আদর্শ রাষ্ট্রের সেক্স ডল

ফারজানা শারমীন সুরভি

“আমাদের দেশে আর কোন মেয়েমানুষ নেই”,
জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ প্রথম সুসংবাদটি প্রচার করেন।
শুধু মাত্র বিজ্ঞানীর গবেষণাগারে সংরক্ষিত আছে কন্যা ভ্রূণ।
“এটি ছিল এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার।
কেবল পুত্র শিশু জন্মায় এখন। আর আশা ভংগ নেই।”

একজন ধর্মপ্রচারক ওয়াজের সুর তুলেন কণ্ঠে,
“শিশুদের এখন জন্ম হয় পবিত্র পদ্ধতিতে
নোংরা মাসিকের ত্যানা নেই,
দোজখের দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি আমরা।
দুনিয়াতে নেমে এসেছে শ্বেতকায় কিসমিসের মতো বেহেশতি হুর।
সকলে দুই হাত তুলে উপরওয়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন!”

প্রধানতম কবি সিংহাসন থেকে নেমে,
একটি সম্পাদিত কাব্য আলোচনা পাঠ করেন।
শিরোনাম, “বাংলা সাহিত্যে পুরুষ কবিগণের অবদান”।

বিক্রেতারা দোকানে সাজিয়ে রাখা সেক্স ডল দেখান।
পুতুলগুলোকে টিপে টিপে পণ্যের গুণাগুণ বর্ণনা করেন।

“এই পুতুলদের সাথে সংগম করে,
এদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিবেন।
ঘাড় মটকে জঙ্গলে ফেলে রাখবেন।
ব্লেড দিয়ে যোনি পথ চিড়ে বড় করে নিবেন।
তারা বাধা দিবে না। চিৎকার করবে না।
চিৎকার না হলে, সঙ্গম জমে না?
আপনার সুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে পণ্য বানিয়েছি আমরা।
সাথে পাবেন ফ্রি রিমোট।
রিমোট চাপলে ধর্ষিতার গোঙ্গানি শুনতে পাবেন।
একশ বছর আগে যেভাবে মেয়েমানুষ মরে যেতে যেতে,
আপনাকে যৌন আনন্দ দিত।
তার চেয়ে লক্ষ গুণ সুখ পুতুলগুলো আপনাকে দিতে সক্ষম!”

পথে নেমে মিছিল করে সকল পেশাজীবী।
তাদের কারো হাতে কন্যা ভ্রুণের রক্ত।
কারো দাঁতে লেগে আছে মেয়েমানুষের গোশত।
নেতা মাইকে ঘোষণা করেন,
“পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন সফল করে
আমরা এগিয়ে যাচ্ছি নারীমুক্ত সমাজের দিকে।
পাপ নেই। ধ্বংস নেই।
আমরা দুনিয়াতে নামিয়ে এনেছি জান্নাতের সুবাস।
অবশেষে একটি অপ্রয়োজনীয় প্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায়।
জয় পুরুষ!”

জনসভায় একজন মন্ত্রী শপথ করেন,
“আমাদের দেশে আর কোন মেয়েমানুষ নেই।
অভিযোগ নেই। প্রতি বছর ভোট বাক্স ভরে যায় প্রশংসা বাক্যে।”

টেলিভিশনে বক্তব্য দেখতে দেখতে,
আদর্শ রাষ্ট্রে বসবাসের তৃপ্তি অনুভূত হয়।
সদ্য কিনে আনা সেক্স ডলের বুক ছুরি দিয়ে আলাদা করি।
রসালো মাংস কাঁটা চামচে গেঁথে,
রাতের খাবার শেষ করতে আমার ভালো লাগে।

(নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পরে লিখেছিলাম। এখন আর লিখতেও ভালো লাগে না! ভালো লাগে না!)

শেয়ার করুন:
  • 270
  •  
  •  
  •  
  •  
    270
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.