অন্যের সমালোচনার আগে নিজেকে দেখুন

0

ফাহমিদা নীলা:

এই যে পত্রিকায় মাঝে মাঝেই দেখি, রাতবিরাতে কুকুর ধরে জবাই করে সেই মাংস হোটেলে বিক্রি হয় খাসির মাংস হিসেবে, কাদের জন্য সেই মাংস রান্না হয়? কারা না জেনেই খান এই হারাম জিনিস?

এই যে পত্রিকায় দেখলাম, শূকরের চর্বি দিয়ে ভোজ্য তেল তৈরি করা হচ্ছে। যে সে তেল না কিন্তু। রাইস ব্রান ওয়েল। যে তেল স্বাস্হ্য উপযোগী বলে মানুষ সয়াবিনের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে কেনে। সত্যি বলতে কী, আমি নিজেই বেশিরভাগ সময় এই তেল কিনি। গৃহকর্মিদের হাতে সূর্যমুখি তেল দিয়ে আমার পোষায় না।

ফাহমিদা নীলা

আমি বা আমার মতো যারা এতদিন ধরে এই তেল খাচ্ছি, তারা যে না জেনে ওই শূকরের চর্বির তেল খাইনি, তার কোনো গ্যারান্টি নাই।
প্রশ্ন হলো, আমরা কী? মুসলমানই তো। তাই না?

একবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখ স্টেশনে ক্ষুধার্ত হয়ে খাবারের খোঁজ করতে গেলে ওখানে ফাস্টফুডের দোকান করা এক বাংলাদেশী ভাই নিষেধ করেছিলেন, আমরা যেন ভাজা-পোড়া বা আপাত: দৃষ্টিতে হালাল ফাস্টফুডও না খাই। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, ওগুলোর প্রায় সবই শূকরের চর্বি দিয়ে ভাজা। আশ্চর্য, নিজের দেশে ঘরে বসে সেই হারাম জিনিসই হালাল মানুষদের কাছে থেকে কিনে খাচ্ছি। কেউ সাবধান করেনি। আমরা মুসলমানই তো!

এই যে রোজ পত্রিকায় আসছে নারী নিগ্রহের খবর, ধর্ষণের খবর, মেয়েগুলো কোন ঘরের সন্তান? মুসলমানের ঘরেরই তো বেশিরভাগ, তাই না?

ঘরে-বাইরে পদে পদে এই যে মানুষ ঠকানো, নির্যাতন, দুর্নীতি, কাদের সাথে হচ্ছে?
যে দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০% মুসলমান, সে দেশে কাদের ঠকানোর জন্য কুকুর-শূকর মারা হচ্ছে তা বোঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নাই। কোন ধর্মের মেয়েরা বেশি নিগৃহীত হচ্ছে তা বোঝার জন্য রোজকার পত্রিকায় দেখা নামগুলোই যথেষ্ট।

আর কারা করছে, সে প্রশ্নে আর নাই বা গেলাম। রমজান মাসে যখন সব মুসলিম দেশে পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়া হয়, এই দেশে দাম বাড়ে। এই দেশের খাঁটি মুসলমানেরা সারা বছর মানুষ ঠকিয়ে বছরান্তে হজ কিংবা ওমরাহ্ পালন করতে যান, শুদ্ধ হয়ে এসে নতুন করে রক্তচোষার কাজ শুরু করবেন বলে। এদেশের মাদ্রাসাগুলোতে অনাচার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কারা ভিকটিম? মুসলমানের বাচ্চারাই তো!

কই, এদেশের মুসলমানদের উপর প্রতিনিয়ত করা অত্যাচার-অনাচারের বিরুদ্ধে এদেশের সাচ্চা মুসলমানদের জিহাদে নামতে দেখলাম না তো!

কথায় বলে, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না। নিজের ঘরের প্রদীপ নিভু নিভু দেখেও মশাল হাতে অন্যের ঘর পানে দৌড় দেয়ার কথা ইসলাম ধর্মের কোথাও লেখা আছে বলে আমার জানা নেই। দেশপ্রেমের কথাও তো কুরআনে লেখা আছে। সে কথা জানি না কি আমরা? ক’জন মানি? দেশ আজ পাপের ভারে নুয়ে পড়ছে সেদিকে কোন ঈমানীর চোখ পড়ে না? ইসলামী চেতনা জাগ্রত হয়ে উঠে না?

দেশে যখন ডেঙ্গু নামক গজব পড়ছে, তখনও একদল মানুষ নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তখনও কিছু কুলাঙ্গারের কাছে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না কোন না কোন নারী। মুসলমান ঘরের নারী। আপনাদের মুসলিম বিবেকটা তখন কোন খাঁচায় বন্দী করে রাখেন ভাই-বোনেরা?

যেদিন নিজেদের আব্রু রক্ষার জন্য কণ্ঠ তুলবেন, যেদিন নিজেদের আশেপাশের মুসলমানদের নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সেদিন ‘মুসলমান’ ‘জিহাদ’ ‘ঈমান’ এইসব শব্দগুলো ফলাও করে টাইমলাইনে ছাপাবেন।

বুঝবো, আমরা সাচ্চা মুসলমানদের সাথেই আছি। অযথা উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দিয়ে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করবেন না। এমনিই গজবের মধ্যে আছি। পারলে সকলে মিলে তওবা করে আল্লাহর কাছে পানাহ্ চান।

আল্লাহ্ এই দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমিন।

শেয়ার করুন:
  • 417
  •  
  •  
  •  
  •  
    417
    Shares

লেখাটি ১,০৪৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.