সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ হোক

শান্তা মারিয়া:

সৌদি আরব একটা চূড়ান্ত বর্বর দেশ। সেখানে এখনও গৃহশ্রমিক মানে যৌনদাসী। সেই যৌনদাসী আবার পিতাপুত্রসহ পরিবারের সকল পুরুষ সদস্যের। এরা গৃহশ্রমিকের উপর বর্বর নির্যাতন চালায়। বাংলাদেশ থেকে যে নারীশ্রমিকরা সৌদি আরবে যায় ভাগ্য ফেরানোর আশায়, তাদের দেশে ফিরতে হয় লাশ হয়ে। সম্প্রতি নাজমা নামে এক প্রবাসী নারী শ্রমিক বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল টেলিফোনে পরিবারের সদস্যদের কাছে। তাতেও লাভ হয়নি। তাকে লাশ হয়েই ফিরতে হয়েছে দেশে। গত তিন বছরে অসংখ্য প্রবাসী নারী শ্রমিকের মৃতদেহ দেশে এসেছে, যাদের বেশিরভাগই এসেছে সৌদি আরব থেকে।

অনেকের মৃতদেহ পরিবার দেশে আনতে চায়নি। ফলে কী কারণে, ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। যারা জীবিত ফিরতে পেরেছেন তারা সকলেই বর্বর নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের নারীদের কেন এই বর্বর রাষ্ট্রটিতে পাঠানো হচ্ছে যেখানে আমাদের নারীরা ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নির্বিচারে? আমরা কি এতোই দরিদ্র হয়ে পড়েছি যে প্রবাসী নারী শ্রমিকদের জীবনের বিনিময়ে রেমিটেন্স দরকার হয়ে পড়েছে? বিশ্বের অনেক দেশই সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করেছে সেখানকার অমানবিক পরিস্থিতির কারণে। গ্রামের সাধারণ মেয়েরা ভাগ্য ফেরানোর আশায় মানব পাচারকারী দালালদের খপ্পরে পড়ে সৌদি আরবে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

যারা কোনক্রমে জীবন নিয়ে ফিরতে পারছে তাদেরও কিন্তু দুর্দশার শেষ হচ্ছে না। কারণ ধর্ষণের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর তার বিদেশে থেকে পাঠানো টাকা যারা অম্লান বদনে গ্রহণ করেছে, সেই পরিবারের অতি আপনজনেরাই নারীটিকে আর মেনে নিচ্ছে না সংসারে। কারণ ধর্ষণের শিকারের টাকা গ্রহণ করা গেলেও ভিকটিমকে গ্রহণ করলে পরিবারের ‘মান ইজ্জত’ সবকিছু মাটিতে মিশে যাবে। এদেশের শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী ভাবছে তা জানতে বড় ইচ্ছ করছে। কীভাবে তারা নারীদের সৌদিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে দিচ্ছে?

সৌদি আরব ছাড়াও অনেক দেশ আছে যেখানে আমাদের নারী শ্রমিকরা যেতে পারেন। আমরা গৃহকর্মী হিসেবে অদক্ষ নারী শ্রমিক না পাঠিয়ে বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নারী শ্রমিক পাঠাতে পারি বিভিন্ন দেশে। এভাবে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজা কি এতোই কঠিন?

নাজমার মতো বিপন্ন, অসহায়, নির্যাতিত নারীর কান্না কি বাংলাদেশ সরকারের কানে যাচ্ছে না? আমাদের দূতাবাসগুলো যেমন অথর্ব, তেমনি অথর্ব প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রতিষ্ঠান বায়রা। সৌদিতে বাংলাদেশের নারীদের পাঠানো বন্ধ করুন অবিলম্বে। এই কথাটি এদেশের সকল সচেতন নাগরিকের দাবি হওয়া উচিত। নাজমাদের আর যেন লাশ হয়ে ফিরতে না হয় স্বজনের কাছে। তাদের যেন আর ধর্ষণের শিকার না হতে হয়।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.