নিপীড়ক ও নিপীড়িতের পার্থক্য জানতে হবে নারীবাদীকে

0

দিলশানা পারুল:

আপনার নারীবাদ যদি শোষিতের কথা বলতে না পারে, তাইলে বুঝতে হবে আপনার নারীবাদ বুঝে সমস্যা আছে। আপনার নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি যদি শোষককে কাউন্টার দিতে না পারে, তাইলে বুঝতে হবে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যা আছে।

আপনি নারীবাদী, অথচ আপনি নিপীড়ক এবং নিপীড়িতের পার্থক্য করতে পারেন না, তাইলে আপনি নারীবাদ বুঝেন নাই। নিজের মতো নারীবাদ বুঝি, সুবিধামতো নারীবাদ করি, আর শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থেই নারীবাদ ফলাই, তাইলে হবে নাতো সিস্টার এবং দিদি!

নিজেকে নারীবাদী দাবি করতে চাইলে অতিত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত তিন সময়ের রাজনীতিটাই বুঝতে হবে, ধরতে হবে এবং কাউন্টার দিতে হবে। আমি রাজনীতি হেইট করি বলবেন, আবার একই সাথে নিজেকে নারীবাদী দাবিও করবেন, তাইলে কেমনে হবে?

এই শতকের সবচেয়ে প্রগ্রেসিভ রাজনীতির নাম নারীবাদ। নিজেকে নারীবাদি দাবি করবেন, আবার রাষ্ট্র বোঝার প্রশ্নে উল্টা দিকে হাঁটা ধরবেন, তাইলে হবে নাতো। নারীবাদ শুধু বিকিনি পরার কিংবা বোরখা খোলার অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না। নারীবাদ শুধু নগ্ন দেহে নারী শরীরের সৌন্দর্য প্রদর্শনের অধিকার না।

আপনি কাশ্মীরের নির্যাতিতা নারীর পক্ষে দাঁড়াতে পারেন নাই মানে আপনি নারীবাদ বুঝেন নাই। আপনি কাশ্মির কিংবা প্যালেস্টাইনের সব হারা শিশুটির প্রতি কোন মাতৃত্ববোধ করেন না মানে আপনি নারীবাদী চেতনা ধারণ করতে পারেন নাই। কাশ্মির কিংবা বেলুচিস্তান কিংবা প্যালেস্টাইন কোনটার প্রশ্নই ইসলাম না হিন্দু, এইটা না। প্রধান প্রশ্ন, এইখানে নারী এবং শিশু নিপীড়নের শিকার হচ্ছে কিনা? রাষ্ট্রের দ্বারা সাধারণ মানুষ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে কিনা?

উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে নারীবাদী হিসেবে আপনার উপর দায় বর্তায় এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার। নিপীড়কের দিকে আঙুল তোলার।

আপা এবং দিদি আপনাদের লিখায় কাশ্মির পণ্ডিতদের দুঃখগাঁথা কী সাংঘাতিক আবেগ দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। দিদির লেখা বোধহয় শ’পাঁচেক শেয়ারও হয়ে গেছে। অথচ প্রত্যেকটা দুঃখগাঁথা গল্প আকারে লিখা। দিন তারিখ সঠিক নাম দিয়ে কোন সঠিক তথ্য আকারে লিখা হয় নাই। এই ধরনের উপস্থাপনকে মন গড়া উপস্থাপন বলে। অথচ গুগল সার্চ দিলে শয়ে শয়ে কাশ্মিরে নির্যাতিতার ছবি দিয়ে ভরে উঠে। সেই বিষয়ে একটা শব্দ আমাদের আপা অথবা ওপারের দিদি লিখলেন না। এইগুলাকে বলে তথ্যের বিকৃতি, জেনে বুঝে করলে অসততা।

আর আপানার তথ্যের বিকৃতি যখন দিনের শেষে নিপীড়কের হাতকে শক্তিশালী করে, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের পক্ষে যায়, তখন আপনি আর যাই হোন নারীবাদী না।

শেয়ার করুন:
  • 173
  •  
  •  
  •  
  •  
    173
    Shares

লেখাটি ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.