উচ্ছেদ করতেই মাটিরাঙ্গায় হামলা

Khagrachari-IMGA0385-8উইমেন চ্যাপ্টার: পাহাড়ি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছিল খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করা হয়েছে।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার এক খবরে একথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে হামলার নেপথ্য কারণ হিসাবে শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফকেও দায়ী করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বলছে, ওই হামলায় ১১টি গ্রামের ৪৫৪টি পাহাড়ি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল এই পরিবারগুলোর জমি দখল করা। একারণেই অনেকটা পরিকল্পিতভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়ে হামলার পটভূমি তৈরি করা হয়।

জনসংহতি সমিতির তথ্য সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বসতিস্থাপনকারী বাঙালিরা সেখানে জমি দখল করার চেষ্টা করছিলেন। তারাই এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। পাহাড়ে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এই হামলার পেছনে নেপথ্য ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে ইউপিডিএফের একজন নেতা উঙ্গাই মারমা বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং জনসংহতি সমিতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ১৯৭৯ সালের পর থেকে বসতি স্থাপনকারী বাঙালীদের পাহাড় থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয় প্রতিবেদনে।

এতে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নিরাপত্তা বাহিনীর চৌকি থাকা সত্ত্বেও তারা হামলাকারীদের ঠেকাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেননি।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পরপরই সরকার গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আর সহায়তায় সবরকমের ব্যবস্থা নিয়েছে। বরং অভিযোগকারী সংগঠনগুলোই কখনও এই গ্রামবাসীদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।

জনসংহতি সমিতির প্রতিবেদনের অভিযোগ সম্পর্কে মাটিরাঙার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, বরাবরই সেখানে পাহাড়ি-বাঙালী সম্পর্ক ভালো হলেও, গুজবের কারণে এরকম হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তিনি দাবি করছেন, গত দেড় দশকে এরকম হামলার ঘটনা সেখানে এটাই প্রথম ঘটলো।

একজন মোটর সাইকেল চালককে অপহরণের গুজবে ৩রা আগস্ট খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে হামলা করে স্থানীয় বাঙালীরা।

এ সময় গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জঙ্গলে ও সীমান্তের নো-ম্যান্‌স ল্যান্ডে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে সরকারি চেষ্টায় তারা নিজেদের গ্রামে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় এর মধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.