মেয়েটি তার গন্তব্য জানে

0

মেয়েটি তার গন্তব্য জানে

মাসুদা ভাট্টি

বাসটা দাঁড়ালো না মেয়েটির জন্য, মেয়েটি বসেছিল স্টপেজে,
বাসটি নিউ ইয়র্ক যাচ্ছিল
বাসটি দাঁড়ায়নি, তবু একদিন
মেয়েটি গেছে জাতিসংঘে কথা বলতে।

বাসটি তখনও দাঁড়ালো না, যখন যাচ্ছিল তীর্থযাত্রায়
কোনো মেয়েকে নাকি একা নেয়া যায় না।
বাসটি চলে যাওয়ার বহুদিন পরে
মেয়েটি বহুতর ভাবনা শেষে
ওপথ আর মাড়ালো না।

বাসটি যাচ্ছিল পশ্চিমের দিকে গণতন্ত্রের দিকে মুখ করে
মেয়েটি হাত দ্যাখালো,
মেয়েটিকে আশ্চর্য করে বাসটি থামলো,
কিন্তু মেয়েটিকে বাদ দিয়ে
বাকি সকলকে ওঠালো বাসটি,
তাদের সকলেই মেয়েটির
বিপরীত, দাঁড়ানো মেয়েটিকে উন্মুখ রেখে
গণতন্ত্রমুখী হলো বাসটি।
মেয়েটি গণতন্ত্র
না বুঝেই সন্তান লালনে
গণতন্ত্রের প্রমাণ দিল আমরণ।

বাসভর্তি উদ্দাম আনন্দ —
একদল পুরুষ যাত্রী যাচ্ছে ক্রিকেটফুটবলরাগবি দেখতে;
মেয়েটিকে তারা তুললো না,
বললো জায়গা নেই।
মেয়েটি কিন্তু বাস স্টপেজে
পড়ে রইলো না,
সেও লাখো দর্শকের
সামনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে
ফিরে এলো একদিন।

মেয়েটি এখনও বাসের
অপেক্ষা করে, বাস থামে,
কখনও তোলে কখনও তোলে না – কী আসে
যায়? মেয়েটিকে
যেতেই হবে গন্তব্যে।
কখনও জোর করে ওঠে মেয়েটি,
জোর করে নামে।
যেদিন পারে না সেদিন দরকার হলে
ধর্ষণ শেষে লাশ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে
নেত্রকোনার কোনো হাওড়ে।

তাতে কী? মেয়েটি আবারও গিয়ে
বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ায়,
হাত তোলে, কখনও বাস দাঁড়ায়
কখনও দাঁড়ায় না।
কখনও তোলে কখনও চলে যায়।
তবু লাশ থেকে প্রেতাত্মা হয়েও
মেয়েটি বাস থামানোর চেষ্টা করে যায়।
মেয়েটি জানে
একদিন বাসটিকে থামতেই হবে,
তাকে তুলতেই হবে,
নিরাপদে পৌঁছে দিতে হবে
গন্তব্যে ঠিকই।

শেয়ার করুন:
  • 121
  •  
  •  
  •  
  •  
    121
    Shares

লেখাটি ৫১০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.