কামিনী রায় – আজও ভারতীয় নারীদের অনুপ্রেরণা

আজ থেকে প্রায় দেড়’শ বছর আগে জন্মানো এক ভারতীয় তথা বাঙালি নারীর পক্ষে কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করাটা মোটেই খুব একটা সহজ ছিল না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই এক অসম বয়সী ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়ে যাওয়াটাই তখন ছিল ভবিতব্য। মেয়ে ছোট থেকে পুতুল খেলে বড় হবে, আর তারপর সংসার। এই গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসে ব্রিটিশ শাসিত ভারতে নারী হিসেবে তিনিই প্রথম স্নাতক হন।

আজ হয়তো বাঙালির আর খুব বেশি মনে নেই তাঁকে কিন্তু সেই কামিনী রায়ের ১৫৫ তম জন্মবর্ষে তাঁকে মনে করিয়ে দিল গুগল। ডুডলে আজ তাঁরই ছবি। বাংলায় তথা ভারতে আজ যে নারীবাদ ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে, সেই নারীবাদের পথ দেখিয়েছিলেন এই কামিনীই।

১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর ব্রিটিশশাসিত ভারতে অবিভক্ত বাংলার বাকেরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন কামিনী রায়। বর্তমানে এই বাকেরগঞ্জ বাংলাদেশের অন্তর্গত।

বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৮৮৬ তে স্নাতক হন সংস্কৃতে। ১৮৮৯-তে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা প্রথম বই ‘আলো ও ছায়া।’ বহু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেইসময় মুখ খোলেন তিনি। ভারতে যে নারীবাদের প্রয়োজন, সেই বার্তা তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন। তাঁর ভাবনা-চিন্তা সময়ের থেকেই অনেকটাই এগিয়ে ছিল।

১৯২১-এ ‘নারী সমাজে’ যোগ দেন তিনি। নারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারের কথা তুলে ধরতে শুরু করেন। পরে তিনি লেবার ইনভেস্টিগেশন কমিটিতে যোগ দেন।

কেন একজন নারী শুধু সংসারে সীমাবদ্ধ থাকবে? সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন কামিনী। সেইসময়ে দাঁড়িয়ে এই ভাবনা ছিল রীতিমতো সাহসিকতার পরিচয়। ৩০ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন, যা তখনকার দিনে ভাবাই যেত না। মূলত কবি ও সমাজকর্মী হিসেবেই তিনি পরিচিত। ‘পুন্ডারিক’, ‘দ্বীপ ই ধুপ’, ‘জীবন পাথেয়’, ‘পৌরানিক’, ‘গুঞ্জন’- ইত্যাদি তাঁর বিখ্যাত বই।

মেয়েরা যাতে পড়াশোনা করতে পারে তার জন্য অনেক লড়াই করেছেন তিনি। সমাজকে বোঝার জন্য একজন নারীর যে শিক্ষাটা প্রয়োজন, সেটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন কামিনী। আজও ভারতীয় নারীদের অনুপ্রেরণা তিনি।

লেখাটি https://www.kolkata24x7.com এর সৌজন্যে প্রাপ্ত।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.