হায় সৌরভ গাঙ্গুলী!

মনজুরুল হক:

কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের ‘দাদা’ সৌরভ চণ্ডিদাশ গাঙ্গুলীর ‘দাদাময়তা’ দেখে যারা কলার উঁচু করেন তাদের জন্য সুখবর আছে! দাদা তার দাদাগিরি, নায়কগিরি, ক্ষমতাতোষণগিরি এবং তৈলমর্দন শিল্পের টুপিতে নতুন পালক গুঁজেছেন! তিনি এবার ‘পিতৃত্ব’ ফলিয়েছেন নিজের মেয়ের ওপর। ‘বাচ্চা মেয়ের কথা’ বলে কার্যত সানা’র উপর কর্তৃত্ব ফলিয়ে ভারতের চলমান আন্দোলনে মেয়ের সমর্থনকে প্রত্যাহার করতে বলেছেন!

সানা কী বলেছিলেন মনে আছে তো?
ইনস্টাগ্রাম স্টোরি হিসাবে পোস্ট করতে গিয়ে সৌরভ কন্যা সানা লিখেছিলেন –

“আজ আমরা যারা নিজেদেরকে নিরাপদ বলে মনে করছি আর ভাবছি আমরা তো মুসলমান বা খ্রিষ্টান নয় তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছি। সংঘ ইতিমধ্যেই বামপন্থী ইতিহাসিক বিদ ও পশ্চিমী সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী যুবসমাজকে টার্গেট করছে।
আর কাল তাদের ঘৃণা গিয়ে পড়বে স্কার্ট পরিহিত মহিলা, যারা মদ্যপান করেন, যারা মাংস খান, যারা দাঁতনের পরিবর্তে টুথপেস্ট ব্যবহার করেন, এমন কী যারা বিদেশি সিনেমা দেখেন,এমনকি একে অপরের সাথে দেখা হওয়ার সময় জয় শ্রীরাম বলার বদলে হাত মিলান কিংবা চুম্বন করেন তাদের ওপর। তাই কেউই নিরাপদ নয়। ভারতে বাঁচতে হলে এগুলি আমাদের ভীষণভাবে অনুধাবন করতে হবে।”

ব্যস! এবার ‘বাংলার দাদা’ তার এতোদিনের সাজানো সাম্রাজ্য টলে ওঠার ভয়ে ভীত হয়ে পড়লেন! সব সময়ই ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে লেপ্টে থেকে মগডালে বিরচরণ করা ‘দাদা’ এবার ক্ষমতাসীনদের তোষণ করে পাওয়া ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট পদমর্যাদা রক্ষা করতে নেমে পড়লেন।

ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়ষ্কা সানাকে ‘বাচ্চা মেয়ে’ সাব্যস্ত করে বললেন- “আপনারা এইসব বিষয় থেকে সানাকে দয়া করে দূরে রাখুন এই পোস্টটা সত্যি নয় রাজনীতি কিছু সম্পর্কে জানার ব্যাপারে ও এখন খুবই ছোট।”

সৌরভ যা করেছেন তা আধুনিক রাষ্ট্রের আইনের বিবেচনাতেও অপরাধ৷ কারণ যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক কাকে রাজনৈতিক ভাবে পছন্দ করবেন বা কী রাজনৈতিক মতামত পোষণ করবেন তা বলপূর্বক বা অর্থনৈতিক/ রাজনৈতিক কিংবা পিতৃত্বের প্রভাব খাটিয়ে কেউ খারিজ করতে পারেন না। এমন চেষ্টা আইনের চোখে অপরাধ হিসেবেই গণ্য হয়।

মেয়ে সানা গাঙ্গুলীর মতামতকে পিতৃত্বের জায়গা থেকে খারিজ করার ঘটনার মধ্যেই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে বংশমর্যাদার মতো এখানে সৌরভের মাথাব্যথার কারণ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট বোর্ডে তাঁর প্রেসিডেন্ট পদটি। পদটির টিকি বাঁধা আছে হিন্দুস্তানি রাষ্ট্রব্যবস্থার ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রভুদের চ্যালা মোদী-অমিত গংয়ের হাতে! এই ব্রাহ্মণ্যবাদী ও পিতৃতান্ত্রিক বর্ণবাদী ব্যবস্থার ‘সেবক’ হিসেবে সৌরভ পিতৃত্বের ‘অধিকার’-এ কন্যা সানার রাজনৈতিক প্রতিবাদকে সম্পর্কের প্রাবাল্য থেকে খারিজ করতে চেয়েছেন!

এই গাঙ্গুলী মহাশয়কে ভারত দলের অধিনায়ক হওয়ার টালমাটাল সময়ে বিখ্যাত খেলার রিপোর্টার গৌতম চক্রবর্তী প্রশ্ন করেছিলেন- “কলকাতার বাঙালির ঐতিহ্য মেনে সৌরভ কী কলকাতার কাঁচাবাজারের খবর রাখে?”
জবাবে ছবি বিশ্বাসের মত টাশ টাশ করে হেসে ‘দাদা’ বলেছিলেন; “সৌরভ গাঙ্গুলী ক্রিকেটার না হলেও কাঁচাবাজারের খবর রাখতো না!”

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.