নারী-পুরুষের সম্পর্ক কেন গণতান্ত্রিক হতে পারে না?

দিলশানা পারুল:

নারী-পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনকভাবে আমরা গণতান্ত্রিক সম্পর্ক ভাবতেই পারি না। মানে সম্পর্ক বলতে আমি প্রেম বা বিয়ে বুঝাচ্ছিলাম। প্রেম বা বিয়ের ক্ষেত্রে দুইজনের সম্পর্ক যে গণতান্ত্রিক হতে পারে, সেই বিষয়ে আমাদের কোন ধারণাই নাই।

বিশেষ করে বিয়ে বা প্রেমের ক্ষেত্রে হয় ছেলেটা মেয়েটাকে ডমিনেট করবে, অথবা মেয়েটা ছেলেটাকে ডমিনেট করবে। সাধারণত দেখা যায় ছেলেটা মেয়েটাকে ডমিনেট করছে, তবে মাঝে মধ্যে একটা দুইটা মেয়ে যে তার পার্টনারকে ডমিনেট করে না এরকম না, এরকম মেয়ে আছে, তবে তুলনামূলক কম। এবং এই ডমিনেন্সির আমরা খুব সুন্দর সুন্দর নাম ব্যবহার করি সাবমিশন, ডিভোশন, কেয়ার করা।

একজন আরেকজনকে কতখানি ভালোবাসে এইটা মেজার করা হয় কে কার প্রতি কতখানি সাবমিট করলো, কতখানি ডিভোশন শো করলো তা দিয়ে। সে যাই হোক কেউ কাউরে ডমিনেট না করে যে সম্পর্ক হইতে পারে, এইটাই যেন আমরা ভাবতে পারি না। সামাজিকভাবে দাম্পত্য সম্পর্ক যেন গণতান্ত্রিক না হয় তার সব ব্যবস্থা তো করাই আছে।

আমরা সব সময়ই বয়সে বড় ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেই। এইটাতেই আমরা অভ্যস্ত। খুব বেশি হলে সমবয়সী দুইজন বন্ধু বিয়ে করে। আমি আমার অবজারভেশনে দেখেছি, চার বা ছয় বছর পার্থক্যে যাদের বিয়ে হয়েছে, তারা তুলনামুলক সুখে শান্তিতে ঘর কন্যা করছে।

কেন? কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে বয়সে বড় হওয়ায় পুরুষ এইখানে একটা অটো আপার হ্যান্ড পায়। মানে বিষয়টা এরকম, আমি তোমার চেয়ে বড়, কাজেই আমি তোমার চেয়ে বেশি বুঝি, তাছাড়া আমি পুরুষ, আমি সারা জীবন বাইরে ঘুরে বেরিয়েছি, আমি তোমার চেয়ে বেশি জানি, অতএব আমি বলবো তুমি মানবে।
দুজন আলোচনা হতে পারে, কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত পুরুষের, কারণ ওই যে ‘আমি তোমার চেয়ে জ্ঞানী, তোমার চেয়ে বেশি বুঝি, তোমার চেয়ে বেশি জানি’।

মজার বিষয় হলো, পুরুষ যখন ৫৬, আর তার স্ত্রী তখন ৫০, কিন্তু তারপরও নারী তোমার বয়স কম, কাজেই তুমি কম বোঝো, এই ক্যালকুলেশন চলতেই থাকে।

আমি খুব ভদ্রলোককেও দেখেছি পাব্লিক প্লেসে বউকে ধমকাচ্ছে। এই কাজগুলো নারীরাও করে। তবে আগেই বলেছি এই ধরনের ডমিনেন্সি মেয়েদের মধ্যে কম। অবস্থানগত কারণেই মেয়েরা পারে না। বরং দেখা যায় উল্টা অনেক মেয়েকে দেখেছি মন খারাপ করতে তার পাটর্নার তাকে ডমিনেট কেন করে না, এইটা নিয়ে। এইটাকে মনে করে তার পার্টনার তার কেয়ার করে। একজন ডমিনেট করে আরেকজন ডমিনেট হয়। এবং এইভাবেই অগণতান্ত্রিক সম্পর্কগুলো সুন্দর হারমোনিতে চলতে থাকে।

বয়সী দুইজন বন্ধু যখন বিয়ে করে, তখন কিন্তু একটা গণতান্ত্রিক সম্পর্ক থাকার কথা। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি তখনও থাকে না। বরং সমবয়সী বিয়েগুলা খুব অশান্তির হয় আমার অবজারবেশন তাই বলে। তার অন্যতম কারন হিসেবে মনে হয়েছে সম্পর্কের পর বা বিয়ের পর দুই জনেরই প্রত্যাশা পাল্টাতে থাকে। মানে একজন চায় ডমিনেট করতে যদি আরেকজন তাতে সায় দেয়, তবে এই সম্পর্ক ওয়ার্ক আউট করবে, কিন্তু আরেকজন যদি না মানে তখনই ধাক্কাধাক্কিটা শুরু হয়।

আবার উল্টাও হয়। অনেক সময়ই আরেকজন চায় ডমিনেট হতে, সেইটা যখন না হয় তখন সেই ধাক্কাধাক্কিটা লাগে। মোট কথা, আমরা নিজেরা যেহেতু আসলে উদাহরণ হিসেবে এই ধরনের কোন গণতান্ত্রিক নারী-পুরুষ সম্পর্ক দেখি নাই আমরা সম্পর্কের মানে ধরেই নেই একজন ডমিনেট করা আরেকজন ডমিনেট হওয়া!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.