“আমি আবরার বলছি, এই ধ্বজভঙ্গ বাঙলা আমি চিনি না”

“আমি আবরার বলছি, এই ধ্বজভঙ্গ বাঙলা আমি চিনি না”
বীথি রহমান

আমি আবরার বলছি, গতকাল আমার মৃত্যু হয়েছে
ঠিক তা না, আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে
জোর করে
অংকের খাতা থেকে টেনে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় হলের নির্জন স্থানে
তারপর নির্দয়ভাবে পেটানো শুরু করলো
আমি প্রচণ্ড হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম!
কেন মারছো আমাকে?
আমি প্রশ্ন করলাম।

নিরুত্তর ওরা আমাকে আরো মারলো, আরও, তারপর আরও
কিছু বুঝে উঠবার আগেই পেটাতে পেটাতে ওরা আমার শরীর রক্তাক্ত করে ফেললো
আমার মগজে ঢুকিয়ে দিল ক্রিকেট স্ট্যাম্প আমার হৃৎপিণ্ড বরাবর ছুটে এলো এলোপাতাড়ি লাথি, ঘুষি
মার খেতে খেতে পিপাসায় বুক শুকিয়ে গেল আমার
গোঙানি ক্ষীণ হয়ে এলো কণ্ঠনালির
আমার খুব মাকে মনে পড়লো
তারপর, খুব ঘুম এলো আমার, বিষণ্ন ঘুম নেমে এলো আমার আহত চোখে
আধোঘুমে আবছা মনে এলো, এক সন্ধ্যা আগে আমি এই রাষ্ট্রের বোকামি নিয়ে লিখেছিলাম
৪৭’র পর থেকেই সোনার বাঙলাকে চুষে খাচ্ছে মুখোশধারী স্বজন; আমি সেই স্বজনের মুখোশ ধরে টান দিয়েছিলাম।

আমি সত্য বলেছিলাম মৃত্যু তুচ্ছ করে
তাই আমাকে মরে যেতে হচ্ছে
আমি আঙুল ধরেছিলাম তুমুল শক্তিতে
তাই আমাকে মরে যেতে হচ্ছে
আমি ব্যঙ্গ করেছিলাম বিকলাঙ্গদের সাথে
তাই আমাকে মরে যেতে হচ্ছে।

আমি আবরার বলছি, এই ধ্বজভঙ্গ বাঙলা আমি চিনি না
এই দেশে আমি জন্মেছিলাম, এই লজ্জা আমি স্বীকার করি না
আমার একটা লাল-সবুজের পতাকা ছিল, এই অহংকার আমি পুছি না
আমি মৃত আবরার বলছি, যেই রাষ্ট্রে মত প্রকাশ করলে খুন হয়ে যেতে হয়
সেই চুতমারানি রাষ্ট্রে আমি স্রেফ মুতি না!

০৮.১০.১৯

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.