এইচআরডব্লিউ আদালত অবমাননা করেছে: তুরিন

Turin 1উইমেন চ্যাপ্টার: গোলাম আযমের যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যে মন্তব্য করেছে তা আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

সেইসঙ্গে সংস্থাটির অবস্থান নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তুলে ব্যারিস্টার তুরিন বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা কোনো দেশের বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে কিনা!

উইমেন চ্যাপ্টারকে তিনি বলেন, একটি দেশের আদালতে যখন মামলা চলছে, তখন কিছুতেই পারে না কোন সংস্থা এর বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। তাছাড়া তাদের হাতে কোন প্রমাণও নেই তাদের মন্তব্যের সপক্ষে। সম্পূর্ণ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে এ ধরনের মন্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থাকেই অপমান করা। তিনি গোলাম আযমের মামলা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্যে স্তম্ভিত বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ সংস্থাটির এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটি প্রশ্ন করেন।

প্রথমত, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য করার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কে? এটিও কি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নয়? আন্তর্জাতিক আইনের সব ধারা লঙ্ঘণ করে যখন আইখম্যান বা সাদ্দাম হোসেনের বিচার হয়েছিল, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কী করেছে? তখন কি তারা তাদের কথিত আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষায় কোনো কথা বলেছে?

দ্বিতীয়ত, নিজেদের মানবাধিকার সংগঠন বলে দাবি করলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কি কখনো একাত্তরের বর্বরতার শিকার মানুষের অধিকার রক্ষায় দাঁড়িয়েছে? কেন দাঁড়ায়নি?

তৃতীয়ত, যেটা আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, গোলাম আযমের মামলাটি যখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন, তখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কেন, কেউ কি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার অধিকার রাখে?

আমি আশা করব, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় আরো বেশি সচেষ্ট হবে এবং মানের বিষয়ে আরো বেশি শ্রদ্ধা দেখাবে।

এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে যে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আমি সেসব বিষয়ে আমার জবাব দিচ্ছি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গোলাম আযমের রায়ের ক্ষেত্রে বিচারকরা প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত করেছে, যা সমীচীন হয়নি।

গোলাম আযমের রায়ের কোথাও মাননীয় ট্রাইব্যুনাল বলেনি যে প্রসিকিউশনের পক্ষে পৃথক বা স্বাধীন কোনো তদন্ত তারা পরিচালনা করেছেন। কথিত সেই তদন্তের কোন অংশটি ওইভাবে করা হয়েছে- সেটাও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেনি। আমাদের বিচার ব্যবস্থাকে নির্লজ্জভাবে হেয় করার জন্য একটি অস্পষ্ট অভিযোগ তোলার চেষ্টা ছাড়া এটি আর কিছু নয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের অবশ্যই সতর্ক হওয়া উচিৎ।

দ্বিতীয় অভিযোগে এইচআরডব্লিউ বিচারকদের সঙ্গে প্রসিকিউটরদের যোগসাজশ ও পক্ষপাতিত্বের কথা বলেছে।

এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তি কী? এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ এইচআরডব্লিউ দেয়নি।

তৃতীয় অভিযোগে সংস্থাটি বলেছে, আসামিপক্ষের সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে ট্রাইব্যুনাল ব্যর্থ হয়েছে।

আবারো একটি অস্পষ্ট এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। গোলাম আযমের মামলায় আসামিপক্ষে সাক্ষী ছিলেন মাত্র একজন। এই মামলায় ‘সাক্ষীদের’-এই বহুবচন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কোথায় পেল? গোলাম আযমের পক্ষে একমাত্র সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বড় ছেলে, বিচারের পুরো সময়ে যিনি নিয়মিত আদালতে এসেছেন। কোনো হুমকি যদি সত্যিই থাকতো, তাহলে কীভাবে তিনি রায় ঘোষণার দিনসহ সব সেশনে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন? নির্বোধের মতো বিবৃতি দেয়ার আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উচিত হোমওয়ার্ক করা।

এইচআরডব্লিউর চতুর্থ অভিযোগ বিচার প্যানেলে পরিবর্তন নিয়ে।

এ বিষয়টিকে সামনে এনে তারা কি প্রমাণ করতে চাইছে? তারা কি বলতে চায় যে- কোনো মামলার বিচার চলার সময় কোনোভাবেই প্যানেলে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না? প্যানেলের একজন বিচারক যদি হঠাৎ মারা যান, অথবা অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, অথবা অনিবার্য কোনো পরিস্থিতিতে যদি তাকে প্যানেল ত্যাগ করতে হয়- তখন? হাস্যকর!

পঞ্চম অভিযোগে গোলাম আযমের অপরাধ সন্দেহাতীতাবে প্রমাণের জন্য প্রমাণের অভাবের কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ।

যখন উচ্চতর আদালতে আপিল বিবেচনাধীন, তখন কেউ কি কোনো বিচারের উদঘাটিত বিষয়ের মেরিট (দালিলিক প্রমাণের অভাব) নিয়ে কথা বলতে পারে? আর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কীভাবে নিজেদের স্বাধীন ‘বিচার পর্যবেক্ষক’ হিসাবে দাবি করে? তাদের এই বিবৃতি পড়লে স্পষ্ট হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মামলার একটি পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। বিচার প্রক্রিয়ার দলিলিক মান নিয়ে কথা বলার মতো দক্ষতা বা কর্তৃত্ব কি তাদের আছে?

আমি হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে নির্দিষ্ট একটি পক্ষ নেয়ার জন্য অভিযুক্ত করতে চাই না। যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নেয়ার অধিকার তাদের আছে। তবে তারা যদি সেটাই করে, তাহলে নিজেদের আর ‘স্বাধীন বিচার পর্যবেক্ষক’ বা ‘আন্তর্জাতিক সংগঠন’ বলে দাবি করা তাদের উচিত হবে না, কারণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে পারে না।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.