কে বলে শান্তা রান্না জানে না?

শান্তা মারিয়া:

রান্নাটা আমার আর শেখাই হলো না। আমি হলাম বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ কুক। আমার মনে হয়, মাটির নিচে যদি আলু না জন্মাতো আর মাটির উপরে মুরগি ডিম না পাড়তো আর নুডুলস কোম্পানি যদি না থাকতো, তাহলে না খেয়ে মরা ছাড়া গতি ছিল না।

যারা ভালো রাঁধেন আমি তাদের খুব ঈর্ষা করি। কারণ রান্না হলো মহত্তম শিল্প। যদিও এই শিল্প খুব একটা টেকসই নয়। খেলেই হজম। যাহোক সব শিল্প সবার দ্বারা হয় না। আমার দ্বারাও হয়নি।

আমার মা নিজেও রান্নার ব্যাপারে খুব উৎসাহী ছিলেন না। বাপের বাড়িতে তাকে কোনদিন হেঁসেলে ঢুকতে হয়নি। শ্বশুর বাড়িতেও নয়। দুই পরিবারেই রান্নার আলাদা লোক ছিল। তিনি যতদিন চকবাজারের বিশাল যৌথ পরিবারে ছিলেন ততদিন রান্নার বালাই ছিল না।
মায়ের বিয়ের সময় আমার নানী বলেছিলেন, “আমার এই মেয়ে রান্না-বান্না ঘরের কাজকর্ম কিছু জানে না। সে সারাদিন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে।” আমার দাদা উত্তর দিয়েছিলেন, “ঘরের কাজকর্ম করানোর জন্য তো ছেলের বউ নিতে আসিনি। আমরা শিক্ষিত মেয়ে চেয়েছি। মেয়ে লেখাপড়া জানে, স্বভাব চরিত্র ভালো, এটাই আল্লাহর রহমতে যথেষ্ট। এর বেশি কিছুর দরকার নেই।”
আর আমার দাদী মনে করতেন, ‘রান্নাবান্নার জন্য আলাদা লোক আছে। ছেলের বউদের অত কষ্ট করে আগুনের তাপে রান্না করার দরকারটা কী? তারা হলো ঘরের লক্ষ্মী। বাপের বাড়িতে যেমন আদরে ছিল, আমার কাছে যেন তার চেয়েও বেশি আদর পায়।’

মা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী। প্রগতিশীল। ১৯৬০ সালে বিয়ের পর অনেক বছর তিনি যৌথ পরিবারে খুব শান্তিতে ছিলেন। পরে ১৯৬৯ সালে আমার বাবা-মা তাদের সন্তান (আমার একমাত্র ভাই) নিয়ে চলে আসেন আলুবাজারের বাড়িতে। এটি দাদারই কেনা একটি বাড়ি। বাড়িটি তিনি তাঁর কমরেড পুত্রের জন্য বরাদ্দ করেন।
এই বাড়িতে একক সংসার। মা নাকি ভয় পাচ্ছিলেন কীভাবে সংসার সামলাবেন! কিন্তু তার বিচক্ষণ ও স্নেহশীল শাশুড়ি একজন পুরনো গৃহকর্মীকে পাঠিয়ে দেন যেন তার আদরের পুত্রবধূর কোন সমস্যা না হয়। সেসময় গ্যাসের চুলা ছিল না। কেরোসিনের স্টোভে রান্না করতে হতো। মা ধীরে ধীরে রান্না শিখে নিতে থাকেন। তিনি খুব এক্সপার্ট ছিলেন না অবশ্য। পুডিং, কেক, পাউরুটি, জেলি, জ্যাম বানাতে জানতেন। লুচি, পোলাও আর সাধারণ ভাত, ডাল শেখেন। কাবাব বানাতেন খুব ভালো। খাসির মাংস, কলিজা তরকারি ইত্যাদিও ভালো রাঁধতেন। তবে বাবা মোটেই খাদ্যপ্রিয় ছিলেন না। তরকারি ভালো হোক, খারাপ হোক, দিব্যি স্মিতমুখে খেয়ে নিতেন। মা যদি স্পেশাল কিছু রাঁধতেন তাহলে শতমুখে প্রশংসা করতেন বটে তবে আমার মনে হয় সেটা যত না রান্নার গুণে, তার চেয়েও বেশি মাকে খুশি করার জন্য। আমরা সবসময় একসঙ্গে চারজন খেতে বসতাম। খাবার টেবিলে নানা রকম গল্প, হাসি ঠাট্টা হতো।

একদিনের ঘটনা মনে পড়ে। আমরা খেতে বসেছি। কোনো একটি তরকারি বাবার পর মা প্লেটে নিয়েছেন। একটু মুখে দিয়েই মা বলে উঠলেন, ‘সেকি তুমি না এটা এইমাত্র খেলে? এটা তো জঘন্য হয়েছে। মুখে দেওয়া যাচ্ছে না। তুমি বলো নাই কেন?’ বাবা বললেন, ‘কই আমি তো বুঝিনি খারাপ হয়েছে। আর হলোই বা খারাপ সবদিন তো আর এক রকম হবে না।’ মায়ের হাজির জবাব হলো, ‘তুমি দিন দিন গীতার সাধক হয়ে যাচ্ছো মনে হয়, সুখে দুঃখে নিঃস্পৃহ’।

বাসায় যখন কাজের লোক থাকতো না তখন মাকে রান্না করতে হতো। একবার মায়ের জ্বর। কাজের লোকও নেই। সম্ভবত রোববার তাই বাবার অফিস বন্ধ ছিল। (তখনও শুক্রবার ছুটি চালু হয়নি)। বাবা বললেন, ‘আজকে আমি রান্না করবো। আমি ঝুলোঝুলি করাতে আমাকে আ্যাসিসটেন্ট বানাতে রাজি হলেন। সেসময় রোববার দুপুরে টিভিতে ইংরেজি সিনেমা এবং মাসে একদিন বাংলা ছবি দেখানো হতো। বাংলা সিনেমায় বাবার কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু হলিউডের নামকরা ছবি হলে বিশেষ করে এলিজাবেথ টেলর থাকলে তিনি মাঝে মধ্যে সিনেমা দেখতেন। সেদিন টিভিতে দেখানো হচ্ছিল বিখ্যাত ছবি ক্লিওপেট্রা। চুলায় ডাল চড়িয়ে দিয়ে আমরা নিবিষ্ট মনে ছবি দেখছি। এমন সময় পাশের বাড়ি থেকে লোকজন চেঁচামেচি করে বলতে লাগলো, ‘আপনাদের বাড়িতে আগুন লাগছে মনে হয়।’ আমরা দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি হাড়ি পুড়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বাবা বেগতিক দেখে দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে বিরিয়ানি কিনে আনলেন। মা এ নিয়ে পরে প্রচুর ঠা্ট্টা করেছিলেন। ক্লিওপেট্রাকে দেখতে গিয়েই নাকি ডাল পুড়লো।

তিন-চার বছর বয়সে আমি হাঁড়ি পাতিল দিয়ে বেশ খেলতাম। তখন মাটির হাঁড়ি পাতিলের যুগ। বেশ কয়েকটি মাটির হাঁড়ি, কড়াই ছিল আমার। সঙ্গে মাটির চুলা। অ্যালুমিনিয়ামের এক সেট হাঁড়ি পাতিলও ছিল। চকবাজারের ঈদের মেলা থেকে কেনা। সেসব দিয়ে আমাদের আলুবাজারের বাড়ির বারান্দায় বসে সারাদিন রান্নাবাড়ি খেলতাম। আমার অতি সাবধানী মা কখনও আমাকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিতেন না। রান্না ঘরে ঘটেছে এমন অনেক দুর্ঘটনার খবর রাখতেন তিনি। শিশুকে নাকি রান্না ঘরে একদম ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। এজন্য বারান্দাই ছিল আমার রান্নাঘর। একটু বড় হওয়ার পরও আমাকে রান্না শেখানোর কোন উদ্যোগই তিনি নেননি। যখন তের- চৌদ্দ বছর বয়স তখন এক দুদিন আমি শখের কোন রান্না করতে গেলেও মা নিষেধ করেছেন।
বলতেন, যে সময় নিয়ে রান্না শিখবি, সেই সময়ের মধ্যে একটা বই পড়লে বেশি কাজ দেবে। বাবা আরেক কাঠি সরেস। বলতেন, ‘রান্না তো একরকম হলেই হয়। অত খাবারের ঘটার দরকারটা কী? আমরা কি খাবার জন্য বাঁচি, না বাঁচার জন্য খাই? আলুসেদ্ধ, ডিমসেদ্ধ হলেই একরকম খাওয়া হয়ে যায়’।

বাবা বলতেন ‘ফ্রি ফ্রম কিচেন’। তিনি বলতেন, সমাজতন্ত্র বলে, নারীকে রান্নাঘর থেকে মুক্ত হতে হবে। রান্না নিয়ে পড়ে থাকলে অন্য কাজ হবে না। নারীর শ্রমশক্তির অপচয় হয় রান্নাঘরে। আরও বলতেন, ফ্যাসিবাদ নারীকে বলে ‘ব্যাক টু দ্য কিচেন’। তিনি কমিউন এবং ক্যান্টিন প্রথা পছন্দ করতেন। বলতেন, সব অফিসে, স্কুলে, কর্মক্ষেত্রে, পাড়ায়, মহল্লায় ক্যান্টিন থাকা দরকার। সেখানে সবাই স্বল্পমূল্যে ভালো খাবার পাবে।

আমাদের বাড়িতে তাই রান্নার খুব বেশি ঘনঘটা কখনও ছিল না। এরপর পড়লাম বেগম রোকেয়ার ‘রসনা বিলাস’। তিনশ রকমের চাটনি আর চারশো রকমের আচার বানানোর ইচ্ছা যেটুকু ছিল তাও দূর হলো। মা বাবা দুজনেই সরাসরি বলতেন, ‘তুমি যদি নামকরা শেফ হতে চাও, কিংবা ফুড ম্যানেজমেন্ট পড়তে চাও তাহলে রান্না শিখতে পারো, আপত্তি নেই। আর ঘরের কাজ চালানোর মতো বা নিজের খাবার মতো রান্না যেকোনো সময়ই শিখতে পারবে। ওটা বই দেখেই শেখা যায়। এজন্য এখন সময় নষ্ট না করে লেখাপড়া কর, কবিতা লেখো, ছবি আঁকো, আবৃত্তি করো।’

যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখনও রান্না শেখা হয়নি। যতটুকু বাড়তি সময় পেতাম বই পড়েই কাটতো। মা-বাবা দুজনেরই মত ছিল যে রান্নার পিছনে বেশি সময় ব্যয় মানে অযথা সময় নষ্ট। ততোদিনে আমারও সেই একই মত দাঁড়িয়ে গেছে। নানা রকম খাবার খাওয়ার প্রতিও আমার খুব একটা আকর্ষণ ছিল না কোনদিনই। খাবার রান্না, ফুড ডেকোরেশন এগুলো যে পশ লাইফ স্টাইল, মোটামুটি ভালো রকমের শিল্প, সে সম্পর্কে আমার তখন তেমন কোন ধারণা ছিল না।

বিয়ের পর অনেক মেয়েই রান্না শেখে। কিন্তু আমার তখনও রান্নাঘরে ঢুকতে হয়নি। শাহিন রিজভি অতি উত্সাহী শেফ। পোলাও মাংস থেকে শুরু করে হেন খাবার নেই যা তিনি রাঁধতে জানেন না। আর তার রান্নার হাতও অতি সরেস। বাড়িতে অতিথি এলে বা উত্সবে অনুষ্ঠানে যাবতীয় রান্না তিনিই করেন। বিয়ের বাইশ বছরেও তাই আমার রাঁধুনী হওয়া হয়নি। মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ পথ হচ্ছে নাকি পাকস্থলীর ভিতর দিয়ে। শাহিন রিজভি তার রান্নার গুণে আজও হৃদয়ে একচ্ছত্রভাবে আসীন আছেন।

বিয়ের পর পর শাশুড়ি একবার আমার মাকে মৃদুকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আপনি তো শান্তাকে রান্না শেখাননি, ঘরের অন্য কাজকর্মও ও তেমন কিছুই জানে না। কীভাবে সংসার করবে কে জানে।’ মা সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিয়েছিলেন, ‘শান্তা ঘরের কাজকর্ম জানে না বটে, তবে অফিসের কাজকর্ম জানে। চাকরি করে খেতে পারবে। ওকে রান্না শেখাইনি কিন্তু লিখতে শিখিয়েছি। নিজের খাওয়া নিজে জোগাড় করে নিতে পারবে’। আমার শাশুড়ি অতি ভদ্র মানুষ। এরপর আর আমার রান্না না জানা নিয়ে কোন কথা বলেননি।

এই প্রসঙ্গে আমার বান্ধবীর কথা বলি। তিনি উচ্চশিক্ষিতা। মেধাবী। অশেষ গুণের অধিকারী। পেশাগত জীবনে অত্যন্ত সফল। তিনি বিখ্যাত নারী। নাম বললে সকলে চিনবে বলে নামটা উল্লেখ করছি না। তার সাবেক শাশুড়িও শিক্ষিত ছিলেন। অথচ সেই তথাকথিত শিক্ষিত শাশড়ির মুখে তাকে রান্না না জানার জন্য খোঁটা সহ্য করতে হতো প্রতিনিয়ত। পুরুষতন্ত্র আমাদের মগজে এমনি জেঁকে বসে থাকে যে, আমরা ধরে নেই রান্নাটা নারীর কাজ। অনেক নারীকেই রান্না না জানার জন্য শ্বশুরবাড়িতে কথা শুনতে হয়। একটি ছেলে যদি রান্না না জানে তাহলে সেটা নিয়ে কোন নিন্দা হয় না। কিন্তু বিবাহিত নারী, সন্তানের মা যদি রান্না না জানে তাহলে সেটা তার চরম অযোগ্যতা।

আমার একজন পরিচিত বড়ভাই আছেন। ইনি প্রগতিশীল এবং সকল মানুষের মানবাধিকারে একান্তভাবে বিশ্বাসী একজন প্রকৃত ভালো মানুষ। তিনি কোন একটি একান্ত ব্যক্তিগত কারণে বিয়ে করেননি। তার এক পরিচিত তাকে বলে ‘হায় হায় আপনি বিয়ে করেননি স্যার, তাহলে রান্না করে কে?’ সেই বড়ভাই বলে ‘রান্না করা বা না করার সাথে বিয়ের কী সম্পর্ক? আমার স্ত্রী যদি কেউ থাকতেনও তাহলে তাকে রান্না জানতেই হতো এমন তো নয়।’

মিথোলজিতে কয়েকজন পুরুষের রান্নার বেশ সুখ্যাতি পাওয়া যায়। মহাভারতের দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীমসেন ভালো রান্না জানতেন। অজ্ঞাতবাসের সময় তিনি বিরাট রাজার অধীনে চাকরি নিয়েছিলেন পাচক হিসেবে। ভীমসেন ওরফে পাচক বল্লভের রান্না খেয়ে রাজা খুশি হয়েছিলেন। নিষদের রাজা নল ভালো রান্না জানতেন। তার স্ত্রী দময়ন্তী যখন নলের বিরহে কাতর ছিলেন, তখন ছদ্মবেশী নলের রান্না ব্যঞ্জন খেয়ে তাকে চিনতে পারেন। কারণ নল ছাড়া অমন রান্না আর কেউ রাঁধতে জানতেন না।

বিশ্বের বিখ্যাত সব শেফের অধিকাংশই পুরুষ। তাই রান্নাটা নারীর কাজ নয় মোটেই। এটা সকলেরই কাজ। ভালো রান্না একটা শিল্প। আর শিল্প সকলের দ্বারা হতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? অনেকে যেমন গান গাইতে বা কবিতা লিখতে পারে না, আমিও তেমনি রান্না করতে পারি না।

বেইজিংয়ে যখন চীন বেতারে চাকরি করতাম তখন অফিস ক্যান্টিন ছিল আমার খাদ্যের অবলম্বন। এখন কুনমিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে খাই।এখানে ক্যান্টিনে খুব স্বল্পমূল্যে দারুণ ভালো স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া যায়। যখন বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকে, তখন নিজে রান্না করেই খেতে হয়। স্যান্ডুইচ, নুডুলস, স্যুপ, ডিমভাজা, আলুভর্তা আমার ভরসা। বেশ অনেকটা দূরে গিয়ে রেস্টুরেন্ট। সেখানে মাঝে মধ্যে খাই। কিন্তু যখন বাংলাদেশের খাবার খেতে ইচ্ছা করে তখন ইন্টারনেট থেকে রেসিপি নামানো ছাড়া উপায় থাকে না। পোলাও মাংস আর কয়েকটা ডিশ রাঁধতে শিখেছি কয়েক মাস হলো। ছেলে সার্টিফিকেট দিয়েছে, খুব নাকি ভালো হয়েছে। তার পাপার মতো না হলেও কাছাকাছি নাকি যেতে পেরেছি। কে বলে শান্তা রাঁধতে জানে না?

তবে সত্যি কথাটা হলো, এখনও আমার রান্নায় একটু বেশি সময় দিতে গেলেই মনে হয়, ধুর সময় নষ্ট হচ্ছে। ওই সময়ে একটা কিছু পড়ে ফেলা যেত। কিছু লিখতে পারতাম। তাই দায়সারাভাবে একটা কিছু আয়োজন করেই লেখাপড়ায় মন দেই। অনেক পরিবারেই নারীর উপর বেশ চাপ পড়ে তিনবেলা রান্নার আয়োজন করতে গিয়ে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীদের।

অবশ্য আজকাল একটু একটু করে এটা বদলাচ্ছে। কিছু কিছু সহৃদয় পুরুষ রান্নায় অংশ নিচ্ছেন। ঘরের অন্য কাজকর্মও করছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই। আর নারীদের বলি, প্রতিদিন এ চাপটা না নিলেই কি নয়? একেকদিন পরিবারের একেক সদস্য রাঁধলেই তো হয়। আর পাউরুটি, ডিমভাজা দিয়েও ডিনার সেরে ফেলা সম্ভব।
প্রতিটি অফিসে ক্যান্টিন পদ্ধতি থাকা দরকার। যেখানে কম দামে স্বাস্থ্যসম্মত ভালো খাবার পাওয়া যাবে। আমরা বাঙালিরা রান্নার আয়োজনে অনেক ঝামেলা করি। অনেক রকম তরকারি খাই। অথচ একটা বা দুটি ডিশ বানালে সময়টা কম লাগে। আমাদের ফুড হ্যাবিটটাও বোধহয় বদলানো দরকার।
আহার নিদ্রা ভয়, যত করে তত হয়। অত রসনা বিলাসের দরকারটাই বা কী?

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.