সমসাময়িক বাংলাদেশ, মিথিলা এবং আমরা

ইশরাত জাহান শিল্পী:

জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও গায়িকা রাফিয়াত রশিদ মিথিলার কিছু ব্যক্তিগত ছবি সংক্রান্ত বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর মিথিলার নিজের ফেসবুক সট্যাটাসটা অন্য মেয়েদের জন্য দরকার ছিল।
কারণ মিথিলা শুধু তারকা নয়, তার উচ্চতর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আছে! তাই তার এই অসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং যদি ঐ লোকটা বিবাহিত হয়, তাহলে অনৈতিক কার্যক্রম, এবং এই ধরনের ভুলের মাশুল যে কোনো সেলিব্রিটিদেরও দিতে হয় তাও দুর্ভাগ্যবশত জানতে হচ্ছে!

সবার জন্য শিক্ষণীয় এটা যে ভুল যে কারোই হতে পারে! মিথিলা হয়তো ঐ সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল, এবং একটা rebound relationship গড়েছিল! কিনতু ঐ সময়গুলোতেও যে বিবেক বুদ্ধি নিয়ে চলতে হয় তারই বোধ হয় প্রতিফলন এইটা!

কিন্তু যে কারণে আমার এই লেখা!

মিথিলার পোস্টের পর পরই অনেকগুলো সচেতন মানুষের পোস্ট দেখলাম, বিশেষত মেয়েদের! আমি জানি আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে! গর্বে বুক ভরে যায় যখন দেখি মেয়েরা এখন সবক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে! এও জানলাম মেয়েদের মন মানসিকতার উৎকষর্তার অনুপাতে ছেলেদের এখনও তা হয়নি। লেখাগুলোতে মেয়েদের যোগ্যসঙ্গীর স্বল্পতার জন্য customise relation, conditional relation এরকম অনেক term দেখলাম!
দেশ ছেড়েছি দুই দশকেরও আগে! স্বভাবতই এই শব্দগুলো আমার কাছে অপরিচিত!

আমি জানি আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক ছেলেই এইসব term ছাড়াই যথেচ্ছাচার করে যাচ্ছে, কিন্তু নারী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমাদেরও কি ঐ পথে আগাতে হবে? আমরা কি প্রস্তুত পুঁজিবাদ এর এই উম্মুক্ত সমাজ ব্যবস্থাকে গ্রহণ করার জন্য! আর তার প্রয়োজনীয়তা বা কেন?? আমাদের traditional সমাজ কি তাহলে ভেংগে যাচ্ছে!

Sex without wedlock, Freedom of sex আর পরকীয়াকে গুলিয়ে ফেলছি না তো আমরা!! পরকীয়া সব যুগে ছিল, এখনও আছে! কিন্তু আমার মনে হয়না এমন কোন প্রগতিশীল সোসাইটি আছে যেখানে পরকীয়াকে ‘মানবাধিকার বা human rights’ হিসেবে গণ্য করা হয়!

পশ্চিমী দেশে open relation দেখা যায়! যেখানে স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্মতিতে অন্য আর একজনের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে! আর এক গ্রুপ তো দুনিয়াতে বিবাহ প্রথা উঠায়ে দিতে চাচ্ছে, কিন্তু ওরা ছোট একটা গ্রুপ, কারণ এই পরিবতর্নের প্র্য়জোনীয়তা হয়তো এখনো পৃথিবীতে আসে নাই!

মিথিলার ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের সমসাময়িক শহুরে সংস্কৃতির একটা প্রতিফলন দেখতে পেলাম, মেয়েরা এখন স্বাবলম্বী এবং সাহসী! তাই মিথিলা নিজেই এই অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েও শিরদাঁড়া করে প্রতিবাদ করেছে! কিন্তু ছেলেরা তো সেই সাপেক্ষে এগিয়ে আসে নাই! মিথিলাকে লক্ষ্য করে অনেক বাজে পোস্ট দেখে কোনো ছেলেকে তো বলতে দেখি নাই “পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়”!

ধরে নেয়া হয় শিল্প সাহিত্য যারা চলাফেরা তারা প্রগতিমনা হয়, কিন্তু সেই ফাহমী নামক নাট্যকর্মীকে তো দেখলাম না এগিয়ে আসতে! বরংচ আকার ইঙ্গিতে জানা গেছে যে সেই নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ইফতেখার আহমেদ ফাহমিই নাকি ইচ্ছা করে ছবিগুলো ছড়িয়ে দিয়েছে!!!

যাই হোক আমি প্রত্যাশা করি এই heinous cyber crime এর বিচার হয়, যেন অন্য কেউ victimised না হয়!

এর সাথে এও আশা করি মিথিলার আর একটা পোস্ট, যেখানে সে শক্তি সঞ্চয় করে বলতে পারবে যে পরকীয়া করাটা তার জীবনে একটা ভুল ছিল। কারণ সে সাধারণ কেউ নয়, সে তারকা, তাকে অনেক মেয়েই অন্ধের মতো অনুসরণ করতে পারে!

শেয়ার করুন:
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.3K
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.