আদুরে কন্যাগুলোর ভয়ানক পরিণতি

0

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি:

প্রতিটি মেয়েকে জন্ম থেকে শুরু করে বাবা-মায়েরা কত কষ্ট করে কত আদর-যত্নে বড় করে। মেয়েকে সবচেয়ে সুন্দর জামাটি এনে দিতে, পছন্দের পুতুলটি এনে দিতে, লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বই-খাতা-স্কুল ইউনিফর্ম এনে দিতে, শহরের সেরা স্কুল-কলেজে মেয়েকে ভর্তি করাতে প্রয়োজনের বাইরেও বাবা-মায়েরা কত পরিশ্রম করেন।

দিনশেষে বাড়ি ফিরে ঘামের গন্ধ নিয়েই মেয়েকে বুকে টেনে নিতে একটুও কার্পণ্য থাকে না কর্মজীবী বাবা-মায়েদের। সেই ঘামের গন্ধে নিরাপত্তা আছে, আছে মেয়েটির জন্য ভালোবাসার ত্যাগ। সোনামণির জন্য সারাদিনই তাদের মন পড়ে থাকে ঘরে।

মেয়ের আনন্দের জন্য ঘটা করে জন্মদিনের উৎসবে কোনো কিছুর অভাব রাখেন না তারা। কত স্বপ্ন বাবা-মায়ের, আমার মেয়ে ডাক্তার হবে, আইনজীবী হবে, সাংবাদিক হবে, মন্ত্রী হবে…..।
পাখির পালকের মতো বুকে আগলে রেখে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলা সেই মেয়েকেই যখন একজন বাবা তার রাজ্যের সমস্ত আয়োজন দিয়ে রাজকন্যার মতো কোনো অপরিচিত ছেলের হাতে তুলে দেন, কেমন অনুভূতি হয় তখন সেই বাবার? প্রতিটা ছেলেই সেই মুহুর্তে বাবাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা দেন- ‘চিন্তা করবেন না, আপনার মেয়েকে আপনার মতো করেই আমি আগলে রাখবো। তার সুখ-দুঃখের সমস্তটাই আমি ভাগ করে নেব। কোনোদিন কোনো কষ্ট পেতে দেবো না।’

অথচ সেদিনের দেয়া সেই কথার মান রাখেন কয়জন ছেলে(স্বামী)? মেয়েরা বাবার শরীরের ঘামের নির্মল গন্ধের মায়া ছেড়ে এসে স্বামীর শরীরের ঘামে নিজের মুখ লুকোতে চায় সারাটা জীবন। কিন্তু বারবার পরিবারে সেই আদর-যত্নে মানুষ হওয়া মেয়েটাই যখন স্বামীর সংসারে এসে একের পর এক নির্যাতনের, অবহেলার, দুঃখ-কষ্টের শিকার হয়, তখন সেই খবরটি শুনে কেমন লাগে সেই বাবার বা মায়ের মনে? কেমন লাগে সেই মেয়ের মনে?

প্রতিটা ছেলে যদি বিয়ের দিনে মেয়ের বাড়ি থেকে বিদায় বেলায় মেয়ের বাবাকে দেয়া কথাগুলো সততার সাথে পালন করতো, তাহলে সমাজে নারী নির্যাতন বলতে কিছু থাকতো না। নিজের মায়ের-বোনের অসুখ হলে যে ছেলে পাগলের মতো হয়ে যায়, সেই ছেলেকেই দেখা যায় পরের মেয়ের(স্ত্রীর) সিরিয়াস অসুখ-বিসুখেও দায়িত্বশীল হয় না।

আর সেই স্ত্রী কর্মজীবী হলেতো কথাই নেই। যেনে অসুখও তার, খরচও তার, টেনশনও তারই। এভাবেই দিনকে দিন নিজের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাগুলো নারী তার বাবার বাড়িতেই বিদায়ের দিন মাটি দিয়ে আসে। যদি ছেলেগুলো মেয়ের বাবাকে দেয়া কথাগুলোর মান রাখতো, মেয়েগুলোর বদলাতে বিন্দু পরিমাণ সময় লাগতো না।

সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী

শেয়ার করুন:
  • 3.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.3K
    Shares

লেখাটি ১১,৭৫৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.