবে। আমাদের গবেষণা বলছে যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও মৃত্যু কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত কর্মচারি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

এ গবেষণায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মধ্য জানুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়। বেইজিং, সাংহাই, শেনজেন, ভেনজহু এবং হুবেইয়ের দশটি প্রদেশের কোভিড-১৯ তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণা করে বলা হয় যে, নিঃসন্দেহে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলোকে ধীরে ধীরে শিথিল করা উচিত। কিন্তু সংক্রমণের হার যদি আবার বৃদ্ধি পেতে থাকে,  স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক মারাত্মক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হবে, এমনকি সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতেও যুদ্ধ করতে হবে।

কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করা’ এবং ‘সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা’ এই দুটোর মধ্যে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করতে পারা এই মুহূর্তে একমাত্র কৌশল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। একইসাথে নিয়মনীতি কঠোরভাবে পালন, সামাজিক দূরত্ব, আচরণগত পরিবর্তন এবং গণসচেতনতা মেইনটেইন করতে হবে।

‘ দ্য গার্ডিয়ান’ অবলম্বনে

শেয়ার করুন:
  • 200
  •  
  •  
  •  
  •  
    200
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.