সরকারকে বলছি, দয়া করে জনগণকে বিরক্ত করবেন না

আমেনা বেগম ছোটন:

২০১৩ সালে আমি যত বড় গলায় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চেঁচামেচি করতাম এখন তার জোর অনেকই কমে গেছে।

জহির রায়হানের সময়ের প্রয়োজনে গল্পটাতে একটা প্রশ্ন ছিল, মানুষ যুদ্ধ কেন করে। অনেকে অনেক রকম উত্তর দিয়েছিল, লেখকের মতে উত্তরটা ছিল সময়ের প্রয়োজনে। তখনকার সময়ে যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল, তাই শরিক বা একই দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে আমাদের যুদ্ধ করতে হয়েছে। একই নামধারী দেশ যখন দেশের আরেক অংশের উপর অবর্ণনীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, তখন আর দেশের নামের খাতির করা যায় না।

এই যেমন এখন আওয়ামী লিগ বা সরকারকে খাতির করতে গেলে মরালিটিতে বাঁধবে। যতোই জামাত রাজাকার হেটার হই না কেন, “কত রবি জ্বলে, কেবা আঁখি মেলে” বলে চোখ বুঁজে থাকা যাচ্ছে না। ক্ষমতার প্রয়োজনে গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধাদের যদি রাজাকার বানিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তালিকার বাকি রাজাকারদের রেজাকারিত্ব নিয়েও সংশয় হয় বই কী!

উন্নয়ন দেখে থুক্কু দেখিয়ে যারা বলবেন, আমি সরকারবিরোধী, তাদের বিনীতভাবে জানাচ্ছি, আপনাদের আওয়ামী লিগ যতই মুক্তিযুদ্ধের সোল ডিস্ট্রিবিউশনের প্যাটেন্ট নিয়ে বসে থাকুন না কেন, উনারা সুষ্ঠু নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেননি। যে অতি অবশ্যই নৌকাতেই ভোট দিত, তাকেও ভোটটা দিতে দেয়া হয়নি। বিএনপি জামাত বেশ আগে থেকেই ফিল্ডে নাই, সুতরাং এখন এই নিরীহ বাম (যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ওরস শরীফ থেকেও দুর্বল, তাদের পেছনে পড়েছেন, জনগণকে তো প্রতিপক্ষ বানিয়েছেন আগেই। ও আচ্ছা, উন্নয়ন, (হ্যাঁ শুনেছি দেশে এখন কারেন্ট যায় না, গ্রেট) সেটি আপনারা জনগণের জন্য করেন বলে মনে হয় না।

টেন্ডার হয়, অমুকে ১০℅ তমুকে ৩০℅ বালিশ বাবদ তিন কোটি টাকা এইগুলির জন্য করেন। ডাক্তারদের উপজেলা কম্পলেক্সে ল্যাপটপ দেবেন, বায়োমেট্রিক এটেন্ডেন্স দেবেন এদিকে বিভাগীয় হাসপাতালে যেখানে লাখ লাখ লোক শেষ আশা নিয়ে আসে, সেখানে ভেন্টিলেটরের অভাবে ডাক্তার নিজেই মারা যায়। সেইরাম উন্নয়ন হয়েছে বলা যায়।

ডিক্টেটরশিপ চালাতে চান আমার কোন আপত্তি নাই। আমি আদর্শবাদী নই, দেশের মানুষ খেতে, পরতে, আর কাজ করতে পারলে বা পথেঘাটে মরে পরে না থাকলে আগামী ১০০ বছরে গণতন্ত্র না এলেও আমার তেমন আপত্তি নেই। পৃথিবীতে অনেক মহান একনায়ক ছিলেন।(যেমন মহান একনায়ক মেজর জিয়া গণতন্ত্রের নামে জামাত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।)

শুধু দয়া করে জনগণকে বিরক্ত করবেন না। এই জনগণ পাকিস্তান জিন্দাবাদ, জিয়ে পাকিস্তান বলে স্লোগান দিয়েও এক সময় লুংগি পরে মেশিনগান চালিয়ে সুশিক্ষিত পাকিস্তানি আর্মি খেদিয়ে দিয়েছে। গুন্ডামী আপনারাই করবেন, সবাই দেখে যাবে এই আশা বাদ দেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.