ক্ষুধার কাছে হার মানে যাদের জীবন!

নাসরীন রহমান:

৭১ এ দলে দলে মানুষ যার যা ছিলো গাট্টি, বোঁচকা বেঁধে ছুটেছিলো জীবন বাঁচাতে। স্বাধীনতার এতো বছর পর আজকেও মানুষকে ছুটতে হচ্ছে সেই জীবন বাঁচাতেই! দলবেঁধে হেঁটে, ট্রাকে চেপে রাজধানীমুখী হচ্ছে মানুষ!
কারা এরা?
গার্মেন্টস শ্রমিক!

ফেসবুকে, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, দৃশ্যমান মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে সেই দৃশ্য!

ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেয়া

একাত্তরে শত্রু ছিলো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আর আজ চাকুরির অনিশ্চয়তা, বেতন পাওয়ার অনিশ্চয়তা, সবকিছু মিলেমিশে একাকার এই শ্রমিকদের জীবনে। হোম কোয়ারেন্টাইন, আইসোলেশন, লকডাউন সবকিছু ওদের কাছে মিথ্যে হয়ে যায় ক্ষুধার চিন্তা, চাকরির অনিশ্চয়তা, জীবন যাপনের অনিশ্চয়তার কাছে। দলে দলে ঢাকামুখো হচ্ছে ওরা তাই চাকরি বাঁচতে, পরিবার পরিজনকে বাঁচিয়ে রাখতে।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রুখতে পারছে না ওদের যাত্রা; অনিশ্চয়তা যেখানে নিত্যসঙ্গী, মৃত্যু চিন্তা সেখানে তুচ্ছ হয়ে গেছে ওদের কাছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের সংখ্যা ৪৫ লাখ, এদের মধ্যে অধিকাংশ আবার নারী শ্রমিক। এই এক একজন নারীশ্রমিকের উপর আবার নির্ভর করে আছে তাদের গোটা পরিবার। এই নারী শ্রমিকেরা মাসের বেতন পেলে তবেই যোগান হয় ঘর ভাড়া, খাবার খরচসহ পুরো মাসের খরচ। কেউ কেউ গ্রামে বৃদ্ধ মা, বাবাকে টাকা পাঠান। সারা মাস এই বৃদ্ধ মা, বাবা চেয়ে থাকেন কখন মেয়ে টাকা পাঠাবে! তবেই চুলা জ্বলবে, মুদি দোকানের বাকি দেওয়া যাবে।

নাসরীন রহমান

সরকার ১১ তারিখ পর্যন্ত সরকারি ছুটি বাড়িয়েছে, কিন্তু বিজিএমইএ তার সদস্যদের ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব রাখেনি। উল্টো বিজিএমইএ এই রোগের প্রাদুর্ভাব কতোটা ভয়াবহ হবে সেটা চিন্তা না করে, শুধু কত টাকার ক্রয় আদেশ বাতিল হলো এটাতে বেশি ব্যস্ত! পুরা পৃথিবী যেখানে অচল সেখানে তারা লাভক্ষতির হিসেব নিয়ে আছে! আর চাকরি হারানোর অনিশ্চিয়তায় এইসব শ্রমিকেরা ছুটছে ঢাকায়!

সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে পোশাক কারখানাগুলো খুলে যাবে। এ কারণে এসব পোশাক কারখানা শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকামুখি হচ্ছে! সরকার পোশাক শিল্পের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, কিন্তু তবুও পোশাক শিল্পের মালিকদের ন্যুনতম বিবেকবোধের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছেনা!

আর এই গার্মেন্টস শ্রমিকেরা রাজ্যের চিন্তা মাথায় নিয়ে অনিশ্চিত জীবনের আশংকায় ছুটে আসছেন ঢাকায়, প্রধান শহরগুলোর তাদের কর্মস্থলে।

তাঁরা জানেন না চাকরি গেলে কীভাবে চলবেন, কী খাবেন, কীভাবে ঘর ভাড়া দিবেন।
গ্রামে ফিরে যাবেন?
কিন্তু সেখানে কী করে চলবেন?

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কাছে করোনা ভাইরাসও হার মানে এইসব শ্রমিকদের জীবনে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.