ফেইসবুকে কিছু অতৃপ্ত আত্মা এবং তাদের শাবানারা

শাহরিয়া দিনা:

যে মেয়েটা একটু সাহসী, অনেকখানি বিবেচক, সামনাসামনি দু’কথা বলার যোগ্যতা রাখে তাদেরকে সম্মান করি। একটা মেয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে, কোনো নারীর স্কুটির পেছনে স্কুলড্রেস পরা বাচ্চা, কিংবা গাড়ির ড্রাইভিং সিটে কোনো নারী -আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকি। ভালো লাগে।

তবে কিছু মেয়েদের অপছন্দ করি। বাংলা সিনেমার শাবানার মতো মহৎ মহীয়সী নারীরা এই তালিকায় নাম্বার ওয়ান। আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে বিয়ে, গর্ভবতী রেখে স্বামী নিরুদ্দেশ, উনি সেলাই মেশিন চালিয়ে কষ্টে-সৃষ্টে বাচ্চাকে মানুষ করছেন। শেষ দৃশ্যে স্বামী ক্ষমা চাইতে এলে – ‘ওগো একথা বলে তুমি আমাকে পাপী করো না’ বলে আঁচল মুখে চাপা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে স্বামীর বুকে লুটিয়ে পড়ে।

তো, যা বলতে এই লেখা এই শাবানারা লেখাপড়া করলেও সংসারের হাড়িপাতিলের মধ্যেই জ্ঞানটাকে এতো সীমিত করে রাখেন যে দুনিয়া কোথায় গেছে আর উনি কই পড়ে আছেন সেই খবর জানেন না। জানতেও চান না। এখন যেমন সবাই সেলফি, ফেইসবুক, ইনস্তাগ্রাম, নেটফ্লিক্স নিয়ে থাকে; নেক্সট জেনারেশন থাকবে অগমেন্টেড রিয়ালিটি, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি আর এসিস্টেড লাইফস্টাইল বাই কম্পিউটার প্রোগ্রামস, এপ্লিকেশন আর রোবোটিক্স নিয়ে। এখন ট্রেন্ড দেশ-বিদেশ ঘুরতে যাওয়া, তখন ট্রেন্ড হবে স্পেস টুরিজম। আউটার স্পেস থেকে সেলফি চেকইন হবে।

যাই হোক, শাবানা’র মতো মহৎপ্রাণ বলেই উনারা অগাধ বিশ্বাস করেন স্বামীকে। যেন স্বামী বেচারা এতো ভালো যে অজু করে ফেইসবুকে বসে ওয়াজ মাহফিল শুনে। আর যেসব মেয়েরা ফেইসবুকে অভ্যস্ত তারা সব তেঁতুল। ছেলেধরার মতো পুরুষধরা। তো বউয়ের এমন সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গোবেচারা ভাব ধরা পাব্লিকটা গাছেরটাও খায়, তলারটাও কুড়াবার যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

ইনবক্স এক্সপার্ট বলে এদের বোঝাও যায় না কোথায় কী করে। দিনে বউয়ের চোখের আড়াল হলে অথবা রাতে বউ ঘুমিয়ে গেলে চেনা-অচেনা মেয়েদের ইনবক্সে উনারা এক একটা অতৃপ্ত আত্মা হয়ে যান। বউয়ের কাছ থেকে কতভাবে বঞ্চিত, কত কী না পাওয়া অথবা বউটা কত ব্যাকডেটেড সেই দুঃখের ইতিহাস বলেন। ইনিয়ে-বিনিয়ে সঙ্গী খোঁজেন। আপনি যদি স্ট্রেইট-ফরোয়ার্ড মেয়ে হোন তো, যখন জিজ্ঞেস করবেন, এতোই যখন অশান্তি, তখন আলাদা হয়ে যাচ্ছেন না কেন? একটা সম্পর্কে থেকে অন্য সম্পর্কে যেতে চাওয়া তো অন্যায়। তখনও উনাদের জবাব রেডি, শুধুমাত্র সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার নামক জেলখানায় আটকে আছেন।

১০ জায়গায় চেষ্টা করে কোনো এক জায়গায় হয়তো সফল হোন। ধীরে ধীরে চোরের মতো চালাতে থাকেন আরেকটি সম্পর্ক। রেললাইনের মতো উনারও দুই সম্পর্ক বহে সমান্তরাল। বউটা টের পেয়ে যায় কোথাও একটা গোলমাল চলছে। কিন্তু এই চতুর ধুরন্ধরের ডিপ্লোম্যাসি তো বুঝে না! সচরাচর যেসব মেয়েরা নিউজফিডে সরব থাকেন, যারা প্রায় প্রতিদিনই নিউজফিডে উপস্থিতি জানান দেন, বউয়ের ফোকাস সেদিকেই থাকে। কারে লাইক দিল কারে মন্তব্য করলো এই নিয়েই টার্গেট করেন। যেন ওই মেয়ে ২৪ ঘন্টাই ফেইসবুকে বসে থাকে। তাকে মুলা ভেবে হা করে তাকিয়ে থাকে।

স্বামীর বেলায় শাবানা হলেও অন্য মেয়ের বেলায় উনি এক ঝটকায় রিনা খান হয়ে যান। এমন সরল জামাইটার মাথা খেলো এই রাক্ষুসি ভেবে তারে অপদস্থ করার কোন সুযোগ হাতছাড়া করেন না, অভিশাপ দিতেও কার্পণ্য করেন না। ওইদিকে জামাই সাহেবও আত্মপ্রসাদ লাভ করেন, যাক, আসল জনকে তো ধরতে পারে নাই! করো যারে ইচ্ছে তারে নিয়ে সন্দেহ। অর্থাৎ দুই নারীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে উনি মজা নেন। অথচ এখানে দুইজন মেয়েই নির্দোষ।

ডিয়ার শাবানা’স টাইপ মুমিনস আপুরা, এতোটা সরল হবার দরকার নাই। কারে অবিশ্বাস করবেন কারে বিশ্বাস করবেন সেটা নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার হলেও এই জামানায় কাউরে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে নাই। যুক্তিতে আস্থা রাখেন। গোপন জিনিস কেউ ওপেন করে না। নিজের গরু পরের গোয়ালে ছুটলে সেই গোয়াল মালিক নয় নিজের গরুরে বান্ধেন। আখেরে কাজে দিবে।

শেয়ার করুন:
  • 1K
  •  
  •  
  •  
  •  
    1K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.