গৃহকর্মী’র নামে সৌদি আরব নামক পতিতালয়ে যাবে না কোন নারী

শামীম আরা নীপা:
কতকিছুই ঘটছে এই জগতে, যুদ্ধ ও আক্রমণের শিকার হয়ে মানুষ মারা হচ্ছে, মিছিল প্রতিবাদ বিদ্রোহ চলছে, প্রতিদিনিই আহত নিহত নারী শিশু পুরুষ এর ছবি দেখা যায়- এসব চোখ সহ্য করতে পারে না, প্রাণে সয় না।
নারী মুক্তি এবং সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের যুগে নারী কি পিছিয়ে থাকবে কাজে কর্মে গন্তব্যে? নারীর শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নতি হোক এবং সেই লক্ষ্যে প্রতিটা নারী সামনে এগিয়ে যাক – সেই কামনা করি নিরন্তর।
সৌদি’র যে সংস্কৃতি কয়েক হাজার বছরের সেই সংস্কৃতি আমি আপনি তারা মিলে কীভাবে একদিনে ঠিক করে ফেলবো…? সৌদি সরকার নির্যাতন নিপীড়ন ধর্ষণ সব জানলেও তা বাইরে প্রকাশ করবে না। তাদের কৃতিত্ব তারা প্রকাশ করবে কিন্তু তাদের ব্যর্থতা ও স্বজাতির নৃশংস পাশবিকতাকে তারা সবার সামনে প্রকাশ করবেনা… নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও সৌদি সরকার সেইখানে সংগঠিত প্রতিটা অপরাধ সম্পর্কে জানে এবং তদন্ত চালায় এবং সেইসব কোনভাবেই বাহিরে প্রকাশ করে না…
সৌদি নাগরিক কিংবা ভিন্ন দেশের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত নারীরা সৌদিতে দিনরাত সবসময়ই নিরাপদ সেই দেশের আইনকানুন বিচার ব্যবস্থার কারণে কিন্তু সৌদি নাগরিকদের ঘরে তাদের গৃহকর্মীরা নিরাপদ নয়… বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নারীদের পাসপোর্টে লেখা থাকে খাদ্দামা, ইসলাম ধর্মানুযায়ী সেই খাদ্দামার মানে এক অর্থে যৌনদাসী ও (তাদের মতে) … খাদ্দামারা যদি মালিকের কথামতো ‘জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর’ না করে তবে তারা নির্যাতিত নিপীড়িত হবেই।
সৌদিতে ১৯ রকমের ‘না’ আছে মানে আরবীতে ১৯ রকমের ‘না’ আছে – তো তারা একবারে না পারিলে দেখে ১৯ বার এবং সেই ১৯ বারে বাংলাদেশের নারীদের তথাকথিত সম্ভ্রম হাটে মাঠে ঘাটে বিলীন হয়ে যায়, যা বেশিরভাগ নারীই মেনে নিতে পারে না মানসিক ও শারীরিকভাবে।
সৌদি সরকার ঘরের ভেতরের এই অপরাধগুলোকে স্বীকৃতি না দিলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না… কয়জন নির্যাতিত মামলা করতে পারে ঐ দেশে? কয়টা সংস্থা লড়ে ঐ নির্যাতিত নিপীড়িতের পক্ষে…? বাংলাদেশের দালাল শুয়োরের বাচ্চারাই তো কোনো সাহায্য করে না শ্রমিকদেরকে, বাংলাদেশি দূতাবাসই তো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে না, প্রশ্ন করে না সৌদি সরকারকে, সেখানে বসবাসরত নিজ দেশের প্রতিটা নাগরিকের কোন খবর রাখে না… সৌদি সরকারের কী ঠ্যাকা পড়েছে বাংলাদেশের নারীদের সাহায্য করতে…?
তার ভেতর সৌদিতে আমাদের দেশ থেকে যারা যায়, তারা ঐখানকার আইন কানুন সম্পর্কে কিছুই জানে না। ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে কোনকিছু আর জানাও সম্ভব হয়ে উঠে না। আমাদের দেশের ট্রেইনিং এ যেসব বলা হয় তা খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা, রুপকথার গল্পের মতো খুব সহজ করে বুঝানো হয় নারীদেরকে তাদের নিরাপত্তা ও সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি। দায় কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের… এজেন্সি এবং সেইসকল ট্রেইনারের ও শাস্তি হওয়া উচিত।
সৌদি’র ঘরগুলো একেকটা দুর্গ, কার বাড়িতে কী হচ্ছে কেউ বলতেও পারে না। তাই ঐখানে মানুষ বাস করলেও তাদের ক্ষমতা নাই হায়েনাদের মোকাবিলা করবে। আমাদের দেশের নারীদের সাহায্য করার মতো কেউ নাই ঐ আরব দেশের দুর্গগুলোর ভেতর।
গ্রামের নারীরা বিদেশ যায় বেশি টাকা উপার্জন করে ঘর সংসার পরিবার নিয়ে ভালো থাকবে সেই আশায়, মাসে ২৫ হাজার টাকা বেতন পাবে, খাওয়া থাকা চিকিৎসা সব ফ্রি- অবশ্যই লোভনীয় অফার এবং মানুষ সুখে থাকার নেশায় মত্ত হবেই- খুব কম মানুষ আছে যারা লোভে পড়বে না, সতর্ক হবে… অসচেতন দরিদ্র মানুষের ভাবনা এবং দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র রেমিট্যান্স কামাচ্ছে… গৃহকর্মীদের ব্যপারে বাংলাদেশ রাষ্ট্রযন্ত্র এবং সৌদি’র গৃহকর্তার ভাবনা, মানসিকতা ও আচরণে কোন পার্থক্য নাই, তারা সকলে মিলেই নির্যাতক- নিপীড়ক- ধর্ষক।

বাংলাদেশ সরকার যখন সৌদি সরকারের সাথে গৃহকর্মী পাঠানোর চুক্তি করে তখন কিছু শর্ত তো ছিলোই, কিন্তু সেসব শর্ত নারী পুরুষ কারোর নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারে নাই। সরকারের মনিটরিং এবং ফলোআপের অভাব ছিলো নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশ সরকার জবাবদিহিতা নেয়ার ব্যপারে অনাগ্রহী ছিলো, যার প্রেক্ষিতে একের পর সৌদি নাগরিক বাংলাদেশী নারীদের সাথে চূড়ান্ত পাশবিক নির্যাতনের সাহস পায়, আমাদের দেশের নারীদেরকে তারা হত্যা করার সাহস পায়।

সৌদিতে নারীরা ভালো পরিবেশ কি একেবারেই পায় না…? নির্যাতন নিপীড়ন ছাড়াও অনেক বাংলাদেশী নারী শ্রমিক/ গৃহকর্মী সৌদিসহ বাহিরের অনেক দেশেই ভালো আছেন, হয়তো তা ওদেশে যাওয়া মোট গৃহকর্মীদের এক চতুর্থাংশ, বাকি তিন চতুর্থাংশের বেশীরভাগই পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের কথা , নিজেদের মান সম্মানের কথা ভেবে সবকিছু সহ্য করে চুপচাপ থেকে যায়।

এক চতুর্থাংশের নির্যাতন নিপীড়নের কথা আমরা জানতে পারি, কারণ তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সেসব সহ্য করতে পারে না এবং সেসব হয়তো আমরা জানি না কিংবা জানি- যাকিছু ভালো তা নিয়ে তো কোন দ্বিধা দ্বন্দ্ব নাই, কিন্তু সেইখানে যদি একজন নারী কিংবা পুরুষও নির্যাতিত হয় এবং মারা যায় সেইটাও আশংকাজনক এবং অ্যালার্মিং।

নির্যাতিত নিপীড়িত ধর্ষণের শিকার নারী যেমন ভুগে আমাদের দেশে, ঠিক সেইভাবে বাইরে কাজ করা আমাদের দেশের নিরাপদ নারীরাও সামাজিক নিষ্পেষণে নিষ্পেষিত হয়ে যায় শরীর নামক এক ট্যাবুর কারণে।
সবদিক থেকে নারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েই চলেছে… এই সমাজ নিরাপদ / নিপীড়িত নির্বিশেষে সকলকে পতিতা নামক উপাধি দিয়ে নারীর আর্থসামাজিক জীবনকে নরক বানিয়ে দেয়… সৌদি নাগরিকদের একদিনে যেহেতু পশু থেকে মানুষ করা যাবে না, তাই বাংলাদেশের কোন নারী সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশে গৃহকর্মী হিসেবে যাবে না- এই প্রত্যয়ে প্রত্যয়ী হতে আহবান জানাই সকল মানুষকে।

আমাদের দেশের নারীরা সারাবিশ্বময় ঘুরে ঘুরে কাজ করবে, দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে- এই স্বপ্ন দেখি, কিন্তু জেনে শুনে বুঝে আমাদের রাষ্ট্র কোন মানুষকে নরকে পাঠিয়ে দিবে, সেইটা কোনভাবেই কাম্য না, মেনে নিবো না। ব্যস।

সুমি আক্তার দেশে আসতে পেরেছে, সে ভাগ্যবান। সে কোন না কোনভাবে ঐখানকার পুলিশের কাছে গিয়েছে এবং পুলিশের মধ্যস্থতায় দালালের সাথে সুমি আক্তার এই নির্যাতনের বিষয়টি ইনহাউজ মেটায়নি, যার জন্য সৌদি পুলিশ মামলা নিয়েছে, মামলা কোর্টে গেছে এবং সুমি আক্তার ন্যায় বিচার পেয়েছে ও জান নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছে। কিন্তু আবিরন, নাজমা লাশ হয়ে গেছে, ওইদিকে হুসনা সাহায্যের জন্য এখনও কাঁদছে – ওদের জন্য ন্যায় বিচার কে আনবে…? আদৌ আনতে পারবে কি…?

বাংলাদেশের নারীরা সৌদি আরবে যায়- তাদের পরিস্থিতি নিয়ে আগেও তথ্য উপাত্তসহ লিখেছিলাম.. সৌদিতে নারীদেরকে দাসী হিসেবে পাঠানো হয় আর ওদের আইনে দাসী (খাদ্দামা) ভোগ করা জায়েজ আছে, সেইখানে ভিকটিম হাজার কিছু ক্লেইম/ কমপ্লেইন করে কোন ন্যায়বিচার পাবে না।

বিশ্বের যেসব দেশ থেকে নারীরা আরব দেশে চাকরির জন্য যেতো তাদের প্রায় সব দেশ সেইখানে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে, একমাত্র আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছু জেনেশুনে লাগাতার নারী শ্রমিক পাঠিয়েই যাচ্ছে সৌদি আরবে এবং নারীরা ধর্ষণ এবং যাবতীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে,  অথবা লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব নারীদের পরিবার গ্রহণ করছে না। কিন্তু মানবতার আম্মা তথা বাংলাদেশ সরকার সৌদি’র বিরুদ্ধে কোন একশন নেয়া তো দূর, একটা টুঁ শব্দও করে না এই নির্যাতিত নারীদের পক্ষে, এবং সৌদি আরবের এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

এর আগেও বলেছি, সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করা হোক। কিন্তু রাষ্ট্রের লালায়িত জিহ্বা কিছুতেই বাধ মানে না, মানুষও সব ভুলে যায় অবলীলায়। বাংলাদেশি নারী শ্রমিকও সৌদি আরবে যুদ্ধ ও আক্রমণের শিকার এক অর্থে। সেই অর্থে কিন্তু তাদের পক্ষে ন্যায় এর জন্য কোন জাতিসংঘ নাই এই দুনিয়ায়। আর জাতিসংঘকেই বা দোষ দিই কী করে যেখানে আমাদের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপ্রধানই নারীদের এই পরিণতির জন্য দায়ী!

আমি এসব খবর ছবি কিছুই আর দেখি না, অসুস্থ লাগে। তারপরও জেনে যাই নির্মম সংবাদগুলো, দেখে ফেলি নৃশংসতাকে- প্রাণে সয় না আর… আমরা বাঁচতে চাই সবাই মিলে। অথচ আমরা সবাই মিলে একসাথে যেন মরে গেছি।
ঠিক যেভাবে ধর্ষণের জন্য নারী এবং নারীর পোষাককে দায়ী করা হয়, ঠিক সেইভাবেই কেউ কেউ সৌদি আরবে বাংলাদেশী গৃহকর্মীদের নিয়ে প্রশ্ন তোলে যে তারা কেন যায়…? সব জেনে বুঝে তারা কেন যায়…? আয়োডিনের অভাবে এই দেশের মানুষগুলো কাঁঠাল পাতা খাওয়ার পর্যায়ে চলে গেছে… কেন যায় নারীরা ঐদেশে সেই প্রশ্নের উত্তর দিবো না বলে ঠিক করেছি, ছাগলের জাত নিজেরাই তাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিক, অন্যথায় গণ্ডমূর্খই হয়ে থাক।

২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক চায়, কারণ ততোদিনে অন্যান্য দেশ সেইখানে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে পাশবিক নির্যাতনের কারণে…বাংলাদেশের পুরুষ শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিলো সৌদি আরব… অবশেষে ২০১৫ এর ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হলো সরকারি নারী পাচার, রাষ্ট্রযন্ত্র সেই নারী পাচার ঠ্যাকাতে পারলো না, কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলো না এই দেশের নারীদের জন্য বরং পাচারকারী হয়ে উঠলো… নারীর আত্মসম্মান ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে শুরু হলো পুরুষ শ্রমিক যাওয়া এবং রেমিট্যান্স ব্যবসা।

২০১৫ সালে সরকার সৌদি আরবে পাচার করলো ২১ হাজার নারী, ২০১৬ সালে পাচার করলো ৬৮ হাজার নারী, ২০১৭ সালে পাচার করলো ৮৩ হাজার নারী, ২০১৮ তে পাচার হলো ৭৩ হাজার নারী, ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সৌদিআরবে প্রায় ৩ লাখ নারীকে পাচার করেছে।

২০১৬ সালে লন্ডনে বাংলাদেশের উদ্যোগে অভিবাসনের ওপর একটি ‘গ্লোবাল ফোরাম’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে নারী শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণের বিষয় আলোচিত হয়েছিল। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর রিপোর্ট অনুযায়ী নারী শ্রমিকের অধিকার রক্ষার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলোর ওপর চাপ প্রদানের বদলে কীভাবে আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিক রপ্তানি করা যায়, তা নিয়ে দেনদরবার করতেই বাংলাদেশের পাচারকারীদের আগ্রহ বেশি ছিলো- এই হচ্ছে নারীর প্রতি নৃশংসতার বিরুদ্ধে মানবতার আম্মা তথা বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান!

লেখক: শামীম আরা নীপা

কোনো দালালকে, কোনো সংস্থাকে আজ পর্যন্ত শাস্তি দেয়নি এই দেশের প্রশাসন, উল্টা নারীদেরকে বাজারে পণ্য বানিয়েছে, নারী পাচার করে পুরুষ শ্রমিক পাঠানোর ধান্ধা করেছে, নারীর আত্মসম্মান ও সম্ভ্রমের সওদা করেছে এই বাংলাদেশের সরকার ও মানবতার আম্মা।

একজন নারীকে সরকার এই দেশ থেকে আরব দেশে পাচার করলে এই দেশের তিনজন পুরুষকে কাজ দিয়ে নেয়া হবে সেখানে – এই শর্তে লালায়িত নেতৃবৃন্দ একবার নিজের মেয়েটিকে নাজমা’র স্থলে অভিষিক্ত করে দেখেনি।

একবার নিজের কন্যা সন্তানকে সৌদির নারী গৃহকর্মী হিসেবে কল্পনা করেন তো দেখি… রেমিট্যান্সের লোভে নিজের কন্যাটিকে বেঁচে দেন তো দেখি… অন্যান্য দেশের তিক্ত পাশবিক অভিজ্ঞতা জানার পরও রিয়েল দিনার এর লোভে এই দেশের নারীদেরকে সরকার নিজে আরব দেশে চাকরির নামে পাচার করে দিচ্ছে বছরের পর বছর… আরবে পাচারকৃত নারীদের ২০% নির্যাতনের শিকার বলে সরকার জানায় এবং সেই ২০ শতাংশকে তারা মানুষ মনে করে না- তাদের বয়ান থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায় এই বিষয়ে… সৌদিতে তবে এতো সেইফ হোম কেন…? নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে, দেশে ফিরে আসছে, পাগল হয়ে যাচ্ছে, লাশ হয়ে যাচ্ছে – এসব কি কেবলই সংখ্যা?

সবকিছু জেনে শুনে বাংলাদেশ সরকার কীভাবে নারীদেরকে আরব দেশে কাজের জন্য পাঠায়? কীভাবে আরব দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় নারীদেরকে? তারা বাস্তবতা এবং ঘটনার ভয়াবহতা জানে না? এই দেশ নির্যাতিত হতে পাঠায় নারীদেরকে এবং সেই নির্যাতনের কোনো বিচারও হয় না কখনো, কোনো আইনী ব্যবস্থা নাই এসব বিচারের!

জাতির জনক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিজের কন্যা বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, উনার ঠিকানাই নারী মুক্তিযোদ্ধাদের ঠিকানা বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই মানুষের সন্তান হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নারীদেরকে সব জেনে শুনে বুঝে সৌদিতে পাঠায় ধর্ষণের শিকার হতে রেমিট্যান্সের লোভে…! ঘটনার পর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এই বিষয়ে কোন টুঁ শব্দও নাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে, কোনো কার্যকর ভূমিকা নাই…!!! আহারে শেষমেষ সৌদির সাথে দেহব্যবসার দালাল হয়ে গেলো লোভের বশে – জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কীভাবে মেনে নিতেন তার কন্যার এমন মহৎ কর্ম…!!!!
বাংলাদেশ থেকে একটা সরকারি দল যাচ্ছে সৌদি’র সাথে কথা বলতে, কিন্তু বরাবরের মতো কোন আশানুরূপ ফল আসবে না বলেই আশায় বুক বাঁধতে পারছি না… তাই হুঁশিয়ার বার্তা জানানো জরুরি এই বলে যে,
বাংলাদেশের কোন নারী গৃহকর্মীর কাজ করতে সৌদিআরব নামক পতিতালয়ে আর যাবেনা, রেমিট্যান্সলোভী দালালেরা সাবধান…।

শেয়ার করুন:
  • 27K
  •  
  •  
  •  
  •  
    27K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.