অন্যের বাসার ‘বিরিয়ানি’র গন্ধ শুঁকে আর কতদিন!

রুমানা বৈশাখী:

কবি গুলতেকিন খান দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। না, হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে করেননি, আমি যতদূর পড়েছি দুই সপ্তাহ আগেই করেছেন। (যদিও জন্মদিনে করলেও কিছু যায় আসে না। জন্মদিন একটি আনন্দের দিবস।)

ছেলেমেয়ে বড় হয়ে যাবার পর, নানী/দাদী হয়ে যাবার পর আমাদের দেশে দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন ব্যাপার নারীদের জন্যে। তিনি সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছেন, নিজের জীবনকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা খুবই চমৎকার একটি ব্যাপার। আমি এই প্রসঙ্গে একটিও কথা বলবো না ভেবেছিলাম। কারণ প্রেম-বিয়ে খুবই ব্যক্তিগত একটি সিদ্ধান্ত। অন্যের এইসব নিয়ে কথা বলাটা চূড়ান্ত পর্যায়ের ছোটলোকি। কিন্তু বন্ধু তালিকার কিছু মানুষের মানসিক দৈন্যতা দেখে না বলে পারছি না…।

জেনে রাখুন-
একজন মানুষের পরিচয় কোনভাবেই অমুকের প্রথম স্ত্রী / প্রথম স্বামী নয়। না, তিনি আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ হলেও নয়। কাউকে অমুকের দ্বিতীয় স্ত্রী/ প্রথম স্ত্রী বলার মানসিক দৈন্যতা পরিহার করতে না পারলে চুপ থাকুন। তাও নিজেকে অপমান করবেন না প্লিজ। উনি হুমায়ূন আহমেদকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন নাকি হুমায়ূন আহমেদ দিয়েছিলেন তাঁকে, শাওন তাঁদের সংসার ভেঙেছিল নাকি সংসার ভাঙার পর শাওন এসেছিল- ইত্যাদি সকল প্রশ্নও অবান্তর। কারণ সেটিও তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আর এ নিয়ে আলোচনা করতে চাওয়ার পুরো ব্যাপারটিই রুচিহীন।

দ্বিতীয়ত-
কিছু মানুষ গুলতেকিন খানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন, যা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তাঁকে কবি বা সাহসী একজন নারী নারী হিসেবে অভিনন্দন জানানোতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী আবার বিবাহ করেছেন- এইসব ভেবে অভিনন্দন জানানো নিশ্চয়ই অন্যায়। অন্তত আমি তাই মনে করি।

আবার কিছু মানুষ এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে বসেছেন যে কেন তারা অভিনন্দন জানাতে পারছেন না, যেন তাদের শুভেচ্ছা জানানো কিংবা না জানানো জগতের জন্যে খুবই জরুরি একটি ব্যাপার। (এটি কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। সভ্য সমাজে প্রেম-বিয়ের ক্ষেত্রে কাউকে ভালো কথা না বলতে না পারলে চুপ থাকাই ভদ্রতা)

আই মিন সিরিয়াসলি?
আপনারা সত্যি মনে করেন যে নিজের জন্যে লড়াই করতে জানা একজন নারীর কিছু যায় আসে আপনার “শুভেচ্ছা” নিয়ে? আপনি তাকে অভিনন্দন না জানালে সেটা বিরাট গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তাঁর জন্যে?

আপনারা সত্যি মনে করেন যে কেন গুলতেকিন খানের হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে বিয়ে করা উচিত ছিল, বিয়ে করলে কীভাবে হূমায়ুন আহমেদের মুখে ঝামা ঘষে দেয়া যেত, কেন এখন বিয়ে করে গুলতেকিন অনুচিত করেছেন, কেন ৫৬ বছর বয়সে বিয়ে করা উচিত নয়, কীভাবে শাওনকে এক হাত দেখে নেয়া যেত, কে বেশি সুন্দরী শাওন না গুলতেকিন… ইত্যাদি ইত্যাদি কুৎসিত আলোচনায় তাঁদের কারও কিছু এসে যায়? আপনাদের আলোচনা দেখে উনারা বিয়ে ভেঙে দিবেন বা সবাই উনাদের ঘৃণা করবে, কবরে বসে হুমায়ূন আহমেদ ব্যথিত হবেন কিংবা আপনাদের মতামতে উনাদের জীবন নির্ধারিত হবে- নিজেদেরকে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ভাবেন আপনারা?

বলি কী, ব্যাপারটা আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর রাখার মতো হয়ে গেলো না? কে কার সাথে জীবন কিংবা বিছানা শেয়ার করবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবার মতোন আপনারা কারা? আপনাদের খুশি করার জন্যে একজন মানুষ অপছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করবে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করবে, কারণ আপনারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত?

গেট এ লাইফ পিপল! গেট এ লাইফ!
অন্যের বাসার বিরিয়ানির গন্ধ শুঁকে আর কতদিন…!

শেয়ার করুন:
  • 116
  •  
  •  
  •  
  •  
    116
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.