বিদেশের জীবনে প্রেম ও বিয়ে

কাজী তামান্না কেয়া:

১) লেখাপড়া করতে এমেরিকায় এসেছিল জনৈক হাসান ভাই৷ খরচ যোগাতে পার্ট টাইম কাজ করা শুরু করেন৷ কিন্তু তাতেও কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না৷ এক সময় শুধু কাজই করতে লাগলেন৷ পড়ালেখা না করায় অবৈধ হয়ে গেলেন এদেশে৷ এখন দেশে যেতে পারেন না৷ আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম বাংলাদেশী মেয়ে, কাগজপত্র আছে এমন কাউকে বিয়ে করে নেয়ার৷ তাতে দেশে যেয়ে অন্তত বাবা মায়ের সাথে দেখা করতে পারবেন৷ কিন্তু ভার্জিন মেয়ে, চরিত্র আছে কী নাই এইসব তাইরে নাইরে না বলে তিনি আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নারীর যোনীর বাইরে তিনি কিছু ভাবতে পারেন না৷ বিয়ে করা হয়ে উঠেছে কিনা তার, সে খবর আর রাখিনি৷

কাজী তামান্না কেয়া

২) আমার সিরিয়ান বন্ধু আসাদ পছন্দ করতো এক এমেরিকান ক্লাসমেট এনাকে৷ এনা প্রচণ্ড স্বাধীনচেতা মেয়ে ছিল৷ একদিন দুজন রেস্টুরেন্টে খেতে যায়৷ দুজনার সম্পর্ক হলে এনা যে ড্রেস খুশি পরতে পারবে, এই টাইপ কিছু একটা বলতে চেয়েছিল আসাদ৷ কিন্তু সে জানতো না মেয়েদের ড্রেস নিয়ে কথা বলতেও সম্পর্ক কিছুটা পুরোনো হওয়া লাগে, ওটা প্রথম দিনেই বলার বিষয় না৷ ড্রেস নিয়ে কথা তুলতেই এনা টেবিল ছেড়ে উঠে যায়৷ এরপরের প্রেমটিও আসাদের টেকেনি৷ তার এখনও বিয়ে করা হয়েছে কি না সে খবর জানি না৷ বন্ধুর একাডেমিক যোগ্যতা নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না প্লিজ৷ তিনি মেডিক্যাল গ্রাজুয়েট মানে ডাক্তার আর এমেরিকার নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করেছেন৷

৩) তৃতীয় বন্ধুও সিরিয়ান, আমার সাথে একই প্রোগ্রামে মাস্টার্স করেছিল সেও৷ তার আগে সিরিয়ায় মেডিক্যাল সায়েন্সে এ গ্রাজুয়েশন করেছিলেন৷ তার সম্পর্ক হয়েছিল সাউথ এমেরিকা থেকে পড়তে আসা বয়সে বড় এক খ্রিস্টান মেয়ের সাথে৷ আমরা সবাই একে অপরের বন্ধু ও ক্লাসমেট ছিলাম৷ বন্ধুর আগেই সে মাস্টার্স শেষ করে ভার্সিটির রিসার্চ সেন্টারে জয়েন করে৷ আর বন্ধুটিও এক সেরা হাসপাতালে গবেষণা পেশায় নিয়োগ পান৷ বছর খানেক আগে শুনেছিলাম তারা এখনও ডেটিং করছেন৷ তবে শরীর যেহেতু বিয়ের আগে ধর্মে নিষিদ্ধ, তাই আধা যুগ ধরে তাদের চলমান ডেটিং আসলে কোন প্রকৃতির, তা আমার জানা নেই৷ বন্ধুটিকে যতদূর চিনি, বয়সে বড় খ্রিস্টান প্রেমিকার কথা বাবা মায়ের কাছে তিনি বলতে পারবেন না৷

৪) মিতা পড়ালেখা করতে এদেশে এসেছে৷ কাজ কর্ম, লেখাপড়া, একলা সংসার সবই আছে৷ সম্পর্ক নিয়েও প্রায়ই ভাবেন৷ শুধু জানেন না তিনি কী চান– একা জীবন না দোকা জীবন?

৫) রায়হান এমেরিকা আসতে চায়৷ বিয়ে থা করেনি৷ দেশী পাত্রী তার পছন্দ নয়৷ তার ইচ্ছে এদেশে এসে এমেরিকান মেয়েকেই বিয়ে করবেন৷ মেয়ে দেখে রাখার কথা দু চারজনকে বলেও রেখেছেন৷

সম্পর্ক করার কথা ভাবা আর তার বাস্তবায়ন করা এক জিনিস নয়৷ কারও রাতারাতি প্রেম হয়, কিন্তু ভিনদেশী প্রেমিক বা প্রেমিকার কথা বাড়িতে বলতেই পারেন না৷ কেউ কেউ ধর্মের বেড়া ঘুচিয়ে প্রেমকে বিয়েতে রুপ দেয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন না৷ আর কেউ কেউ আছে প্রেমিক বা প্রেমিকা নিজের ধর্ম গ্রহণ না করলে বিয়েই করবেন না৷

ভাইরে, আপুরে– এ দেশে যার যার বিল সে সে দেয়৷ ভাতের বিল না — বাড়িভাড়া, গাড়ির খরচ, লেখাপড়া এসব আর কী! নিজের খরচ নিজেই যোগাড় করে নেয়ার ব্যাপারটা বাপ মায়েরাও ১৮ বছর বয়সেই সন্তানের কানে ঢুকিয়ে দেন৷ এই স্বাধীন প্রাণেরা আপনার দ্বৈতসত্তার কাছে নিজেকে কেন বিকিয়ে দেবেন?

শেয়ার করুন:
  • 256
  •  
  •  
  •  
  •  
    256
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.