নারীর ধর্মীয় পোশাকও যখন থামায় না ধর্ষকদের!

ফাহমি ইলা:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে পারেনি সোহাগ নামের একটি বাসের ড্রাইভার আর তার দুই সহকারী, সেটা সোহাগ পরিবহন কিনা জানি না। বাসের ভেতর মেয়েটিকে টেনেহিঁচড়ে মেঝেতে ফেলতে চেয়েছে, মেয়েটি দরজায় লাত্থি দিয়ে চিৎকার করে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে। অবশেষে ‘ছেড়ে দে, সুবিধা নাই’ বলে তারা হাল(!) ছেড়ে দেয়। অথচ মেয়েটি যদি বুদ্ধিমান আর সাহসী না হতো, তাহলে তার লাশ আমরা হয়তো দেখতে পেতাম কোন পথের পাশে, ঝোঁপের ভেতর।

এটুকু ঘটনায় প্রশাসনের টনক নড়বে না। ‘এটুকু’ বললাম কারণ লাশ হয়ে যাওয়া ঘটনারই বিচার হয়নি, আর এটা প্রশাসনের কাছে মামুলি ঘটনা হবে এটাই স্বাভাবিক। ধর্ষণ করে খুন করে বিচার পাওয়া যায় না এদেশে, আর এ তো ধর্ষণের চেষ্টা করা!! আজ মেয়েটি বেঁচে গেছে, কাল কেউ বাঁচবে তার কোন ভরসা নেই। অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, আইন নিশ্চিত করা। যদিও সে আশা আজকাল আর কেউ করে কিনা জানা নেই!

নারীর পোশাক, চলন, আচার আচরণের দিকে যতদিন আপনারা আঙুল তুলবেন, ততদিন কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তার মানে হলো আগুন পূর্বদিকে লাগলে আপনি পশ্চিমদিকে আঙুল তুলে আগুন লাগার কারণ খুঁজতে চাইছেন। অথচ এই সমাজের এই পুরুষকুলের মগজভর্তি শিশ্ন নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, নারী শরীরকে যৌনবস্তু হিসেবে দেখা এবং যেকোনো কিছু করে পার পেয়ে যাওয়াকে আপনি মূল সমস্যা হিসেবে আইডেন্টিফাই করতে পারছেন না। পারছেন না বলে দেখতে পান না যে মেয়েটি আজ ধর্ষণের শিকার হতে গিয়েও বেঁচে গেলো সেও একটা ধর্মীয় পোশাক জড়ানো ছিলো, পারছেন না বলেই দেখতে পান না ছয় মাসের কন্যাশিশুটিও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ধর্মীয় পোশাকটি কিন্তু মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারছে না, তাকে আড়াল দেয়নি এই পোশাক।

আপনাদের কাছে আছে টিয়া পাখির মুখস্ত বুলি-‘সব পুরুষ এক না’। অথচ এই বুলি আওড়ে ঐ নারীটির খুব বেশি লাভ হচ্ছে না, কারণ ধর্ষণের জন্য সব পুরুষের দরকার নেই, তার মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা দু-দশজন পুরুষ দিয়েই হবে। এবং যথারীতি আপনারা আর কোন সমস্যা আইডেন্টিফাই না করে ‘সব পুরুষতো এক না’ কিংবা ‘মেয়েদের বাইরে বের হবার দরকার কী’ ‘মেয়েটারও বোধহয় কোন সমস্যা ছিলো’ এ ধরণের লাইন নাযিল করে পাতে খাবার তুলে আয়েশে খেয়ে ঘুম দেবেন।

রাষ্ট্রের কাছে কোন আশা নেই। প্রত্যাশা বরং নারীদের কাছে এবং সেইসব পুরুষদের কাছে যারা ভাবেন ‘সব পুরুষ এক না, কিন্তু আমারো বড় দায়িত্ব আছে’। যতদিন বাঁচবেন বাঁচার মতো বাঁচুন, সাহসিকতা আর শক্তির সাথে বাঁচুন। নিজেকে শক্ত করুন, সুযোগ বুঝে নিজের শক্তিকে কাজে লাগান। এক হোন সকলে, এক হলেই লড়াইটা চলে।

বিষম ঝড়ে লতানো গুল্ম না হয়ে মহীরুহ হোন, মহীরুহ হলেই ঠেকিয়ে দিতে পারবেন দুর্যোগ।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.