আমাজনের আওয়া সমাজ

বিকাশ ভৌমিক:

আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকা “আওয়া গুয়াযা” আদিবাসিরা এমন এক গোষ্ঠী যাদের মূলমন্ত্রই হলো
“Living in complete harmony with nature.”

প্রায় ৫০০ বছর আগে যখন ইউরোপীয় কলোনিস্টরা প্রথম আগ্রাসন চালায় তখন তাদের সংখ্যা ছিলো প্রায় ১০ হাজার, সেখানে এখন তারা মাত্র ৪০০ জনের মতো অবশিষ্ট আছে।

সভ্য জগতের খুব কম মানুষই তাদের দেখা পেয়েছে, তেমনই একজন হলেন ফটোগ্রাফার ডমিনিকো। ২০০৯ সালে তিনি যখন স্পিডবোট যোগে সেখানে পৌঁছান, তখন আওয়া লোকজন স্পিডবোটের শব্দে খুব অবাক হয়েছিল। কারণ বাইরের পৃথিবী সম্বন্ধে তাদের খুব একটা ধারণা নেই এবং তারা মনে করে তার প্রয়োজনও নেই।

এই মানুষগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে তারা যতদিন আধুনিক বিশ্ব থেকে দূরে থাকবে, ততদিন তারা নিরাপদ থাকবে।

অন্যসব আদিবাসী থেকে আওয়াদের কিছু বিশেষত্ব আছে। যেমন তারা জংগলকে মানে তাদের ঘর, আর সেই জংগলের সমস্ত প্রাণী তাদের পরিবারের অংশ। প্রত্যেকটি আওয়া পরিবারের সাথেই বেশ কয়েক ধরনের প্রাণী বসবাস করে।

আওয়া নারীরা জংগলের মুমূর্ষুপ্রায় শিশু প্রাণীদের খুঁজে খুঁজে নিয়ে এসে নিজের সন্তানের মতোই বড়ো করে তোলে। এমনকি তারা সাবলীলভাবে পশুপাখিকে নিজের স্তন্য পান করিয়ে থাকে, আওয়া শিশুরা সেসব প্রাণীদের সহোদর জ্ঞান করে বড়ো হয়। তারপর একসময় যখন সেই প্রাণীগুলো সুস্থ সবল হয়ে ওঠে তখন তাদেরকে আবার বনে ছেড়ে দিয়ে আসে, এদের নাম ‘হ্যানিমা’। এই হ্যানিমারা যেহেতু তাদের সহোদর, কাজেই তাদের ভক্ষণ করাও অসম্ভব।

আওয়ারা পোশাক আশাক খুব একটা ব্যবহার করে না। কারণ তাদের ধারণা এই পোশাক তৈরি করতে গেলে গাছ কাটতে হবে বা কোনো না কোনো প্রাণীদেহ দিয়েই এই পোশাক তৈরি, কাজেই এসব ব্যবহার করা তাদের কাছে নিজের পরিবার ধ্বংসের সামিল।

আওয়াদের বিশ্বাস খুব অমূলক কি?


সূত্রঃ dailymail.co.uk

শেয়ার করুন:
  • 82
  •  
  •  
  •  
  •  
    82
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.