নারী হয়ে আপনিই পুরুষের লাম্পট্যকে জিইয়ে রাখছেন না তো?

শাহানা লুবনা:

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবার সময় যখন কোনো পুরুষ আপনার স্পর্শকাতর স্থানে হাতের ছোঁয়া লাগিয়ে বিকৃত রুচির আত্মতৃপ্তি নিয়ে কিছুই করেনি বা অজান্তে লেগেছে এমন ভাব নিয়ে সামনে এগিয়ে যায় এবং আপনি সব বুঝেও চুপ থাকেন ঝামেলা এড়ানোর জন্য। তখন সেই লম্পট কেবল নিজেই এগিয়ে যায় না, সাথে করে তার লাম্পট্যকেও এগিয়ে নিয়ে যায়। নিজের অজান্তে প্রশ্রয়টা আপনিই তাকে দিলেন। সে তখন আরও সাহসী হয়ে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত হয়।

যখন অফিসে আপনার সিনিয়র বা আপনার বস্ আপনাকে কুপ্রস্তাব দেয় এবং আপনি আপনার সম্মান বাঁচাতে প্রতিবাদ না করে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে আসেন তখন আপনি হেরে গেলেন। জিতে গেল সেই লম্পট তার লাম্পট্য নিয়ে।

শাহানা লুবনা

বাড়ির কাজের মেয়েটি যখন আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে তাকে মোলেস্টেসন এর অভিযোগ নিয়ে আসে, আর আপনি বিষয়টিকে ইগনোর করেন নিজের সংসার বাঁচানোর অজুহাতে। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন আপনার ‘সংসার’ নামক দুর্বলতার সুযোগটুকু সে বারবার নিবে। স্বামী নামক লম্পট ব্যক্তিটি পুনরায় কাজটি করবে এবং স্ত্রী হয়ে সেই লাইসেন্স আপনিই তাকে দিলেন। পরিবারের মধ্যেই একজন লম্পটকে আপনি বাঁচিয়ে রাখলেন।

কোনো স্ত্রী তার আত্মসম্মান রক্ষার্থে যখন লম্পট স্বামীকে পরিত্যাগ করে চলে যায় এবং তার খালি বাসা পেয়ে আপনি “লটপট লটপট কোমর দামিনী আঁধার রাগিনী হো” করতে করতে তার শূন্যস্থান পূরণে এন্ট্রি মারেন, তখন লম্পটের লাম্পট্য মুখ টিপে হাসে। বুড়ো আঙুল দেখায় আত্মসম্মান নিয়ে লড়াই করা মানুষ নামক নারীটির দিকে। তবে একহাতে সে আপনাকে জড়িয়ে ধরলেও অন্য হাতে আরেকজনকে আহ্বান জানাবে এটাই স্বাভাবিক এবং সে দায়ভার আপনাকেই নিতে হবে।

আপনি নিজে স্বামীকে পরিত্যাগ করেছেন বা স্বামী আপনাকে, যাই হোক না কেন, জীবনকে নতুনভাবে গড়ার অধিকার আপনার আছে। আপনি সাজাতে পারেন আপনার জীবনকে যেমন খুশি তেমনভাবে। বুনতে পারেন ভালবাসার জাল নতুনভাবে। ভালবাসা মানেই যৌনতা নয়। আপনি যদি এই দুইটি বিষয়ের পার্থক্য না বোঝেন সেক্ষেত্রে যে কোনো লম্পট আপনার সেই দুর্বলতাটুকুর সুযোগ নিবে। এবং সেই সুযোগ আপনিই তাকে সৃষ্টি ‌করে দিলেন।

শারীরিক সম্পর্ক সৃষ্টির আগে বিয়ে নামক সামাজিক স্বীকৃতি আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহ্য (যদিও আজকাল এই ঐতিহ্য তোপের মুখে পড়েছে)। যে বিষয়টি সমাজ কিংবা রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয় না, তাকে বলা হয় অনৈতিক কর্মকাণ্ড! যেটি সমাজে বিশৃঙ্খলা আনয়নে সহায়ক। কাজেই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তখন আপনিও অপরাধীর আওতায় পড়েন। কেবল আকাশে ডানা ঝাপটে ওড়ার নামই জীবন নয়। নীড়ে ফেরার যোগ্যতাটুকু থাকা লাগে। এমন যেন না হয় উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে নীড়েই আর ফেরা হলো না।

প্রতিটি মানুষ এক একটি আলাদা সত্ত্বা। পরিবার, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের একীভূত মানেই নিজস্ব স্বত্ত্বাকে বিসর্জন দেয়া নয়। দায়িত্ব পালন মানেই আমার আমিকে গলা টিপে হত্যা করা নয়। মানুষই জীবন গড়ে, জীবন মানুষকে নয়……।

নিজের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শিখুন। মানুষ হয়ে বাঁচতে শিখুন। আওয়াজ তুলুন লম্পট, বদমাশ, অপরাধীর বিরুদ্ধে। আপনি নিজে শুধরান…. ।
শুধরে যাবে সমাজ, পরিবার….।

শেয়ার করুন:
  • 759
  •  
  •  
  •  
  •  
    759
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.