আর কতগুলো মৃত্যুর বিরুদ্ধে বলবো?

0

শবনম সায়েমা:

আর কতগুলো মৃত্যুর বিরুদ্ধে বলবো?
আর কতগুলো জীবনের পক্ষে বলবো? সায়মা, তনু, বর্ণালী, তৃষা আরো কত শত নাম
কত শত নাম হারিয়ে যায় প্রতিদিন
কত শত নাম লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের পাতায়
আমরা কথা বলবো, চিৎকার করবো
চিৎকার করে বলবো বিচার চাই, অপরাধীকে সাজা দাও
আর এর ফাঁকে সূর্যের আলোতে ফুটে ওঠা ফুলের মতো
প্রতিদিন ইতিহাসের পাতায় ফুটে উঠবে নতুন নতুন নাম
আমাদের ক্লেদাক্ত দেহের রক্তের
লোভ আর আর লালসার শিকার হতে হতে।

আমি আর কোনো নাম দেখি না, আমি আর কোনো চেহারা দেখি না
সব নাম, সব চেহারা ফুলের মতো সব মুখগুলো
এক হয়ে গেছে।
আমি পুরুষ না পুরুষতন্ত্র দেখি
আমি, তোমার নিজেকে মহান ভাবার সাহস দেখি
আমি তোমার নিজেকে মহান ভাবার সাহস দেখি
আমি দেখি তুমি দায়িত্ব নিয়েছো নারীকে উচিত অনুচিত শেখানোর,
তোমাকে সংযত রাখার উপযোগী পোশাক শেখানোর
কারণ আদতে তুমি একজন নিয়ন্ত্রণহীন পশু।
(যদিও কখনো কখনো শিশু আর বৃদ্ধও রেহাই পায় না তোমার লালসা থেকে)

আমি দেখি মহান তোমার অহংকার
ইচ্ছা করলেই তুমি গুড়িয়ে দিতে পারো নারীর শরীর, তার অহংকার।
আমি দেখি তোমার সাহস নারীর শরীরের ম্যাপ মাপার স্পর্ধা
নারীকে সুন্দর বলে তাকে উদ্ধার করে দেবার মহত্ব
তোমার সিদ্ধান্তে, চোখে, তোমার দেহে, তোমার চাওয়াতে নারীর মূল্য নির্ধারণ।

হায় নারী! পুরুষ বিনে তুমি কিছু না, কোথাও না,
মূল্যহীন, অসহায়, অবলা, ছায়া, কায়াহীন অসহ্য !

পুরুষ তোমাকে প্রতিদিন সৃষ্টি করে
তোমাকে ভাঙে গড়ে নিজের প্রয়োজন মতো
তোমাকে ছুড়ে ফেলে, তোমাকে বুকে টেনে নেয়
তোমাকে পায়ের নিচে ফেলে
তারপর লাথ্থি মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়।
তুমি তার কল্পনার সৃষ্টি থেকে বের হয়ে মানুষ হতে চাইলে তুমি হয়ে যাও অধরা
তোমার মন তখন স্রষ্টার কাছেও দুর্বোধ্য।

তোমার চাওয়া -পাওয়া লিপিবদ্ধ, তোমার কর্মপ্রণালী বিধিবদ্ধ
এর বাইরে গেলেই সমাজ তোমাকে ডাইনি বানায়
দেবী বানায়, বেশ্যা বানায়, বানায় দেব মন্দিরের নর্তকী
কিন্তু মানুষ বানাতে পারে না।
তুমি মানুষ হতে পারো না
তুমি মা, তুমি মেয়ে, তুমি স্ত্রী, তুমি বোন
কিন্তু মানুষ, সে তো কেবল পুরুষের দপ্তর।

তুমি মা হয়ে ত্যাগী হবে
তুমি মেয়ে হয়ে রাজকন্যা হবে
তুমি বোন হয়ে হবে মমতার আঁধার
স্ত্রী রূপে কখনো তুমি রাজরানী
আর কি চাস মুখপুড়ি?

মানুষ হতে গেলে পুরুষ হতে হয়,
তুই তো সৃষ্টি
কোন সাহসে তুই স্রষ্টা হতে চাস?
তুই মানুষ হলে লাস্যময়ী হবে কে?
কে হবে ভোগের সামগ্রী, স্বপ্নের কামনা, পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু?

ব্যাটা ব্যাটা ভাব ধরে নারীজাতি উচ্ছন্নে গেলো
দুই টাকা কামাই করে নিজেকে পুরুষের সমান ভাবে
অরে ঘরের বাইরে যতই ভাব ধরো
স্বামীকে উঠতে বসতে কথা শোনাও
ক্ষমতা আছে সংসারের দায়িত্ব নেয়ার?
ক্ষমতা আছে নিজের বাবা-মার দায়িত্ব নেয়ার? কাছে এনে রাখার?
ঈদে -পূজা -পার্বনে শ্বশুর বাড়ি রেখে বাপের বাড়ি যাওয়ার নিয়ম বানানোর?
ক্ষমতা আছে প্রতিবেশীর মুখে ছাই দিয়ে
মাঝরাতে বাড়ি ফেরার?
সোনার আংটি হয়ে বাঁকা হওয়ার স্পর্ধা দেখানোর?
দুশ্চরিত্র স্বামীর মুখে থুথু দিয়ে পারবে কেও পরপুরুষ নিয়ে ঘরে ঢুকতে?
পুরুষের চরিত্র এক টুকরো কাপড়েই ঢাকা যায়
আর নারী চরিত্র দশ হাত কাপড়েও ঢাকে না।
হা হা হা
স্রষ্টা তোমায় মেরে রেখেছে মেয়ে
তুমি কোথায় যাবে?

শবনম সায়েমা

কোথায় যাবো?
কোথাও যাবো না।
আমি এখানেই থাকবো, এই ধরণীতে
যেখানে আমি জন্ম দিয়েছি পরম্পরা
কুমারীত্ব গেলেও আমি মানুষই থাকি,
তোমার অসতীত্বে আমি সতীত্ব হারাইনি কোনোদিন
তোমার সতীত্বের ধারণা নিয়ে তুমি থাকো কফিনে অথবা মিছিলের সাথে
কিছু যায় আসে না।

আমার জমিনে আমি আছি আমার খুঁটির জোড়ে।
তুমি পিতা হয়ে থাকো, প্রেমিক হয়ে থাকো, ভাই সন্তান হয়ে থাকো
ভালোবাসায় আমার সাথে গড়ে তোলো সংসার
আদরে, ভালোবাসায়, স্নেহে, প্রেমে থাকো।

তুমি মানুষ হয়ে থাকো আমি মানুষ হয়ে থাকি।
যার যার জগৎ গড়ে উঠুক নিজের চাওয়ায়
তুমি ধর্ষণ করলে আমি ধর্ষিত হতে পারি, অসতী হবো না।
তুমি অন্যায় করে সাজা পাও, তোমার অন্যায়ের ভার আমি আর নেবো না।
আমি পাহাড়ের মতো বিশাল হবো,

নারী-নারী-নারী
তনু, তৃষা, নুসরাত, বর্ণালী, সায়মা আরো কত শত শত
আমরা ফিরে আসবো হাতে হাত মিলিয়ে, আমরা পাহাড় হয়ে উঠবো

ফাগুন দরকার নেই, প্রতিদিন আমরা দ্বিগুণ হয়েছি,
আমরা এবার এক হবো, কঠিন হবো।
কোন তন্ত্রে, কোন দণ্ডে তুমি আমাকে অস্বীকার করবে?

শেয়ার করুন:
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares

লেখাটি ৭৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.